মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছেন, ইরান এবং দেশটির মিত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ইসরায়েল সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখবে। শান্তি প্রচেষ্টা ও কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেও এমন বক্তব্য নতুন করে অঞ্চলজুড়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, তাঁর নেতৃত্বে ইসরায়েল ইরানের “সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থা” এবং তাদের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে। তিনি ইঙ্গিত দেন, নিরাপত্তা হুমকি বিবেচনায় ইসরায়েল তার বর্তমান সামরিক অবস্থান থেকে সরে আসবে না।
নেতানিয়াহুর বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত কমাতে বিভিন্ন দেশ কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। গাজা, লেবানন, সিরিয়া এবং লোহিত সাগর ঘিরে নিরাপত্তা সংকট ইতোমধ্যে অঞ্চলটিকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে ইসরায়েলের সংঘাতও বিস্তৃত আকার নিয়েছে।
নিজের বার্তায় নেতানিয়াহু শুধু ইরানকে লক্ষ্য করেননি, তিনি রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান-এরও তীব্র সমালোচনা করেন। নেতানিয়াহু দাবি করেন, এরদোয়ান একদিকে ইরানকে সমর্থন দিচ্ছেন, অন্যদিকে কুর্দি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নিপীড়ন চালাচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট কুর্দি নাগরিকদের বিরুদ্ধে কঠোর দমননীতি অনুসরণ করছেন।
সম্প্রতি ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করেছিলেন এরদোয়ান। বিশেষ করে ফিলিস্তিন ইস্যুতে তুরস্ক ধারাবাহিকভাবে ইসরায়েলের সমালোচক অবস্থানে রয়েছে। তার জবাব হিসেবেই নেতানিয়াহুর এ বক্তব্য এসেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ফলে আঙ্কারা-তেল আবিব সম্পর্কেও নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর এই অবস্থান মূলত ইসরায়েলের নিরাপত্তা নীতি ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতার অংশ। দেশটির সরকার দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে সবচেয়ে বড় কৌশলগত হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। বিশেষ করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, পারমাণবিক সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব ইসরায়েলের উদ্বেগের কারণ।
অন্যদিকে ইরান বরাবরই বলে আসছে, তারা আঞ্চলিক প্রতিরোধ শক্তিকে সমর্থন করলেও সরাসরি যুদ্ধ চায় না। তবে ইসরায়েলি হামলা ও পশ্চিমা চাপের জবাব দেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে বলে তেহরানের অবস্থান।
নতুন এই বক্তব্যের ফলে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আরব দেশগুলোর মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। ইতোমধ্যে জ্বালানি বাজার, সমুদ্রপথ নিরাপত্তা এবং সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সংলাপ ব্যর্থ হলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে। বিশেষ করে লেবানন সীমান্ত, সিরিয়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চল নতুন উত্তেজনার কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
নেতানিয়াহুর ঘোষণায় স্পষ্ট হয়েছে, ইসরায়েল আপাতত সামরিক চাপ বজায় রাখার পথেই এগোচ্ছে। তবে এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা আনবে, নাকি নতুন সংঘাত ডেকে আনবে, তা নির্ভর করবে আগামী দিনের কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর।
#আরএ
বিষয় : ইরান

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ এপ্রিল ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছেন, ইরান এবং দেশটির মিত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ইসরায়েল সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখবে। শান্তি প্রচেষ্টা ও কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেও এমন বক্তব্য নতুন করে অঞ্চলজুড়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, তাঁর নেতৃত্বে ইসরায়েল ইরানের “সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থা” এবং তাদের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে। তিনি ইঙ্গিত দেন, নিরাপত্তা হুমকি বিবেচনায় ইসরায়েল তার বর্তমান সামরিক অবস্থান থেকে সরে আসবে না।
নেতানিয়াহুর বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত কমাতে বিভিন্ন দেশ কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। গাজা, লেবানন, সিরিয়া এবং লোহিত সাগর ঘিরে নিরাপত্তা সংকট ইতোমধ্যে অঞ্চলটিকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে ইসরায়েলের সংঘাতও বিস্তৃত আকার নিয়েছে।
নিজের বার্তায় নেতানিয়াহু শুধু ইরানকে লক্ষ্য করেননি, তিনি রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান-এরও তীব্র সমালোচনা করেন। নেতানিয়াহু দাবি করেন, এরদোয়ান একদিকে ইরানকে সমর্থন দিচ্ছেন, অন্যদিকে কুর্দি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নিপীড়ন চালাচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করেন, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট কুর্দি নাগরিকদের বিরুদ্ধে কঠোর দমননীতি অনুসরণ করছেন।
সম্প্রতি ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের সমালোচনা করেছিলেন এরদোয়ান। বিশেষ করে ফিলিস্তিন ইস্যুতে তুরস্ক ধারাবাহিকভাবে ইসরায়েলের সমালোচক অবস্থানে রয়েছে। তার জবাব হিসেবেই নেতানিয়াহুর এ বক্তব্য এসেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ফলে আঙ্কারা-তেল আবিব সম্পর্কেও নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর এই অবস্থান মূলত ইসরায়েলের নিরাপত্তা নীতি ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতার অংশ। দেশটির সরকার দীর্ঘদিন ধরে ইরানকে সবচেয়ে বড় কৌশলগত হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। বিশেষ করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, পারমাণবিক সক্ষমতা এবং আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব ইসরায়েলের উদ্বেগের কারণ।
অন্যদিকে ইরান বরাবরই বলে আসছে, তারা আঞ্চলিক প্রতিরোধ শক্তিকে সমর্থন করলেও সরাসরি যুদ্ধ চায় না। তবে ইসরায়েলি হামলা ও পশ্চিমা চাপের জবাব দেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে বলে তেহরানের অবস্থান।
নতুন এই বক্তব্যের ফলে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আরব দেশগুলোর মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। ইতোমধ্যে জ্বালানি বাজার, সমুদ্রপথ নিরাপত্তা এবং সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সংলাপ ব্যর্থ হলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে। বিশেষ করে লেবানন সীমান্ত, সিরিয়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চল নতুন উত্তেজনার কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
নেতানিয়াহুর ঘোষণায় স্পষ্ট হয়েছে, ইসরায়েল আপাতত সামরিক চাপ বজায় রাখার পথেই এগোচ্ছে। তবে এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা আনবে, নাকি নতুন সংঘাত ডেকে আনবে, তা নির্ভর করবে আগামী দিনের কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর।
#আরএ

আপনার মতামত লিখুন