পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রাদেশিক অ্যাসেম্বলিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে ‘পাঞ্জাব বাল্যবিবাহ নিরোধ বিল ২০২৬’ পাস হয়েছে। নতুন এই আইনের মাধ্যমে ১৮ বছরের নিচে বিয়ে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং এটি এখন থেকে একটি আমলযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে কোনো ব্যক্তির বিয়ে সম্পন্ন করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনটির লক্ষ্য শিশু ও কিশোরীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
আইনে বলা হয়েছে, কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি (১৮ বছরের বেশি) যদি কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির (১৮ বছরের নিচে) সঙ্গে বিয়েতে আবদ্ধ হন, তবে তাকে ন্যূনতম দুই বছর থেকে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হবে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ রুপি পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
শুধু বর-কনে নয়, বাল্যবিবাহে সহায়তাকারী বা উৎসাহদাতা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। নতুন আইনের একটি ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো অভিভাবক বা ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে বা অবহেলার কারণে বাল্যবিবাহে সহায়তা করেন, উৎসাহ দেন বা তা প্রতিরোধে ব্যর্থ হন, তবে তিন বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং আর্থিক জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে।
এ ছাড়া আইন অনুযায়ী শিশু নির্যাতন বা জোরপূর্বক বাল্যবিবাহ সম্পন্ন করার ক্ষেত্রেও একই ধরনের কঠোর শাস্তি প্রযোজ্য হবে। আইনটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দুই বছরের কম নয় এমন কারাদণ্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
পাঞ্জাব শিশু সুরক্ষা ব্যুরোর চেয়ারপার্সন সারা আহমেদ নতুন এই আইনকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন উদ্যোগ। তার মতে, এই আইন নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
তিনি আরও বলেন, বাল্যবিবাহ শুধু ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, এটি একটি সামাজিক ব্যাধি। নতুন আইনটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই সমস্যার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মানবাধিকার ও শিশু অধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই বাল্যবিবাহ বন্ধে কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়ে আসছিল। নতুন এই আইনকে তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন, যা বিশেষ করে মেয়ে শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে পাঞ্জাবে বাল্যবিবাহের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসতে পারে। তবে এর জন্য প্রশাসনিক নজরদারি এবং সামাজিক সচেতনতা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রাদেশিক অ্যাসেম্বলিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে ‘পাঞ্জাব বাল্যবিবাহ নিরোধ বিল ২০২৬’ পাস হয়েছে। নতুন এই আইনের মাধ্যমে ১৮ বছরের নিচে বিয়ে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং এটি এখন থেকে একটি আমলযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে কোনো ব্যক্তির বিয়ে সম্পন্ন করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনটির লক্ষ্য শিশু ও কিশোরীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
আইনে বলা হয়েছে, কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি (১৮ বছরের বেশি) যদি কোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির (১৮ বছরের নিচে) সঙ্গে বিয়েতে আবদ্ধ হন, তবে তাকে ন্যূনতম দুই বছর থেকে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হবে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ রুপি পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
শুধু বর-কনে নয়, বাল্যবিবাহে সহায়তাকারী বা উৎসাহদাতা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। নতুন আইনের একটি ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো অভিভাবক বা ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে বা অবহেলার কারণে বাল্যবিবাহে সহায়তা করেন, উৎসাহ দেন বা তা প্রতিরোধে ব্যর্থ হন, তবে তিন বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং আর্থিক জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে।
এ ছাড়া আইন অনুযায়ী শিশু নির্যাতন বা জোরপূর্বক বাল্যবিবাহ সম্পন্ন করার ক্ষেত্রেও একই ধরনের কঠোর শাস্তি প্রযোজ্য হবে। আইনটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দুই বছরের কম নয় এমন কারাদণ্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
পাঞ্জাব শিশু সুরক্ষা ব্যুরোর চেয়ারপার্সন সারা আহমেদ নতুন এই আইনকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন উদ্যোগ। তার মতে, এই আইন নারী ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
তিনি আরও বলেন, বাল্যবিবাহ শুধু ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, এটি একটি সামাজিক ব্যাধি। নতুন আইনটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই সমস্যার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মানবাধিকার ও শিশু অধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরেই বাল্যবিবাহ বন্ধে কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়ে আসছিল। নতুন এই আইনকে তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন, যা বিশেষ করে মেয়ে শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে পাঞ্জাবে বাল্যবিবাহের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসতে পারে। তবে এর জন্য প্রশাসনিক নজরদারি এবং সামাজিক সচেতনতা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

আপনার মতামত লিখুন