যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান সামরিক উত্তেজনার মুখে ইরান একটি দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যয়বহুল যুদ্ধের কৌশল গ্রহণ করেছে। দেশটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং সামরিক বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ইরান সরাসরি কোনো সিদ্ধান্তমূলক বড় আক্রমণের পরিবর্তে প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার নীতিতে অটল রয়েছে। ২ মার্চ ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানি স্পষ্ট করেই জানিয়েছেন যে, তারা আমেরিকার মতো স্বল্পমেয়াদী নয় বরং একটি দীর্ঘ সংঘাতের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েছেন।
ইরানের এই সমরকৌশলের অন্যতম প্রধান দিক হলো ‘আক্রমণাত্মক প্রতিরক্ষা’ এবং অস্ত্রের ধাপভিত্তিক ব্যবহার। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালায়েনিক জানিয়েছেন, ইরান তার সব উন্নত সমরাস্ত্র একবারে ব্যবহার না করে কিছু অংশ পরবর্তী পর্যায়ের জন্য জমা রাখছে। এই কৌশলের মাধ্যমে তারা প্রতিপক্ষকে সবসময় একটি অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখতে চায়। এছাড়া সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ গত ৮ মার্চ এক বিবৃতিতে কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে আক্রমণকারীকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই কৌশলের পেছনে দুটি প্রধান সামরিক ও অর্থনৈতিক লক্ষ্য কাজ করছে। প্রথমত, ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অত্যন্ত ব্যয়বহুল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যেমন প্যাট্রিয়ট বা থাড-কে ব্যস্ত রাখা। একটি সস্তা ড্রোন ধ্বংস করতে প্রতিপক্ষের যে পরিমাণ ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র খরচ হয়, দীর্ঘ মেয়াদে তা তাদের সামরিক বাজেটে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করে। দ্বিতীয়ত, একটানা হামলা চালিয়ে শত্রু শিবিরের লজিস্টিক নেটওয়ার্ক এবং ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত শেষ করে দেওয়া। ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্যমতে, যুদ্ধের শুরুর দিকেই মার্কিন বাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্রের মজুতে টান পড়ার লক্ষণ দেখা দিয়েছে।
ইরান-ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে গত কয়েক দশকে ইরান তার ‘অসম যুদ্ধ’ (Asymmetric Warfare) কৌশলকে শক্তিশালী করেছে। যেখানে প্রচলিত সামরিক শক্তিতে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে সরাসরি পরাজিত করার চেয়ে যুদ্ধকে দীর্ঘস্থায়ী ও অনিশ্চিত করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ইরানি কমান্ডারদের দাবি অনুযায়ী, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ দেশীয় হওয়ায় এবং বিশাল মজুত থাকায় তারা বর্তমান তীব্রতায় অন্তত আরও ছয় মাস যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সক্ষম। এই কৌশলী অবস্থান মূলত প্রতিপক্ষকে এক দীর্ঘমেয়াদী স্নায়ুযুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির মুখে ঠেলে দেওয়ার একটি পরিকল্পিত প্রয়াস।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মার্চ ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে চলমান সামরিক উত্তেজনার মুখে ইরান একটি দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যয়বহুল যুদ্ধের কৌশল গ্রহণ করেছে। দেশটির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং সামরিক বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ইরান সরাসরি কোনো সিদ্ধান্তমূলক বড় আক্রমণের পরিবর্তে প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার নীতিতে অটল রয়েছে। ২ মার্চ ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানি স্পষ্ট করেই জানিয়েছেন যে, তারা আমেরিকার মতো স্বল্পমেয়াদী নয় বরং একটি দীর্ঘ সংঘাতের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়েছেন।
ইরানের এই সমরকৌশলের অন্যতম প্রধান দিক হলো ‘আক্রমণাত্মক প্রতিরক্ষা’ এবং অস্ত্রের ধাপভিত্তিক ব্যবহার। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রেজা তালায়েনিক জানিয়েছেন, ইরান তার সব উন্নত সমরাস্ত্র একবারে ব্যবহার না করে কিছু অংশ পরবর্তী পর্যায়ের জন্য জমা রাখছে। এই কৌশলের মাধ্যমে তারা প্রতিপক্ষকে সবসময় একটি অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখতে চায়। এছাড়া সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ গত ৮ মার্চ এক বিবৃতিতে কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে আক্রমণকারীকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই কৌশলের পেছনে দুটি প্রধান সামরিক ও অর্থনৈতিক লক্ষ্য কাজ করছে। প্রথমত, ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অত্যন্ত ব্যয়বহুল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যেমন প্যাট্রিয়ট বা থাড-কে ব্যস্ত রাখা। একটি সস্তা ড্রোন ধ্বংস করতে প্রতিপক্ষের যে পরিমাণ ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র খরচ হয়, দীর্ঘ মেয়াদে তা তাদের সামরিক বাজেটে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করে। দ্বিতীয়ত, একটানা হামলা চালিয়ে শত্রু শিবিরের লজিস্টিক নেটওয়ার্ক এবং ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত শেষ করে দেওয়া। ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্যমতে, যুদ্ধের শুরুর দিকেই মার্কিন বাহিনীর আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্রের মজুতে টান পড়ার লক্ষণ দেখা দিয়েছে।
ইরান-ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে গত কয়েক দশকে ইরান তার ‘অসম যুদ্ধ’ (Asymmetric Warfare) কৌশলকে শক্তিশালী করেছে। যেখানে প্রচলিত সামরিক শক্তিতে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে সরাসরি পরাজিত করার চেয়ে যুদ্ধকে দীর্ঘস্থায়ী ও অনিশ্চিত করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। ইরানি কমান্ডারদের দাবি অনুযায়ী, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ দেশীয় হওয়ায় এবং বিশাল মজুত থাকায় তারা বর্তমান তীব্রতায় অন্তত আরও ছয় মাস যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সক্ষম। এই কৌশলী অবস্থান মূলত প্রতিপক্ষকে এক দীর্ঘমেয়াদী স্নায়ুযুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির মুখে ঠেলে দেওয়ার একটি পরিকল্পিত প্রয়াস।

আপনার মতামত লিখুন