ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় বিদেশে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে সংঘবদ্ধ মানবপাচার চক্রের প্রতারণার শিকার হয়েছে একটি পরিবার। ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবককে লিবিয়ায় পাচার করে সেখানে আটকে রেখে নির্যাতন ও বিপুল অঙ্কের মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ভাঙ্গা পৌরসভার নওপাড়া এলাকার মনিরুজ্জামান মিয়াং (৫১) তার ছেলে মিনহাজ মিয়া (২১)-কে ইতালি পাঠানোর উদ্দেশ্যে স্থানীয় দালাল মনির সরদারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। গত বছরের ১০ অক্টোবর চক্রটি বিভিন্ন ধাপে তাদের কাছ থেকে প্রায় ২৬ লাখ টাকা আদায় করে।
পরবর্তীতে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে ইতালির পরিবর্তে মিনহাজকে প্রথমে দুবাই এবং সেখান থেকে লিবিয়ায় পাচার করা হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে একটি অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলে পরিবারের দাবি। একই সঙ্গে তার মুক্তির জন্য আরও ৬০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
ছেলেকে ফিরে পেতে মরিয়া পরিবারটি জমিজমা বিক্রি করে প্রথমে প্রায় ৪২ লাখ টাকা এবং পরে আরও ১৮ লাখ টাকা দালাল চক্রের কাছে পরিশোধ করে। এত বিপুল অর্থ দেওয়ার পরও মিনহাজ এখনো দেশে ফিরতে পারেননি; বরং তার অবস্থান নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পরিবারের দাবি, বর্তমানে তিনি নিখোঁজ।
পরিবারের অভিযোগ, চক্রটি এখনো বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করছে এবং নতুন করে আরও টাকা দাবি করছে। এতে তারা চরম অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
এ ঘটনায় নুরইল্লাগঞ্জ ইউনিয়নর গঙ্গাধরদী গ্রামের রাজেক সরদার, তার ছেলে মনির সরদার, পপি আক্তার, জসিম সরদার ও রেজাউল কাজীর নাম উঠে এসেছে। এরই মধ্যে জসিম নামের এক ব্যক্তিকে ভাঙ্গা থানা পুলিশ আটক করেছে বলে জানা গেছে।
ভাঙ্গা থানায় এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী দালাল চক্র বিদেশে পাঠানোর নামে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে। মনির সরদার একসময় সাধারণ জীবনযাপন করলেও বর্তমানে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ায় তার বিরুদ্ধে সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আরও পরিবার এ ধরনের ভয়াবহ প্রতারণার শিকার হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় বিদেশে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে সংঘবদ্ধ মানবপাচার চক্রের প্রতারণার শিকার হয়েছে একটি পরিবার। ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবককে লিবিয়ায় পাচার করে সেখানে আটকে রেখে নির্যাতন ও বিপুল অঙ্কের মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ভাঙ্গা পৌরসভার নওপাড়া এলাকার মনিরুজ্জামান মিয়াং (৫১) তার ছেলে মিনহাজ মিয়া (২১)-কে ইতালি পাঠানোর উদ্দেশ্যে স্থানীয় দালাল মনির সরদারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। গত বছরের ১০ অক্টোবর চক্রটি বিভিন্ন ধাপে তাদের কাছ থেকে প্রায় ২৬ লাখ টাকা আদায় করে।
পরবর্তীতে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে ইতালির পরিবর্তে মিনহাজকে প্রথমে দুবাই এবং সেখান থেকে লিবিয়ায় পাচার করা হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তাকে একটি অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে বলে পরিবারের দাবি। একই সঙ্গে তার মুক্তির জন্য আরও ৬০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
ছেলেকে ফিরে পেতে মরিয়া পরিবারটি জমিজমা বিক্রি করে প্রথমে প্রায় ৪২ লাখ টাকা এবং পরে আরও ১৮ লাখ টাকা দালাল চক্রের কাছে পরিশোধ করে। এত বিপুল অর্থ দেওয়ার পরও মিনহাজ এখনো দেশে ফিরতে পারেননি; বরং তার অবস্থান নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পরিবারের দাবি, বর্তমানে তিনি নিখোঁজ।
পরিবারের অভিযোগ, চক্রটি এখনো বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করছে এবং নতুন করে আরও টাকা দাবি করছে। এতে তারা চরম অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
এ ঘটনায় নুরইল্লাগঞ্জ ইউনিয়নর গঙ্গাধরদী গ্রামের রাজেক সরদার, তার ছেলে মনির সরদার, পপি আক্তার, জসিম সরদার ও রেজাউল কাজীর নাম উঠে এসেছে। এরই মধ্যে জসিম নামের এক ব্যক্তিকে ভাঙ্গা থানা পুলিশ আটক করেছে বলে জানা গেছে।
ভাঙ্গা থানায় এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী দালাল চক্র বিদেশে পাঠানোর নামে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে। মনির সরদার একসময় সাধারণ জীবনযাপন করলেও বর্তমানে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ায় তার বিরুদ্ধে সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আরও পরিবার এ ধরনের ভয়াবহ প্রতারণার শিকার হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

আপনার মতামত লিখুন