ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

হার্ট ভালো রাখতে যে ৪ ধরনের খাবার এড়ানো জরুরি


রুশাইদ আহমেদ
রুশাইদ আহমেদ
প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬

হার্ট ভালো রাখতে যে ৪ ধরনের খাবার এড়ানো জরুরি

হৃদরোগ বর্তমানে বিশ্বজুড়ে অন্যতম বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারের অতিরিক্ত গ্রহণ হার্টের রোগ বাড়াচ্ছে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বোর্ড-সার্টিফায়েড কার্ডিওথোরাসিক সার্জন ডা. জেরেমি লন্ডন জানিয়েছেন, কিছু নির্দিষ্ট খাবার নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস হৃদযন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে এসব খাবার সীমিত করা জরুরি।

ডা. লন্ডনের মতে, হৃদরোগ, মেটাবলিক সমস্যা এমনকি দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকিও খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তিনি বলেন, “আপনি কী খাচ্ছেন, তার ওপর নির্ভর করে শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্য নির্ধারিত হয়।” তাই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে কিছু খাবার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকা থেকে কমিয়ে আনা প্রয়োজন।

তিনি মূলত চার ধরনের খাবারের বিষয়ে সতর্ক করেছেন, যেগুলো নিয়মিত গ্রহণ করলে হৃদযন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

প্রথমত, অ্যালকোহল। চিকিৎসকের মতে, অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ রক্তচাপ বাড়াতে পারে এবং হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ব্যাহত করে। দীর্ঘদিন ধরে এই অভ্যাস বজায় থাকলে হার্ট ফেইলিউরসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।

দ্বিতীয়ত, প্রসেসড মাংস। হট ডগ, সসেজ, ডেলি মিটসের মতো প্রক্রিয়াজাত মাংস নিয়মিত খাওয়ার ফলে শরীরে অতিরিক্ত সোডিয়াম ও ক্ষতিকর ফ্যাট জমে যায়। এতে ধীরে ধীরে রক্তনালী সংকুচিত হয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।

তৃতীয়ত, চিনিযুক্ত পানীয়। সফট ড্রিংক, এনার্জি ড্রিংক এবং অতিরিক্ত চিনি যুক্ত পানীয়কে তিনি ‘ফাঁকা ক্যালোরির উৎস’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এসব পানীয় শরীরে দ্রুত শক্তি দিলেও তা দীর্ঘ সময়ের জন্য পেট ভরায় না। ফলে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের প্রবণতা তৈরি হয়, যা ওজন বৃদ্ধি এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

চতুর্থত, স্যাচুরেটেড ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবার। বেশি চর্বিযুক্ত মাংস, মাখন এবং ফুল-ফ্যাট দুগ্ধজাত পণ্য নিয়মিত খাওয়ার ফলে শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এটি ধীরে ধীরে ধমনীতে ব্লকেজ তৈরি করে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়।

ডা. লন্ডন আরও বলেন, বাস্তব জীবনে সম্পূর্ণ নিখুঁত ডায়েট অনুসরণ করা কঠিন। তাই কঠোর খাদ্যবিধির পরিবর্তে ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা বেশি কার্যকর। তার মতে, সবসময় শতভাগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না হলেও ৮০ শতাংশ সময় স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করাই যথেষ্ট ইতিবাচক ফল দিতে পারে।

তিনি পরামর্শ দেন, এসব ক্ষতিকর খাবার সম্পূর্ণ বাদ না দিলেও এগুলোকে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার মূল অংশ করা উচিত নয়। বরং পরিমিতভাবে এবং মাঝে মাঝে গ্রহণ করাই নিরাপদ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে শুধু খাদ্য নয়, জীবনযাত্রার অন্যান্য দিকও গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ হৃদস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।

#আরএ

বিষয় : হার্ট

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


হার্ট ভালো রাখতে যে ৪ ধরনের খাবার এড়ানো জরুরি

প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

হৃদরোগ বর্তমানে বিশ্বজুড়ে অন্যতম বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং প্রক্রিয়াজাত খাবারের অতিরিক্ত গ্রহণ হার্টের রোগ বাড়াচ্ছে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ২৫ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বোর্ড-সার্টিফায়েড কার্ডিওথোরাসিক সার্জন ডা. জেরেমি লন্ডন জানিয়েছেন, কিছু নির্দিষ্ট খাবার নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস হৃদযন্ত্রের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে এসব খাবার সীমিত করা জরুরি।

ডা. লন্ডনের মতে, হৃদরোগ, মেটাবলিক সমস্যা এমনকি দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকিও খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তিনি বলেন, “আপনি কী খাচ্ছেন, তার ওপর নির্ভর করে শরীরের সামগ্রিক স্বাস্থ্য নির্ধারিত হয়।” তাই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে কিছু খাবার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকা থেকে কমিয়ে আনা প্রয়োজন।

তিনি মূলত চার ধরনের খাবারের বিষয়ে সতর্ক করেছেন, যেগুলো নিয়মিত গ্রহণ করলে হৃদযন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

প্রথমত, অ্যালকোহল। চিকিৎসকের মতে, অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ রক্তচাপ বাড়াতে পারে এবং হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ব্যাহত করে। দীর্ঘদিন ধরে এই অভ্যাস বজায় থাকলে হার্ট ফেইলিউরসহ নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।

দ্বিতীয়ত, প্রসেসড মাংস। হট ডগ, সসেজ, ডেলি মিটসের মতো প্রক্রিয়াজাত মাংস নিয়মিত খাওয়ার ফলে শরীরে অতিরিক্ত সোডিয়াম ও ক্ষতিকর ফ্যাট জমে যায়। এতে ধীরে ধীরে রক্তনালী সংকুচিত হয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।

তৃতীয়ত, চিনিযুক্ত পানীয়। সফট ড্রিংক, এনার্জি ড্রিংক এবং অতিরিক্ত চিনি যুক্ত পানীয়কে তিনি ‘ফাঁকা ক্যালোরির উৎস’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এসব পানীয় শরীরে দ্রুত শক্তি দিলেও তা দীর্ঘ সময়ের জন্য পেট ভরায় না। ফলে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের প্রবণতা তৈরি হয়, যা ওজন বৃদ্ধি এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

চতুর্থত, স্যাচুরেটেড ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবার। বেশি চর্বিযুক্ত মাংস, মাখন এবং ফুল-ফ্যাট দুগ্ধজাত পণ্য নিয়মিত খাওয়ার ফলে শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এটি ধীরে ধীরে ধমনীতে ব্লকেজ তৈরি করে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়।

ডা. লন্ডন আরও বলেন, বাস্তব জীবনে সম্পূর্ণ নিখুঁত ডায়েট অনুসরণ করা কঠিন। তাই কঠোর খাদ্যবিধির পরিবর্তে ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা বেশি কার্যকর। তার মতে, সবসময় শতভাগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না হলেও ৮০ শতাংশ সময় স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করাই যথেষ্ট ইতিবাচক ফল দিতে পারে।

তিনি পরামর্শ দেন, এসব ক্ষতিকর খাবার সম্পূর্ণ বাদ না দিলেও এগুলোকে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার মূল অংশ করা উচিত নয়। বরং পরিমিতভাবে এবং মাঝে মাঝে গ্রহণ করাই নিরাপদ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে শুধু খাদ্য নয়, জীবনযাত্রার অন্যান্য দিকও গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ হৃদস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।

#আরএ


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ