দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও বেড়ে ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের মোট গ্রস রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহও ঊর্ধ্বমুখী থাকায় অর্থনীতিতে স্বস্তির বার্তা দেখা যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্ধারিত বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী দেশের রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার। যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট হিসাব অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
এর আগে গত ৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৪ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার। সে সময় বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২৯ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে রিজার্ভে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, রপ্তানি আয় স্থিতিশীল থাকা এবং আমদানি ব্যয় কিছুটা নিয়ন্ত্রিত থাকায় রিজার্ভ বাড়তে সহায়তা করছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার অন্যতম প্রধান সূচক। এর মাধ্যমে আমদানি ব্যয় নির্বাহ, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহায়তা পাওয়া যায়।
এদিকে চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৫ দিনেই দেশে ১৭৮ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় বড় অঙ্কের বৈদেশিক আয়। দৈনিক গড়ে দেশে এসেছে প্রায় ১১ কোটি ৯২ লাখ ডলার। মাসের প্রথমার্ধে এই প্রবাহ অব্যাহত থাকায় পুরো এপ্রিল শেষে রেমিট্যান্স আরও বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয় পাঠাতে উৎসাহ, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সহজতা এবং ডলারের বাজারদর স্থিতিশীল রাখার উদ্যোগের কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে। পাশাপাশি বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং উৎসব মৌসুমকে কেন্দ্র করেও প্রবাসী আয় বাড়তে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, মুদ্রানীতি কার্যকর রাখা এবং সুদের হার নির্ধারণে নতুন রেফারেন্স রেট চালুর মতো নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব উদ্যোগও সামষ্টিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, শুধু রিজার্ভ বাড়লেই হবে না, সেই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করাও জরুরি। দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে এসব ক্ষেত্রেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
#আরএ
বিষয় : রিজার্ভ

শনিবার, ০২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও বেড়ে ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের মোট গ্রস রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহও ঊর্ধ্বমুখী থাকায় অর্থনীতিতে স্বস্তির বার্তা দেখা যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্ধারিত বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী দেশের রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার। যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট হিসাব অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
এর আগে গত ৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৪ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার। সে সময় বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২৯ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে রিজার্ভে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, রপ্তানি আয় স্থিতিশীল থাকা এবং আমদানি ব্যয় কিছুটা নিয়ন্ত্রিত থাকায় রিজার্ভ বাড়তে সহায়তা করছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার অন্যতম প্রধান সূচক। এর মাধ্যমে আমদানি ব্যয় নির্বাহ, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহায়তা পাওয়া যায়।
এদিকে চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৫ দিনেই দেশে ১৭৮ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় বড় অঙ্কের বৈদেশিক আয়। দৈনিক গড়ে দেশে এসেছে প্রায় ১১ কোটি ৯২ লাখ ডলার। মাসের প্রথমার্ধে এই প্রবাহ অব্যাহত থাকায় পুরো এপ্রিল শেষে রেমিট্যান্স আরও বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয় পাঠাতে উৎসাহ, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সহজতা এবং ডলারের বাজারদর স্থিতিশীল রাখার উদ্যোগের কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে। পাশাপাশি বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং উৎসব মৌসুমকে কেন্দ্র করেও প্রবাসী আয় বাড়তে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, মুদ্রানীতি কার্যকর রাখা এবং সুদের হার নির্ধারণে নতুন রেফারেন্স রেট চালুর মতো নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব উদ্যোগও সামষ্টিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, শুধু রিজার্ভ বাড়লেই হবে না, সেই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করাও জরুরি। দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে এসব ক্ষেত্রেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
#আরএ

আপনার মতামত লিখুন