প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছেই না। গত এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহেও ফল প্রকাশ সম্ভব হচ্ছে না বলে জানা গেছে।
বিষয়টি নিয়ে তাই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছেন দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ ও সংশ্লিষ্টরা।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ফল প্রকাশে বিলম্ব হওয়ার নেপথ্যে বেশ কয়েকটি কারণ দেখাতে চেষ্টা করছেন। এর মধ্যে রয়েছে খাতা মূল্যায়নের সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়াসহ প্রশাসনিক ও কারিগরি নানা কাজে সমন্বয়হীনতার অভাব।
তারা জানান, খাতা মূল্যায়নসহ একাধিক প্রক্রিয়া এখনো শেষ না হওয়ায় ফল প্রকাশ আরও পিছিয়ে যেতে পারে। এমনকি আসন্ন ঈদুল আজহার আগেও ফল প্রকাশ হবে কি না, তা নিয়েও দেখা দিয়েছে সংশয়।
তবে সময় লাগলেও দ্রুত ফল প্রকাশের চেষ্টা চলছে বলে দাবি করছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
অধিদপ্তরটির প্রশাসন বিভাগের উপ-পরিচালক (সংস্থাপন) এ এস এম সিরাজুদ্দোহা গণমাধ্যমকে জানান, ফল প্রকাশের জন্য একটি সম্ভাব্য সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে নানা প্রশাসনিক ও কারিগরি কাজ বাকি থাকায় নির্ধারিত সময়ে ফল প্রকাশ সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি বলেন, খাতা মূল্যায়ন, ফল প্রস্তুত এবং তথ্য যাচাইয়ের মতো কাজগুলো সময়সাপেক্ষ। পরীক্ষার্থীর সংখ্যাও অনেক বেশি হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়াটি জটিল হয়ে উঠেছে। তবে কর্তৃপক্ষ দ্রুত ফল প্রকাশের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ঈদের ছুটির আগেই ফল প্রকাশ করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ বছর মোট ৮২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হবে। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬৬ হাজার বৃত্তি এবং বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ১৬ হাজার ৫০০ বৃত্তি।
অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর অনুপাতে সরকারি বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে প্রতি আটজন শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে প্রতি সাড়ে পাঁচজন শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন বৃত্তি পাওয়ার সুযোগ পাবে।
এবার দুই ধরনের বৃত্তি দেওয়া হবে। ট্যালেন্টপুল ক্যাটাগরিতে বৃত্তি পাবে ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী এবং সাধারণ বৃত্তি পাবে ৪৯ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী। বর্তমানে ট্যালেন্টপুল বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা মাসিক ৩০০ টাকা এবং বছরে এককালীন ২২৫ টাকা পেয়ে থাকে। অন্যদিকে সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তরা মাসে ২২৫ টাকা এবং বছরে এককালীন ২২৫ টাকা পায়।
পঞ্চম শ্রেণি পাসের পরবর্তী দুই বছর পর্যন্ত এই আর্থিক সুবিধা বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বৃত্তির অর্থ দ্বিগুণ থেকে চার গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। প্রস্তাবটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে আগামী বছরের পরীক্ষার্থীরা বাড়তি হারে বৃত্তির অর্থ পেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে ফল প্রকাশের আগেই নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ স্থগিত চেয়ে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো ওই নোটিশে নতুন নীতিমালার কিছু বিধান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
নোটিশে দাবি করা হয়, সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক কোটা নির্ধারণ এবং আলাদা প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা জাতীয় মেধাভিত্তিক মূল্যায়নের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এতে বৈষম্য তৈরি হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিষয় : প্রাথমিক বৃত্তি

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬
প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছেই না। গত এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহেও ফল প্রকাশ সম্ভব হচ্ছে না বলে জানা গেছে।
বিষয়টি নিয়ে তাই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছেন দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ ও সংশ্লিষ্টরা।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ফল প্রকাশে বিলম্ব হওয়ার নেপথ্যে বেশ কয়েকটি কারণ দেখাতে চেষ্টা করছেন। এর মধ্যে রয়েছে খাতা মূল্যায়নের সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়াসহ প্রশাসনিক ও কারিগরি নানা কাজে সমন্বয়হীনতার অভাব।
তারা জানান, খাতা মূল্যায়নসহ একাধিক প্রক্রিয়া এখনো শেষ না হওয়ায় ফল প্রকাশ আরও পিছিয়ে যেতে পারে। এমনকি আসন্ন ঈদুল আজহার আগেও ফল প্রকাশ হবে কি না, তা নিয়েও দেখা দিয়েছে সংশয়।
তবে সময় লাগলেও দ্রুত ফল প্রকাশের চেষ্টা চলছে বলে দাবি করছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
অধিদপ্তরটির প্রশাসন বিভাগের উপ-পরিচালক (সংস্থাপন) এ এস এম সিরাজুদ্দোহা গণমাধ্যমকে জানান, ফল প্রকাশের জন্য একটি সম্ভাব্য সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে নানা প্রশাসনিক ও কারিগরি কাজ বাকি থাকায় নির্ধারিত সময়ে ফল প্রকাশ সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি বলেন, খাতা মূল্যায়ন, ফল প্রস্তুত এবং তথ্য যাচাইয়ের মতো কাজগুলো সময়সাপেক্ষ। পরীক্ষার্থীর সংখ্যাও অনেক বেশি হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়াটি জটিল হয়ে উঠেছে। তবে কর্তৃপক্ষ দ্রুত ফল প্রকাশের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ঈদের ছুটির আগেই ফল প্রকাশ করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ বছর মোট ৮২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়া হবে। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬৬ হাজার বৃত্তি এবং বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ১৬ হাজার ৫০০ বৃত্তি।
অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর অনুপাতে সরকারি বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে প্রতি আটজন শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে প্রতি সাড়ে পাঁচজন শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন বৃত্তি পাওয়ার সুযোগ পাবে।
এবার দুই ধরনের বৃত্তি দেওয়া হবে। ট্যালেন্টপুল ক্যাটাগরিতে বৃত্তি পাবে ৩৩ হাজার শিক্ষার্থী এবং সাধারণ বৃত্তি পাবে ৪৯ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী। বর্তমানে ট্যালেন্টপুল বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা মাসিক ৩০০ টাকা এবং বছরে এককালীন ২২৫ টাকা পেয়ে থাকে। অন্যদিকে সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তরা মাসে ২২৫ টাকা এবং বছরে এককালীন ২২৫ টাকা পায়।
পঞ্চম শ্রেণি পাসের পরবর্তী দুই বছর পর্যন্ত এই আর্থিক সুবিধা বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বৃত্তির অর্থ দ্বিগুণ থেকে চার গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। প্রস্তাবটি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে আগামী বছরের পরীক্ষার্থীরা বাড়তি হারে বৃত্তির অর্থ পেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে ফল প্রকাশের আগেই নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ স্থগিত চেয়ে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো ওই নোটিশে নতুন নীতিমালার কিছু বিধান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
নোটিশে দাবি করা হয়, সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক কোটা নির্ধারণ এবং আলাদা প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা জাতীয় মেধাভিত্তিক মূল্যায়নের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এতে বৈষম্য তৈরি হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন