ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ইবির ‘মীর মুগ্ধ সরোবর’ যেভাবে হয়ে উঠেছে ভালোবাসা-বন্ধুত্ব-স্মৃতির ঠিকানা


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬

ইবির ‘মীর মুগ্ধ সরোবর’ যেভাবে হয়ে উঠেছে ভালোবাসা-বন্ধুত্ব-স্মৃতির ঠিকানা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীদের আবেগ, স্মৃতি, ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের এক অনন্য ঠিকানা ‘মীর মুগ্ধ সরোবর’। ক্যাম্পাসজুড়ে পরিচিত এই লেক শুধু একটি জলাধার নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অসংখ্য গল্প, অনুভূতি ও সম্পর্কের নীরব সাক্ষী। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর থাকে এই স্থান।

বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের অনেকের কাছেই ক্যাম্পাস ঘোরার প্রথম গন্তব্য এই সরোবর। বলা হয়, ইবিতে এসে লেক না দেখে ফিরে গেছে—এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাবে। ক্যাম্পাসজীবনের আনন্দ, আড্ডা, নিঃসঙ্গতা কিংবা ভালোবাসার মুহূর্ত—সব কিছুরই এক মিলনস্থল হয়ে উঠেছে এটি।

ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় সরোবরপাড়ে মানুষের আনাগোনা। কেউ হাঁটতে আসেন, কেউ প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে বসে থাকেন, আবার কেউ নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটান। কুয়াশা ভেদ করে সূর্যের আলো যখন পানির ওপর পড়ে, তখন লেকজুড়ে তৈরি হয় এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। অনেকে দিন শুরুর প্রশান্তি খুঁজে পান এখানেই।

বিকেল হলেই সরোবরের পরিবেশ বদলে যায়। বন্ধুরা গোল হয়ে বসে আড্ডা দেন, কেউ বাদাম হাতে গল্পে মেতে ওঠেন, কেউ বই নিয়ে নিরিবিলি বসেন। প্রেমিক-প্রেমিকাদের কাছেও এটি বিশেষ আকর্ষণের স্থান। হাতে হাত রেখে, নীরব কথোপকথনে কিংবা দীর্ঘ সময় পাশাপাশি বসে কাটানো মুহূর্তে লেকপাড় হয়ে ওঠে ভালোবাসার অনন্য আবাস।

শিক্ষার্থীদের ভাষায়, মীর মুগ্ধ সরোবর শুধু সৌন্দর্যের স্থান নয়, এটি মানসিক প্রশান্তির জায়গাও। পরীক্ষায় খারাপ ফল, ব্যক্তিগত হতাশা কিংবা ক্লান্ত মন নিয়ে অনেকে এখানে এসে বসেন। প্রকৃতির নীরবতা ও হালকা বাতাস যেন তাদের মনকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেয়।

লেকটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু স্মৃতি। কারও প্রথম পরিচয়, কারও শেষ বিদায়, কারও না বলা ভালোবাসা, আবার কারও বন্ধুত্বের অমলিন সময়—সবই যেন মিশে আছে এই নীল জলে। তাই অনেক শিক্ষার্থীর কাছেই এটি কেবল একটি স্থাপনা নয়, বরং জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

২০১৮ সালের ১৭ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী আনুষ্ঠানিকভাবে লেকটির উদ্বোধন করেন। এর আগে এটি ‘মফিজ লেক’ নামে পরিচিত ছিল। পরে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘মীর মুগ্ধ সরোবর’। বর্তমানে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম পরিচিত প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

লেকের চারপাশে নির্মাণ করা হয়েছে বসার স্থান, পাকা হাঁটার পথ, বৃক্ষরাজি এবং আলোকসজ্জা। এসব উন্নয়নের ফলে এটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। সন্ধ্যার পর আলোয় আলোকিত পরিবেশ শিক্ষার্থীদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে।

ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে বদলে যায় সরোবরের রূপও। বর্ষাকালে পানিতে ভরে ওঠে পুরো এলাকা। তখন দেখা যায় নানা প্রজাতির পাখি, মাছ, শাপলা-পদ্ম ও জলজ উদ্ভিদ। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর কমে গেলে লেকের মাটি ফেটে যায়। তখন অনেকের কাছে দৃশ্যটি বিষণ্ন মনে হয়।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, প্রজন্ম বদলাবে, নতুন মুখ আসবে, পুরোনোরা বিদায় নেবে—তবু মীর মুগ্ধ সরোবর থাকবে আগের মতোই। এখানে জন্ম নেবে নতুন গল্প, নতুন সম্পর্ক, নতুন স্মৃতি। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে এই সরোবর বহুকাল ধরে বয়ে নিয়ে যাবে ক্যাম্পাস জীবনের আবেগময় ইতিহাস।

#আর

বিষয় : ইবি

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬


ইবির ‘মীর মুগ্ধ সরোবর’ যেভাবে হয়ে উঠেছে ভালোবাসা-বন্ধুত্ব-স্মৃতির ঠিকানা

প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীদের আবেগ, স্মৃতি, ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের এক অনন্য ঠিকানা ‘মীর মুগ্ধ সরোবর’। ক্যাম্পাসজুড়ে পরিচিত এই লেক শুধু একটি জলাধার নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অসংখ্য গল্প, অনুভূতি ও সম্পর্কের নীরব সাক্ষী। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর থাকে এই স্থান।

বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের অনেকের কাছেই ক্যাম্পাস ঘোরার প্রথম গন্তব্য এই সরোবর। বলা হয়, ইবিতে এসে লেক না দেখে ফিরে গেছে—এমন মানুষ খুব কমই পাওয়া যাবে। ক্যাম্পাসজীবনের আনন্দ, আড্ডা, নিঃসঙ্গতা কিংবা ভালোবাসার মুহূর্ত—সব কিছুরই এক মিলনস্থল হয়ে উঠেছে এটি।

ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় সরোবরপাড়ে মানুষের আনাগোনা। কেউ হাঁটতে আসেন, কেউ প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে বসে থাকেন, আবার কেউ নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটান। কুয়াশা ভেদ করে সূর্যের আলো যখন পানির ওপর পড়ে, তখন লেকজুড়ে তৈরি হয় এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। অনেকে দিন শুরুর প্রশান্তি খুঁজে পান এখানেই।

বিকেল হলেই সরোবরের পরিবেশ বদলে যায়। বন্ধুরা গোল হয়ে বসে আড্ডা দেন, কেউ বাদাম হাতে গল্পে মেতে ওঠেন, কেউ বই নিয়ে নিরিবিলি বসেন। প্রেমিক-প্রেমিকাদের কাছেও এটি বিশেষ আকর্ষণের স্থান। হাতে হাত রেখে, নীরব কথোপকথনে কিংবা দীর্ঘ সময় পাশাপাশি বসে কাটানো মুহূর্তে লেকপাড় হয়ে ওঠে ভালোবাসার অনন্য আবাস।

শিক্ষার্থীদের ভাষায়, মীর মুগ্ধ সরোবর শুধু সৌন্দর্যের স্থান নয়, এটি মানসিক প্রশান্তির জায়গাও। পরীক্ষায় খারাপ ফল, ব্যক্তিগত হতাশা কিংবা ক্লান্ত মন নিয়ে অনেকে এখানে এসে বসেন। প্রকৃতির নীরবতা ও হালকা বাতাস যেন তাদের মনকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দেয়।

লেকটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু স্মৃতি। কারও প্রথম পরিচয়, কারও শেষ বিদায়, কারও না বলা ভালোবাসা, আবার কারও বন্ধুত্বের অমলিন সময়—সবই যেন মিশে আছে এই নীল জলে। তাই অনেক শিক্ষার্থীর কাছেই এটি কেবল একটি স্থাপনা নয়, বরং জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

২০১৮ সালের ১৭ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী আনুষ্ঠানিকভাবে লেকটির উদ্বোধন করেন। এর আগে এটি ‘মফিজ লেক’ নামে পরিচিত ছিল। পরে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘মীর মুগ্ধ সরোবর’। বর্তমানে এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম পরিচিত প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

লেকের চারপাশে নির্মাণ করা হয়েছে বসার স্থান, পাকা হাঁটার পথ, বৃক্ষরাজি এবং আলোকসজ্জা। এসব উন্নয়নের ফলে এটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। সন্ধ্যার পর আলোয় আলোকিত পরিবেশ শিক্ষার্থীদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করে।

ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে বদলে যায় সরোবরের রূপও। বর্ষাকালে পানিতে ভরে ওঠে পুরো এলাকা। তখন দেখা যায় নানা প্রজাতির পাখি, মাছ, শাপলা-পদ্ম ও জলজ উদ্ভিদ। অন্যদিকে শুষ্ক মৌসুমে পানির স্তর কমে গেলে লেকের মাটি ফেটে যায়। তখন অনেকের কাছে দৃশ্যটি বিষণ্ন মনে হয়।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, প্রজন্ম বদলাবে, নতুন মুখ আসবে, পুরোনোরা বিদায় নেবে—তবু মীর মুগ্ধ সরোবর থাকবে আগের মতোই। এখানে জন্ম নেবে নতুন গল্প, নতুন সম্পর্ক, নতুন স্মৃতি। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে এই সরোবর বহুকাল ধরে বয়ে নিয়ে যাবে ক্যাম্পাস জীবনের আবেগময় ইতিহাস।

#আর


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ