ঢাকা    শনিবার, ০২ মে ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

এপ্রিলের ১৫ দিনে এলো ১৭৯ কোটি ডলার


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬

এপ্রিলের ১৫ দিনে এলো ১৭৯ কোটি ডলার

দেশে প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৫ দিনেই বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে ১৭৮ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ বিপুল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের প্রথমার্ধে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে প্রায় ১১ কোটি ৯২ লাখ ডলার। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মাসের বাকি দিনগুলোতেও এই ধারা অব্যাহত থাকলে এপ্রিল শেষে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত বছরের এপ্রিল মাসের প্রথম ১৫ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৪৭ কোটি ২০ লাখ ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে চলতি সময়ে উল্লেখযোগ্য হারে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বাড়া, প্রবাসী কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রণোদনা সুবিধাকে এই বৃদ্ধির পেছনে বড় কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৭৯৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ২০ দশমিক ৪০ শতাংশ বেশি। অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে এসে এই প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে গত মার্চ মাসে দেশে এসেছে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো এক মাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় হিসেবে রেকর্ড গড়ে। মার্চের এই শক্তিশালী প্রবাহের ধারাবাহিকতা এপ্রিলেও বজায় রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে দেশে আসে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার এবং জানুয়ারিতে আসে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার। এর আগের মাস ডিসেম্বরেও রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার। নভেম্বরে এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার।

অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার এবং ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার দেশে আসে। আর আগস্ট ও জুলাই মাসে রেমিট্যান্স ছিল যথাক্রমে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার এবং ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার। পুরো অর্থবছরজুড়েই ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী প্রবাহ বজায় রয়েছে।

এদিকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড। চলতি অর্থবছরে সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এটি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে, আমদানি ব্যয় মেটাতে, বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে চাহিদা বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে লাখো পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রেও প্রবাসী আয় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

#আরএ

বিষয় : রেমিট্যান্স

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ০২ মে ২০২৬


এপ্রিলের ১৫ দিনে এলো ১৭৯ কোটি ডলার

প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দেশে প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৫ দিনেই বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে ১৭৮ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ বিপুল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের প্রথমার্ধে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে প্রায় ১১ কোটি ৯২ লাখ ডলার। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মাসের বাকি দিনগুলোতেও এই ধারা অব্যাহত থাকলে এপ্রিল শেষে রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত বছরের এপ্রিল মাসের প্রথম ১৫ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৪৭ কোটি ২০ লাখ ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে চলতি সময়ে উল্লেখযোগ্য হারে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বাড়া, প্রবাসী কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রণোদনা সুবিধাকে এই বৃদ্ধির পেছনে বড় কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৭৯৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ২০ দশমিক ৪০ শতাংশ বেশি। অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে এসে এই প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে গত মার্চ মাসে দেশে এসেছে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো এক মাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় হিসেবে রেকর্ড গড়ে। মার্চের এই শক্তিশালী প্রবাহের ধারাবাহিকতা এপ্রিলেও বজায় রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে দেশে আসে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার এবং জানুয়ারিতে আসে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার। এর আগের মাস ডিসেম্বরেও রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার। নভেম্বরে এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার।

অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার এবং ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার দেশে আসে। আর আগস্ট ও জুলাই মাসে রেমিট্যান্স ছিল যথাক্রমে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার এবং ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার। পুরো অর্থবছরজুড়েই ধারাবাহিকভাবে শক্তিশালী প্রবাহ বজায় রয়েছে।

এদিকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড। চলতি অর্থবছরে সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। এটি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে, আমদানি ব্যয় মেটাতে, বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে চাহিদা বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে লাখো পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রেও প্রবাসী আয় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

#আরএ


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ