বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ সম্প্রচারমাধ্যম বিবিসি বড় ধরনের পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে আগামী তিন বছরে প্রায় ২ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, মোট ব্যয় ১০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) এক সর্বস্তরের কর্মী বৈঠকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। তবে কোন বিভাগ বা কোন পর্যায়ের কর্মীরা এই ছাঁটাইয়ের আওতায় পড়বেন, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
বিবিসির ইতিহাসে গত প্রায় ১৫ বছরের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় কর্মী সংকোচনের উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে একাধিক বিভাগে খরচ কমানো এবং জনবল পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
নতুন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবিসি তাদের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অনুষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কভারেজ টিমেও বড় পরিবর্তন আনছে। পূর্বের কাঠামো অনুযায়ী এই ধরনের ইভেন্ট কভার করতে একটি বড় স্থায়ী দল কাজ করলেও, নতুন পরিকল্পনায় এ দায়িত্বে মাত্র একজন স্থায়ী কর্মী থাকবেন এবং বাকি কাজ ফ্রিল্যান্সারদের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিবিসি প্রথমবারের মতো ঘোষণা দেয় যে, আগামী তিন বছরে শত শত মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৯ সালের মধ্যে মোট বাজেটের প্রায় ১০ শতাংশ সাশ্রয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কোন কোন সেবা বা প্রোগ্রামে এর প্রভাব পড়বে, সে বিষয়ে তখনও স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।
এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস আলাদাভাবে ব্যয় সংকোচনের উদ্যোগ নেয়, যেখানে প্রায় ১৩০টি চাকরি কাটছাঁটের পরিকল্পনা করা হয়। ওই সময় প্রায় ৬ মিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।
বিবিসির আর্থিক চাপে অন্যতম বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে প্রতিযোগিতামূলক মিডিয়া বাজারের পরিবর্তন। নেটফ্লিক্স, ডিজনি প্লাসসহ বিভিন্ন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে প্রতিযোগিতা এবং ডিজিটাল মিডিয়ায় দর্শক পরিবর্তনের কারণে প্রতিষ্ঠানটি আয়ের চাপের মুখে পড়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের টেলিভিশন লাইসেন্স ফি, যা বর্তমানে বছরে ১৮০ পাউন্ড, সেটিই বিবিসির প্রধান অর্থায়নের উৎস হিসেবে কাজ করছে। এই ফি নিয়ে জনমত ও রাজনৈতিক বিতর্কও দীর্ঘদিন ধরে চলছে।
প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বেও পরিবর্তন আসছে। গুগলের সাবেক নির্বাহী ম্যাট ব্রিটিন আগামী মাসে বিবিসির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। তার আগে বিদায়ী মহাপরিচালক টিম ডেভি গত ২ এপ্রিল পদত্যাগ করেন। বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পালন করছেন রোড্রি টালফান ডেভিস, যিনি নতুন কাঠামোগত পরিবর্তন বাস্তবায়নের প্রাথমিক পর্যায়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আর্থিক চাপ, ডিজিটাল রূপান্তর এবং বৈশ্বিক মিডিয়া প্রতিযোগিতার কারণে বিবিসির মতো পাবলিক সার্ভিস ব্রডকাস্টারদের জন্য বড় ধরনের পুনর্গঠন এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। তবে এই ছাঁটাইয়ের ফলে প্রতিষ্ঠানটির প্রযোজনা মান, সংবাদ কাভারেজের বিস্তৃতি এবং আন্তর্জাতিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আগামী কয়েক মাসে কর্মী সংকোচন পরিকল্পনার বিস্তারিত রূপরেখা প্রকাশ করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা বিবিসির অভ্যন্তরীণ কাঠামো ও ভবিষ্যৎ কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে।
#আরএ
বিষয় : বিবিসি

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬
বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ সম্প্রচারমাধ্যম বিবিসি বড় ধরনের পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে আগামী তিন বছরে প্রায় ২ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, মোট ব্যয় ১০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) এক সর্বস্তরের কর্মী বৈঠকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। তবে কোন বিভাগ বা কোন পর্যায়ের কর্মীরা এই ছাঁটাইয়ের আওতায় পড়বেন, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
বিবিসির ইতিহাসে গত প্রায় ১৫ বছরের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় কর্মী সংকোচনের উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে একাধিক বিভাগে খরচ কমানো এবং জনবল পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
নতুন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিবিসি তাদের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অনুষ্ঠান ও রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কভারেজ টিমেও বড় পরিবর্তন আনছে। পূর্বের কাঠামো অনুযায়ী এই ধরনের ইভেন্ট কভার করতে একটি বড় স্থায়ী দল কাজ করলেও, নতুন পরিকল্পনায় এ দায়িত্বে মাত্র একজন স্থায়ী কর্মী থাকবেন এবং বাকি কাজ ফ্রিল্যান্সারদের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিবিসি প্রথমবারের মতো ঘোষণা দেয় যে, আগামী তিন বছরে শত শত মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৯ সালের মধ্যে মোট বাজেটের প্রায় ১০ শতাংশ সাশ্রয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কোন কোন সেবা বা প্রোগ্রামে এর প্রভাব পড়বে, সে বিষয়ে তখনও স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি।
এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিস আলাদাভাবে ব্যয় সংকোচনের উদ্যোগ নেয়, যেখানে প্রায় ১৩০টি চাকরি কাটছাঁটের পরিকল্পনা করা হয়। ওই সময় প্রায় ৬ মিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।
বিবিসির আর্থিক চাপে অন্যতম বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে প্রতিযোগিতামূলক মিডিয়া বাজারের পরিবর্তন। নেটফ্লিক্স, ডিজনি প্লাসসহ বিভিন্ন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে প্রতিযোগিতা এবং ডিজিটাল মিডিয়ায় দর্শক পরিবর্তনের কারণে প্রতিষ্ঠানটি আয়ের চাপের মুখে পড়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের টেলিভিশন লাইসেন্স ফি, যা বর্তমানে বছরে ১৮০ পাউন্ড, সেটিই বিবিসির প্রধান অর্থায়নের উৎস হিসেবে কাজ করছে। এই ফি নিয়ে জনমত ও রাজনৈতিক বিতর্কও দীর্ঘদিন ধরে চলছে।
প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বেও পরিবর্তন আসছে। গুগলের সাবেক নির্বাহী ম্যাট ব্রিটিন আগামী মাসে বিবিসির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। তার আগে বিদায়ী মহাপরিচালক টিম ডেভি গত ২ এপ্রিল পদত্যাগ করেন। বর্তমানে অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পালন করছেন রোড্রি টালফান ডেভিস, যিনি নতুন কাঠামোগত পরিবর্তন বাস্তবায়নের প্রাথমিক পর্যায়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আর্থিক চাপ, ডিজিটাল রূপান্তর এবং বৈশ্বিক মিডিয়া প্রতিযোগিতার কারণে বিবিসির মতো পাবলিক সার্ভিস ব্রডকাস্টারদের জন্য বড় ধরনের পুনর্গঠন এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। তবে এই ছাঁটাইয়ের ফলে প্রতিষ্ঠানটির প্রযোজনা মান, সংবাদ কাভারেজের বিস্তৃতি এবং আন্তর্জাতিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আগামী কয়েক মাসে কর্মী সংকোচন পরিকল্পনার বিস্তারিত রূপরেখা প্রকাশ করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা বিবিসির অভ্যন্তরীণ কাঠামো ও ভবিষ্যৎ কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে।
#আরএ

আপনার মতামত লিখুন