জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিতা বাড়াতে চালু হওয়া ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপের পাইলট কার্যক্রম দেশের আরও জেলায় সম্প্রসারণ করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকা জেলার বাইরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জেলা ও মেট্রো এলাকায় নিবন্ধিত মোটরসাইকেল এখন এই ডিজিটাল জ্বালানি ব্যবস্থার আওতায় আসছে। একই সঙ্গে রাজধানীর নির্দিষ্ট পেট্রোল পাম্পগুলোতেও এর ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে।
সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে চালু হওয়া এই সিস্টেমের মাধ্যমে মোটরসাইকেলচালকদের জ্বালানি গ্রহণ প্রক্রিয়া ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এতে করে জ্বালানি বিতরণে অনিয়ম, অতিরিক্ত ব্যবহার ও অবৈধ বাজারজাতকরণের সুযোগ কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। একই সঙ্গে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরি হবে, যেখানে যানবাহনের জ্বালানি ব্যবহারের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে।
সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকা ও ঢাকা মেট্রোর পাশাপাশি চাঁদপুর, চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম মেট্রো, বরিশাল ও বরিশাল মেট্রো, খুলনা ও খুলনা মেট্রো, রাজশাহী ও রাজশাহী মেট্রো এবং ময়মনসিংহ জেলার মোটরসাইকেলগুলো ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপে নিবন্ধনের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এসব এলাকায় মোটরসাইকেল মালিকরা অ্যাপের মাধ্যমে তাদের যানবাহন নিবন্ধন করে নির্ধারিত পাম্প থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবেন।
এর আগে রাজধানীতে সীমিত পরিসরে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়। এবার সেই কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলো। একই সঙ্গে ঢাকা জেলায় আরও ১৮টি পেট্রোল পাম্পকে এই সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে রাজধানীতে অ্যাপভিত্তিক জ্বালানি গ্রহণের পরিসর আরও বাড়ল।
নতুন এই ব্যবস্থায় মোটরসাইকেলচালকদের নির্ধারিত কিউআর কোড বা ডিজিটাল আইডি ব্যবহার করে জ্বালানি নিতে হবে। পাম্পে স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে জ্বালানি সরবরাহ করা হবে। এতে প্রতিটি লেনদেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ড হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা পর্যালোচনা করা সম্ভব হবে।
জ্বালানি খাতে ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় যে অনিয়ম ও অপচয়ের অভিযোগ রয়েছে, তা কমিয়ে আনতে এই ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল খাতে যেখানে জ্বালানি চাহিদা বেশি এবং নিয়ন্ত্রণ তুলনামূলকভাবে কঠিন, সেখানে ‘ফুয়েল পাস’ একটি নিয়ন্ত্রিত কাঠামো তৈরি করতে পারে।
সরকারি পর্যায়ে বলা হয়েছে, পাইলট কার্যক্রমের ফলাফল বিশ্লেষণ করে ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য জেলাতেও এই সিস্টেম চালু করা হবে। স্থানীয় প্রশাসন, পেট্রোল পাম্প মালিক এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সহযোগিতার মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যবহারকারীদের অ্যাপ ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রচারণা চালানো হবে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, সফলভাবে বাস্তবায়ন হলে এটি দেশের জ্বালানি খাতে একটি বড় ডিজিটাল রূপান্তরের সূচনা হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক হবে।
বিষয় : ফুয়েল পাস

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬
জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিতা বাড়াতে চালু হওয়া ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপের পাইলট কার্যক্রম দেশের আরও জেলায় সম্প্রসারণ করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকা জেলার বাইরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জেলা ও মেট্রো এলাকায় নিবন্ধিত মোটরসাইকেল এখন এই ডিজিটাল জ্বালানি ব্যবস্থার আওতায় আসছে। একই সঙ্গে রাজধানীর নির্দিষ্ট পেট্রোল পাম্পগুলোতেও এর ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে।
সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে চালু হওয়া এই সিস্টেমের মাধ্যমে মোটরসাইকেলচালকদের জ্বালানি গ্রহণ প্রক্রিয়া ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এতে করে জ্বালানি বিতরণে অনিয়ম, অতিরিক্ত ব্যবহার ও অবৈধ বাজারজাতকরণের সুযোগ কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। একই সঙ্গে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরি হবে, যেখানে যানবাহনের জ্বালানি ব্যবহারের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে।
সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকা ও ঢাকা মেট্রোর পাশাপাশি চাঁদপুর, চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম মেট্রো, বরিশাল ও বরিশাল মেট্রো, খুলনা ও খুলনা মেট্রো, রাজশাহী ও রাজশাহী মেট্রো এবং ময়মনসিংহ জেলার মোটরসাইকেলগুলো ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপে নিবন্ধনের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এসব এলাকায় মোটরসাইকেল মালিকরা অ্যাপের মাধ্যমে তাদের যানবাহন নিবন্ধন করে নির্ধারিত পাম্প থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবেন।
এর আগে রাজধানীতে সীমিত পরিসরে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়। এবার সেই কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলো। একই সঙ্গে ঢাকা জেলায় আরও ১৮টি পেট্রোল পাম্পকে এই সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে রাজধানীতে অ্যাপভিত্তিক জ্বালানি গ্রহণের পরিসর আরও বাড়ল।
নতুন এই ব্যবস্থায় মোটরসাইকেলচালকদের নির্ধারিত কিউআর কোড বা ডিজিটাল আইডি ব্যবহার করে জ্বালানি নিতে হবে। পাম্পে স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে জ্বালানি সরবরাহ করা হবে। এতে প্রতিটি লেনদেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেকর্ড হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা পর্যালোচনা করা সম্ভব হবে।
জ্বালানি খাতে ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় যে অনিয়ম ও অপচয়ের অভিযোগ রয়েছে, তা কমিয়ে আনতে এই ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল খাতে যেখানে জ্বালানি চাহিদা বেশি এবং নিয়ন্ত্রণ তুলনামূলকভাবে কঠিন, সেখানে ‘ফুয়েল পাস’ একটি নিয়ন্ত্রিত কাঠামো তৈরি করতে পারে।
সরকারি পর্যায়ে বলা হয়েছে, পাইলট কার্যক্রমের ফলাফল বিশ্লেষণ করে ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য জেলাতেও এই সিস্টেম চালু করা হবে। স্থানীয় প্রশাসন, পেট্রোল পাম্প মালিক এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সহযোগিতার মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যবহারকারীদের অ্যাপ ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রচারণা চালানো হবে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, সফলভাবে বাস্তবায়ন হলে এটি দেশের জ্বালানি খাতে একটি বড় ডিজিটাল রূপান্তরের সূচনা হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক হবে।

আপনার মতামত লিখুন