ঢাকা    শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

রোয়াংছড়িতে ভাঙা সড়ক আতঙ্কে জনজীবন, বিচ্ছিন্নতার শঙ্কা দুই ইউনিয়নে- দ্রুত সংস্কারের দাবি



রোয়াংছড়িতে ভাঙা সড়ক আতঙ্কে জনজীবন, বিচ্ছিন্নতার শঙ্কা দুই ইউনিয়নে- দ্রুত সংস্কারের দাবি
রোয়াংছড়ি উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধমনী হিসেবে পরিচিত কচ্ছপতলী ও ৪নং নোয়াপতং ইউনিয়নের সংযোগ সড়কটি বর্তমানে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। অতিসম্প্রতি প্রলয়ঙ্করী পাহাড়ি ঢলে ৩নং আলেক্ষ্যং ইউনিয়নের হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সম্মুখস্থ সড়কের একটি বড় অংশ ধসে যাওয়ায় বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছে দুই ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াত।

 রোয়াংছড়ি উপজেলার কচ্ছপতলী ও ৪নং নোয়াপতং ইউনিয়নের সংযোগ সড়কটি এখন স্থানীয়দের কাছে এক ভয়াবহ আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও সম্প্রতি অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢলে ৩নং আলেক্ষ্যং ইউনিয়নের হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে সড়কের বড় একটি অংশ ধসে গিয়ে পার্শ্ববর্তী খাদে বিলীন হয়ে যায়। এতে দুই ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত কার্যত বিঘ্নিত হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের সামনের মূল সড়কটি ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এখন অত্যন্ত সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। সড়কের অবশিষ্ট অংশ এতটাই বিপজ্জনক যে সেখানে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের হাঁটাচলাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যেকোনো মুহূর্তে আরও বড় ধসের আশঙ্কা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

এই সড়কটি ব্যবহার করে নিয়মিত যাতায়াত করেন থলিপাড়া, খংক্ষ্যং পাড়া, মহিলা কারবারি পাড়া ও থুইসা পাড়াসহ আশপাশের শত শত মানুষ। সড়কটি আংশিক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় এখন পণ্য পরিবহন, যাত্রী চলাচল এবং জরুরি চিকিৎসা সেবা গ্রহণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই রোগী পরিবহন বা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আনা-নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বিশেষ করে হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। অভিভাবকরা সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে অনেক ক্ষেত্রে স্কুলে পাঠাতে দ্বিধাবোধ করছেন। ফলে শিক্ষা কার্যক্রমেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

আসন্ন বর্ষা মৌসুম ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে। তাদের আশঙ্কা, ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হলে পাহাড়ের মাটি আরও ক্ষয়ে গিয়ে অবশিষ্ট সড়কটুকুও সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়তে পারে, যার ফলে পুরো দুই ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে ভারী যানবাহন চলাচল অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই সড়কটি তাদের জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই পথ ব্যবহার করেই জীবিকা নির্বাহ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং জরুরি প্রয়োজন মেটান। অথচ দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।

এ পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি স্থায়ী ও টেকসইভাবে পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আসন্ন বর্ষায় এই অঞ্চল ভয়াবহ মানবিক ও যোগাযোগ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬


রোয়াংছড়িতে ভাঙা সড়ক আতঙ্কে জনজীবন, বিচ্ছিন্নতার শঙ্কা দুই ইউনিয়নে- দ্রুত সংস্কারের দাবি

প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬

featured Image

 রোয়াংছড়ি উপজেলার কচ্ছপতলী ও ৪নং নোয়াপতং ইউনিয়নের সংযোগ সড়কটি এখন স্থানীয়দের কাছে এক ভয়াবহ আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও সম্প্রতি অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঢলে ৩নং আলেক্ষ্যং ইউনিয়নের হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে সড়কের বড় একটি অংশ ধসে গিয়ে পার্শ্ববর্তী খাদে বিলীন হয়ে যায়। এতে দুই ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত কার্যত বিঘ্নিত হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের সামনের মূল সড়কটি ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এখন অত্যন্ত সংকীর্ণ হয়ে পড়েছে। সড়কের অবশিষ্ট অংশ এতটাই বিপজ্জনক যে সেখানে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের হাঁটাচলাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যেকোনো মুহূর্তে আরও বড় ধসের আশঙ্কা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

এই সড়কটি ব্যবহার করে নিয়মিত যাতায়াত করেন থলিপাড়া, খংক্ষ্যং পাড়া, মহিলা কারবারি পাড়া ও থুইসা পাড়াসহ আশপাশের শত শত মানুষ। সড়কটি আংশিক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় এখন পণ্য পরিবহন, যাত্রী চলাচল এবং জরুরি চিকিৎসা সেবা গ্রহণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই রোগী পরিবহন বা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আনা-নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বিশেষ করে হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। অভিভাবকরা সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে অনেক ক্ষেত্রে স্কুলে পাঠাতে দ্বিধাবোধ করছেন। ফলে শিক্ষা কার্যক্রমেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

আসন্ন বর্ষা মৌসুম ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে। তাদের আশঙ্কা, ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হলে পাহাড়ের মাটি আরও ক্ষয়ে গিয়ে অবশিষ্ট সড়কটুকুও সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়তে পারে, যার ফলে পুরো দুই ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে ভারী যানবাহন চলাচল অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই সড়কটি তাদের জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। প্রতিদিন শত শত মানুষ এই পথ ব্যবহার করেই জীবিকা নির্বাহ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং জরুরি প্রয়োজন মেটান। অথচ দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।

এ পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি স্থায়ী ও টেকসইভাবে পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আসন্ন বর্ষায় এই অঞ্চল ভয়াবহ মানবিক ও যোগাযোগ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ