হাইতির উত্তরাঞ্চলের ঐতিহাসিক পাহাড়চূড়ার দুর্গ সিতাদেল লাফেরিয়েরে ভয়াবহ পদদলনের ঘটনায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই তরুণ বলে জানিয়েছে দেশটির প্রশাসন। এ ঘটনায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং কয়েকজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শনিবার দেশটির জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সিতাদেল লাফেরিয়েরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্গটি হাইতির স্বাধীনতার ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জনের পর উনিশ শতকের শুরুতে এটি নির্মিত হয়। ১৯৮২ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।
হাইতির নর্ড বিভাগের সিভিল প্রোটেকশন প্রধান জ্যঁ অঁরি পেতি জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ কয়েকজনের সন্ধানে অনুসন্ধান চলছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দুর্গের একটি সরু প্রবেশপথে অতিরিক্ত ভিড় জমে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। একদিকে বহু দর্শনার্থী দুর্গের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন, অন্যদিকে অনেকে বের হয়ে আসছিলেন। এতে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ একসঙ্গে আটকে যায়। পরে ধাক্কাধাক্কি, চিৎকার ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে মানুষ মাটিতে পড়ে গেলে পদদলনের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় কয়েকটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে প্রচারের পর দুর্গ এলাকায় বড় ধরনের জমায়েত হয়। সাধারণ সময়ের তুলনায় অনেক বেশি মানুষ সেখানে উপস্থিত হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়ে। পর্যাপ্ত জননিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকায় বিপর্যয় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্গের কাছাকাছি এলাকায় একটি সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ অতিরিক্ত টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষ হুড়োহুড়ি করে বের হওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হয়নি।
হাইতির সংস্কৃতিমন্ত্রী এমানুয়েল মেনার নিহতের সংখ্যা ৩০ জন বলে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো আহতদের চিকিৎসা, নিখোঁজদের সন্ধান এবং ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে। নিহতদের পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে সরকার।
ঘটনার পর সিতাদেল লাফেরিয়েরে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
হাইতির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং নাগরিকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ ও পর্যটন স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাইতি ধারাবাহিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র গ্যাং সহিংসতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক দুরবস্থা এবং জ্বালানি সংকটে ভুগছে। এর আগে বিস্ফোরণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সহিংসতায় বহু প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, দর্শনার্থী নিয়ন্ত্রণ, জরুরি বহির্গমন পথ এবং প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মী না থাকলে এ ধরনের দুর্ঘটনা আবারও ঘটতে পারে। হাইতির এই ট্র্যাজেডি জনসমাগম ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার আরেকটি করুণ উদাহরণ হয়ে রইল।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
#আরএ
বিষয় : হাইতি

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬
হাইতির উত্তরাঞ্চলের ঐতিহাসিক পাহাড়চূড়ার দুর্গ সিতাদেল লাফেরিয়েরে ভয়াবহ পদদলনের ঘটনায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই তরুণ বলে জানিয়েছে দেশটির প্রশাসন। এ ঘটনায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং কয়েকজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শনিবার দেশটির জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সিতাদেল লাফেরিয়েরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্গটি হাইতির স্বাধীনতার ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা অর্জনের পর উনিশ শতকের শুরুতে এটি নির্মিত হয়। ১৯৮২ সালে ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।
হাইতির নর্ড বিভাগের সিভিল প্রোটেকশন প্রধান জ্যঁ অঁরি পেতি জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে ভর্তি করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ কয়েকজনের সন্ধানে অনুসন্ধান চলছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দুর্গের একটি সরু প্রবেশপথে অতিরিক্ত ভিড় জমে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। একদিকে বহু দর্শনার্থী দুর্গের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন, অন্যদিকে অনেকে বের হয়ে আসছিলেন। এতে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ একসঙ্গে আটকে যায়। পরে ধাক্কাধাক্কি, চিৎকার ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে মানুষ মাটিতে পড়ে গেলে পদদলনের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় কয়েকটি গণমাধ্যম জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে প্রচারের পর দুর্গ এলাকায় বড় ধরনের জমায়েত হয়। সাধারণ সময়ের তুলনায় অনেক বেশি মানুষ সেখানে উপস্থিত হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়ে। পর্যাপ্ত জননিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকায় বিপর্যয় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্গের কাছাকাছি এলাকায় একটি সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ অতিরিক্ত টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষ হুড়োহুড়ি করে বের হওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হয়নি।
হাইতির সংস্কৃতিমন্ত্রী এমানুয়েল মেনার নিহতের সংখ্যা ৩০ জন বলে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো আহতদের চিকিৎসা, নিখোঁজদের সন্ধান এবং ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে। নিহতদের পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে সরকার।
ঘটনার পর সিতাদেল লাফেরিয়েরে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
হাইতির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং নাগরিকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ ও পর্যটন স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাইতি ধারাবাহিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র গ্যাং সহিংসতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক দুরবস্থা এবং জ্বালানি সংকটে ভুগছে। এর আগে বিস্ফোরণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সহিংসতায় বহু প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, দর্শনার্থী নিয়ন্ত্রণ, জরুরি বহির্গমন পথ এবং প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মী না থাকলে এ ধরনের দুর্ঘটনা আবারও ঘটতে পারে। হাইতির এই ট্র্যাজেডি জনসমাগম ব্যবস্থাপনায় ব্যর্থতার আরেকটি করুণ উদাহরণ হয়ে রইল।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
#আরএ

আপনার মতামত লিখুন