যুক্তরাষ্ট্র এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নতুন ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যারা দেশটির মতে পশ্চিম গোলার্ধে তাদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করতে প্রতিপক্ষ শক্তিগুলোকে সহায়তা করছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এই নীতির আওতায় ইতোমধ্যে ২৬ জনের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন ভিসা নীতির লক্ষ্য এমন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী, যারা সচেতনভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ শক্তিকে সহায়তা করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা দুর্বল করছে, কৌশলগত সম্পদের নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখছে অথবা অর্থনৈতিক স্বার্থ ক্ষুণ্ন করছে। একই সঙ্গে যেসব কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের পথে বাধা সৃষ্টি করছে, সেগুলোকেও এই নীতির আওতায় আনা হয়েছে।
এই পদক্ষেপ এমন সময় নেওয়া হলো যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশল ১৯শ শতকের ‘মনরো ডকট্রিন’-এর আধুনিক সংস্করণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যাকে অনেকে ‘ডনরো ডকট্রিন’ হিসেবে উল্লেখ করছেন।
ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর থেকেই লাতিন আমেরিকা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে মাদক পাচার ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। একই সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব মোকাবিলায় ওয়াশিংটন বিভিন্ন কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের অভিমত।
বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে কোনো দেশ বা সংগঠনের নাম উল্লেখ না করলেও ধারণা করা হচ্ছে, এই নীতির প্রধান লক্ষ্য চীনপন্থী প্রভাব, মাদক পাচার চক্র এবং আঞ্চলিক রাজনৈতিক বিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নতুন নীতির আওতায় যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও আছেন যারা কৌশলগত সম্পদ নিয়ন্ত্রণ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা দুর্বল করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থের বিরুদ্ধে কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া প্রভাব বিস্তারমূলক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে বিদেশি সমালোচক ও রাজনৈতিক বিরোধীদের ভিসা বাতিলের প্রবণতা বাড়তে দেখা গেছে। গত বছর ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ভিসা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি ইরান সরকারের সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকজন ব্যক্তির অভিবাসন ভিসাও বাতিল করা হয়েছিল।
এছাড়া লাতিন আমেরিকার কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাও এই নীতির আওতায় ভিসা বাতিলের মুখে পড়েন বলে জানা গেছে। ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর মামলায় জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একইভাবে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর জাতিসংঘে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্যের পর তার ভিসা বাতিল করা হয়েছিল, যদিও পরবর্তীতে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের অংশ হিসেবে তাকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন ভিসা নীতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, বিশেষ করে লাতিন আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েন বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ভিসা নীতিকে রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে।
বিষয় : যুক্তরাষ্ট্র

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র এমন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নতুন ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যারা দেশটির মতে পশ্চিম গোলার্ধে তাদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করতে প্রতিপক্ষ শক্তিগুলোকে সহায়তা করছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, এই নীতির আওতায় ইতোমধ্যে ২৬ জনের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন ভিসা নীতির লক্ষ্য এমন ব্যক্তি বা গোষ্ঠী, যারা সচেতনভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ শক্তিকে সহায়তা করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা দুর্বল করছে, কৌশলগত সম্পদের নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখছে অথবা অর্থনৈতিক স্বার্থ ক্ষুণ্ন করছে। একই সঙ্গে যেসব কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের পথে বাধা সৃষ্টি করছে, সেগুলোকেও এই নীতির আওতায় আনা হয়েছে।
এই পদক্ষেপ এমন সময় নেওয়া হলো যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশল ১৯শ শতকের ‘মনরো ডকট্রিন’-এর আধুনিক সংস্করণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যাকে অনেকে ‘ডনরো ডকট্রিন’ হিসেবে উল্লেখ করছেন।
ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর থেকেই লাতিন আমেরিকা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে মাদক পাচার ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। একই সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব মোকাবিলায় ওয়াশিংটন বিভিন্ন কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের অভিমত।
বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে কোনো দেশ বা সংগঠনের নাম উল্লেখ না করলেও ধারণা করা হচ্ছে, এই নীতির প্রধান লক্ষ্য চীনপন্থী প্রভাব, মাদক পাচার চক্র এবং আঞ্চলিক রাজনৈতিক বিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নতুন নীতির আওতায় যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যে এমন ব্যক্তিও আছেন যারা কৌশলগত সম্পদ নিয়ন্ত্রণ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা দুর্বল করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থের বিরুদ্ধে কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া প্রভাব বিস্তারমূলক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে বিদেশি সমালোচক ও রাজনৈতিক বিরোধীদের ভিসা বাতিলের প্রবণতা বাড়তে দেখা গেছে। গত বছর ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ভিসা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি ইরান সরকারের সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকজন ব্যক্তির অভিবাসন ভিসাও বাতিল করা হয়েছিল।
এছাড়া লাতিন আমেরিকার কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাও এই নীতির আওতায় ভিসা বাতিলের মুখে পড়েন বলে জানা গেছে। ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর মামলায় জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একইভাবে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর জাতিসংঘে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্যের পর তার ভিসা বাতিল করা হয়েছিল, যদিও পরবর্তীতে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের অংশ হিসেবে তাকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানানো হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন ভিসা নীতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে আরও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, বিশেষ করে লাতিন আমেরিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েন বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ভিসা নীতিকে রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন