ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে বেলারুশ রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে বেলারুশ রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত বেলারুশের রাষ্ট্রদূত মিখাইল কাসকো। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের কৃষি খাতের বর্তমান অগ্রগতি, আধুনিকায়নের পরিকল্পনা এবং উৎপাদন বৃদ্ধির কৌশল তুলে ধরেন কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর অর্থনীতির দেশ এবং দেশের বড় একটি জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রযুক্তি সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের সক্ষমতা উন্নয়নে কাজ করছে।

মন্ত্রী জানান, কৃষি খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে উন্নতমানের বীজ, সারের সহজলভ্যতা, কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার এবং স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থাপনা সম্প্রসারণে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ডেইরি, পোলট্রি ও প্রাণিসম্পদ খাতেও উৎপাদন বাড়াতে নীতিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। এজন্য বিদেশি প্রযুক্তি, গবেষণা সহায়তা এবং যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ বাংলাদেশ বিবেচনা করছে। বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে এ বিষয়ে অংশীদারত্ব জোরদার করা হবে।

জবাবে রাষ্ট্রদূত মিখাইল কাসকো বলেন, কৃষি ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে বেলারুশের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। দেশটি কৃষিযান্ত্রিকীকরণ, আধুনিক কৃষি সরঞ্জাম উৎপাদন, ডেইরি ব্যবস্থাপনা এবং পশুসম্পদ উন্নয়নে আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত। বাংলাদেশ আগ্রহ দেখালে এসব খাতে সহযোগিতা বাড়াতে বেলারুশ প্রস্তুত।

তিনি বলেন, কৃষি যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমানো এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানো সম্ভব। বাংলাদেশের কৃষকদের জন্য ট্রাক্টর, হারভেস্টার, সেচ সরঞ্জাম এবং অন্যান্য কৃষিযন্ত্র সরবরাহে যৌথ উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

বৈঠকে সারের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। রাষ্ট্রদূত জানান, বেলারুশ বিশ্বের অন্যতম বড় পটাশ সার উৎপাদনকারী দেশ। বাংলাদেশে সার সরবরাহ এবং কৃষি ইনপুট সহায়তায় দেশটি আগ্রহী। এতে বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক বাজারে সার ও কৃষি উপকরণের মূল্য ওঠানামার মধ্যে বাংলাদেশ বিকল্প উৎস থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করতে চাইছে। এ প্রেক্ষাপটে বেলারুশের সঙ্গে সহযোগিতা কৃষি খাতের জন্য ইতিবাচক হতে পারে।

এদিকে বাংলাদেশ বর্তমানে কৃষির বহুমুখীকরণ, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তি ব্যবহারে গুরুত্ব দিচ্ছে। বেলারুশের মতো প্রযুক্তিনির্ভর দেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব এসব লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে যোগাযোগ অব্যাহত রাখা এবং সম্ভাব্য সহযোগিতা প্রকল্প নিয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে। দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও কারিগরি সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে।

বিষয় : কৃষিমন্ত্রী

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে বেলারুশ রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিন উর রশিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত বেলারুশের রাষ্ট্রদূত মিখাইল কাসকো। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের কৃষি খাতের বর্তমান অগ্রগতি, আধুনিকায়নের পরিকল্পনা এবং উৎপাদন বৃদ্ধির কৌশল তুলে ধরেন কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ কৃষিনির্ভর অর্থনীতির দেশ এবং দেশের বড় একটি জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রযুক্তি সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের সক্ষমতা উন্নয়নে কাজ করছে।

মন্ত্রী জানান, কৃষি খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে উন্নতমানের বীজ, সারের সহজলভ্যতা, কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার এবং স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থাপনা সম্প্রসারণে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ডেইরি, পোলট্রি ও প্রাণিসম্পদ খাতেও উৎপাদন বাড়াতে নীতিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। এজন্য বিদেশি প্রযুক্তি, গবেষণা সহায়তা এবং যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ বাংলাদেশ বিবেচনা করছে। বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে এ বিষয়ে অংশীদারত্ব জোরদার করা হবে।

জবাবে রাষ্ট্রদূত মিখাইল কাসকো বলেন, কৃষি ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে বেলারুশের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। দেশটি কৃষিযান্ত্রিকীকরণ, আধুনিক কৃষি সরঞ্জাম উৎপাদন, ডেইরি ব্যবস্থাপনা এবং পশুসম্পদ উন্নয়নে আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত। বাংলাদেশ আগ্রহ দেখালে এসব খাতে সহযোগিতা বাড়াতে বেলারুশ প্রস্তুত।

তিনি বলেন, কৃষি যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমানো এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানো সম্ভব। বাংলাদেশের কৃষকদের জন্য ট্রাক্টর, হারভেস্টার, সেচ সরঞ্জাম এবং অন্যান্য কৃষিযন্ত্র সরবরাহে যৌথ উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

বৈঠকে সারের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। রাষ্ট্রদূত জানান, বেলারুশ বিশ্বের অন্যতম বড় পটাশ সার উৎপাদনকারী দেশ। বাংলাদেশে সার সরবরাহ এবং কৃষি ইনপুট সহায়তায় দেশটি আগ্রহী। এতে বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক বাজারে সার ও কৃষি উপকরণের মূল্য ওঠানামার মধ্যে বাংলাদেশ বিকল্প উৎস থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করতে চাইছে। এ প্রেক্ষাপটে বেলারুশের সঙ্গে সহযোগিতা কৃষি খাতের জন্য ইতিবাচক হতে পারে।

এদিকে বাংলাদেশ বর্তমানে কৃষির বহুমুখীকরণ, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তি ব্যবহারে গুরুত্ব দিচ্ছে। বেলারুশের মতো প্রযুক্তিনির্ভর দেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব এসব লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে যোগাযোগ অব্যাহত রাখা এবং সম্ভাব্য সহযোগিতা প্রকল্প নিয়ে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে। দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও কারিগরি সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ