কোরবানির ঈদ সামনে রেখে হবিগঞ্জের খামারগুলোতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। বছরের পর বছর ধরে লালন-পালন করা গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ বিক্রির অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। প্রতিটি পশুর সঙ্গে জড়িয়ে আছে খামারিদের স্বপ্ন, বিনিয়োগ ও জীবিকার হিসাব। তবে পশুখাদ্যের বাড়তি দাম, বাজার সিন্ডিকেটের প্রভাব এবং সীমান্ত দিয়ে বিদেশি গরু প্রবেশের শঙ্কা খামারিদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তারপরও বিদেশি গরু না এলে এবার লাভের মুখ দেখার আশা করছেন তারা।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর হবিগঞ্জে কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৪৬ হাজার ৫০টি। এর বিপরীতে প্রস্তুত করা হয়েছে ৫০ হাজার ১৩৫টি পশু। ফলে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পরও উদ্বৃত্ত থাকবে ৪ হাজার ২৪৭টি পশু। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জেলার চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত পশু দেশের অন্যান্য এলাকাতেও সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
প্রস্তুত পশুর মধ্যে রয়েছে ৩৪ হাজার ৯৭২টি গরু, ১১ হাজার ১২৩টি ছাগল, ৪ হাজার ৫২৯টি ভেড়া এবং ৬৫৮টি মহিষ। জেলার বিভিন্ন খামারে এখন শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা।
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার তেঘড়িয়া ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের তুহিন এগ্রো ফার্মের মালিক মো. তুহিন মিয়া জানান, একটি বড় আকারের ষাঁড় লালন-পালনে বিপুল ব্যয় হয়। তিনি বলেন, “এক হাজার কেজি ওজনের একটি ষাঁড় প্রস্তুত করতে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বাজারে ভালো দাম পেলে লাভ হবে, না হলে লোকসানের ঝুঁকি আছে।”
আরেক খামারি জোবায়ের আহমেদ বলেন, পশুখাদ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। তারপরও ভালো দামের আশায় তারা পশু প্রস্তুত করেছেন। তিনি বলেন, “বিদেশি গরু বাজারে এলে স্থানীয় খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। সীমান্ত দিয়ে গরু প্রবেশ বন্ধ থাকলে আমরা ন্যায্য মূল্য পাব।”
খামারিদের অভিযোগ, কাঁচামাল ও পশুখাদ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় আগের তুলনায় অনেক বেশি। একই সঙ্গে বাজারে অসাধু সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকায় ন্যায্য মূল্য পাওয়া নিয়েও শঙ্কা রয়েছে।
হবিগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আলী বলেন, কোরবানির পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। হাটে যাতে অসুস্থ কিংবা ক্ষতিকর ওষুধ প্রয়োগ করা পশু বিক্রি না হয়, সে বিষয়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এ জন্য চারটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম জানান, জেলায় পশুর পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। একই সঙ্গে হবিগঞ্জের ১০৩ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় অবৈধভাবে বিদেশি গরু প্রবেশ ঠেকাতে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম বলেন, কোরবানির পশুর হাটগুলোতে পোশাকধারী ও সাদাপোশাকে টহল টিম মোতায়েন থাকবে। জাল টাকা প্রতিরোধ এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬
কোরবানির ঈদ সামনে রেখে হবিগঞ্জের খামারগুলোতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা। বছরের পর বছর ধরে লালন-পালন করা গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ বিক্রির অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। প্রতিটি পশুর সঙ্গে জড়িয়ে আছে খামারিদের স্বপ্ন, বিনিয়োগ ও জীবিকার হিসাব। তবে পশুখাদ্যের বাড়তি দাম, বাজার সিন্ডিকেটের প্রভাব এবং সীমান্ত দিয়ে বিদেশি গরু প্রবেশের শঙ্কা খামারিদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তারপরও বিদেশি গরু না এলে এবার লাভের মুখ দেখার আশা করছেন তারা।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ বছর হবিগঞ্জে কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৪৬ হাজার ৫০টি। এর বিপরীতে প্রস্তুত করা হয়েছে ৫০ হাজার ১৩৫টি পশু। ফলে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পরও উদ্বৃত্ত থাকবে ৪ হাজার ২৪৭টি পশু। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জেলার চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত পশু দেশের অন্যান্য এলাকাতেও সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
প্রস্তুত পশুর মধ্যে রয়েছে ৩৪ হাজার ৯৭২টি গরু, ১১ হাজার ১২৩টি ছাগল, ৪ হাজার ৫২৯টি ভেড়া এবং ৬৫৮টি মহিষ। জেলার বিভিন্ন খামারে এখন শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা।
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার তেঘড়িয়া ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের তুহিন এগ্রো ফার্মের মালিক মো. তুহিন মিয়া জানান, একটি বড় আকারের ষাঁড় লালন-পালনে বিপুল ব্যয় হয়। তিনি বলেন, “এক হাজার কেজি ওজনের একটি ষাঁড় প্রস্তুত করতে প্রায় দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বাজারে ভালো দাম পেলে লাভ হবে, না হলে লোকসানের ঝুঁকি আছে।”
আরেক খামারি জোবায়ের আহমেদ বলেন, পশুখাদ্যের মূল্য বৃদ্ধিতে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। তারপরও ভালো দামের আশায় তারা পশু প্রস্তুত করেছেন। তিনি বলেন, “বিদেশি গরু বাজারে এলে স্থানীয় খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। সীমান্ত দিয়ে গরু প্রবেশ বন্ধ থাকলে আমরা ন্যায্য মূল্য পাব।”
খামারিদের অভিযোগ, কাঁচামাল ও পশুখাদ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় আগের তুলনায় অনেক বেশি। একই সঙ্গে বাজারে অসাধু সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকায় ন্যায্য মূল্য পাওয়া নিয়েও শঙ্কা রয়েছে।
হবিগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আলী বলেন, কোরবানির পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। হাটে যাতে অসুস্থ কিংবা ক্ষতিকর ওষুধ প্রয়োগ করা পশু বিক্রি না হয়, সে বিষয়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এ জন্য চারটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম জানান, জেলায় পশুর পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। একই সঙ্গে হবিগঞ্জের ১০৩ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় অবৈধভাবে বিদেশি গরু প্রবেশ ঠেকাতে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম বলেন, কোরবানির পশুর হাটগুলোতে পোশাকধারী ও সাদাপোশাকে টহল টিম মোতায়েন থাকবে। জাল টাকা প্রতিরোধ এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে।

আপনার মতামত লিখুন