দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ঘোষিত নতুন সমন্বয় অনুযায়ী শনিবার (১৮ এপ্রিল) থেকে সারা দেশে স্বর্ণ ও রুপার নতুন দর কার্যকর হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দামের ঊর্ধ্বগতিকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে বাজুস।
নতুন দামে সবচেয়ে মানসম্মত বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা। এই বৃদ্ধির ফলে দেশের ইতিহাসে উচ্চ মূল্যের কাছাকাছি অবস্থান করছে স্বর্ণের বাজার।
২১ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরি এখন ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮২০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪ হাজার ৭০৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭৩৭ টাকায়।
রুপার বাজারেও একইভাবে মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা এখন বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৬৫ টাকায়। ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৭৩২ টাকায়।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ ও রুপার দাম বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে নতুন দর সমন্বয় করা হয়েছে। এর ফলে দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম পুনরায় ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় ফিরে এসেছে।
এর আগে গত ৯ এপ্রিল স্বর্ণের দাম ভরিতে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমানো হয়েছিল। সে সময় ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা। অর্থাৎ অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও দাম বাড়ায় বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ৫৫ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩২ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ২৩ বার কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালেও মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে বেশিরভাগ সময়ই দাম বৃদ্ধির প্রবণতা ছিল।
রুপার ক্ষেত্রেও একই ধরনের ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৩৪ দফা সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দামে, যার মধ্যে ১৯ বার দাম বৃদ্ধি এবং ১৫ বার হ্রাস করা হয়েছে। ২০২৫ সালে রুপার দাম মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধি, ডলারের দাম এবং ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দেশের বাজারেও সরাসরি প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন, যা দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
দেশীয় বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ার কারণে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে বিয়ে, উৎসব ও সামাজিক অনুষ্ঠানের মৌসুমে স্বর্ণের ব্যবহার বেশি হওয়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর এর প্রভাব পড়ছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বারবার মূল্য সমন্বয়ের কারণে বাজারে স্থিতিশীলতা তৈরি হচ্ছে না। দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল নীতিমালা না থাকলে স্বর্ণ ও রুপার বাজার আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬
দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ঘোষিত নতুন সমন্বয় অনুযায়ী শনিবার (১৮ এপ্রিল) থেকে সারা দেশে স্বর্ণ ও রুপার নতুন দর কার্যকর হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দামের ঊর্ধ্বগতিকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে বাজুস।
নতুন দামে সবচেয়ে মানসম্মত বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা। এই বৃদ্ধির ফলে দেশের ইতিহাসে উচ্চ মূল্যের কাছাকাছি অবস্থান করছে স্বর্ণের বাজার।
২১ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরি এখন ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮২০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪ হাজার ৭০৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭৩৭ টাকায়।
রুপার বাজারেও একইভাবে মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা এখন বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৬৫ টাকায়। ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৫ হাজার ৭৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৭৩২ টাকায়।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণ ও রুপার দাম বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে নতুন দর সমন্বয় করা হয়েছে। এর ফলে দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম পুনরায় ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় ফিরে এসেছে।
এর আগে গত ৯ এপ্রিল স্বর্ণের দাম ভরিতে ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমানো হয়েছিল। সে সময় ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা। অর্থাৎ অল্প কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও দাম বাড়ায় বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ৫৫ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩২ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ২৩ বার কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালেও মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যার মধ্যে বেশিরভাগ সময়ই দাম বৃদ্ধির প্রবণতা ছিল।
রুপার ক্ষেত্রেও একই ধরনের ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৩৪ দফা সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দামে, যার মধ্যে ১৯ বার দাম বৃদ্ধি এবং ১৫ বার হ্রাস করা হয়েছে। ২০২৫ সালে রুপার দাম মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদা বৃদ্ধি, ডলারের দাম এবং ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দেশের বাজারেও সরাসরি প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন, যা দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
দেশীয় বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ার কারণে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে বিয়ে, উৎসব ও সামাজিক অনুষ্ঠানের মৌসুমে স্বর্ণের ব্যবহার বেশি হওয়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর এর প্রভাব পড়ছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বারবার মূল্য সমন্বয়ের কারণে বাজারে স্থিতিশীলতা তৈরি হচ্ছে না। দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল নীতিমালা না থাকলে স্বর্ণ ও রুপার বাজার আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন