ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ইরান যুদ্ধ ও মধ্যবর্তী নির্বাচন: চাপের মুখে ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ রাজনীতি


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৬

ইরান যুদ্ধ ও মধ্যবর্তী নির্বাচন: চাপের মুখে ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ রাজনীতি

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য এক কঠিন সময় নিয়ে এসেছে। ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি এবং বিদেশের যুদ্ধ থেকে দূরে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও, একের পর এক দেশে সামরিক হস্তক্ষেপ এবং সর্বশেষ ইরানকে লক্ষ্যবস্তু করায় খোদ খোদ আমেরিকানদের মধ্যেই ক্ষোভ দানা বাঁধছে। অধিকাংশ নাগরিক এই যুদ্ধকে অপ্রয়োজনীয় মনে করছেন, যা আসন্ন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় বিপর্যয়ের সংকেত দিচ্ছে।

বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ থাকলেও তা অত্যন্ত ক্ষীণ। প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ আসনের মধ্যে ২১৮টি এবং সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে ৫৩টি আসন এখন ট্রাম্পের দলের দখলে। আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনে যদি রিপাবলিকানরা এই নিয়ন্ত্রণ হারায়, তবে ট্রাম্পের অনেক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তই স্থবির হয়ে পড়বে। এমনকি ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস প্রেসিডেন্টকে অভিশংসন বা ইমপিচ করার পথেও হাঁটতে পারে। বিশেষ করে সিনেটের ৩৫টি আসনের ফলাফল এই ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

গ্যালাপসহ বিভিন্ন সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যাচ্ছে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা এখন মাত্র ৩৬ শতাংশে নেমে এসেছে। এনবিসির জরিপ অনুযায়ী, ৫৪ শতাংশ ভোটার ইরানের বিরুদ্ধে নেওয়া সামরিক পদক্ষেপ প্রত্যাখান করেছেন। আমেরিকানরা এখন কেবল যুদ্ধের জয়-পরাজয় নিয়ে ভাবছেন না; বরং তারা মার্কিন অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ওপর এই যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন। জ্বালানি তেলের দাম এক সপ্তাহে ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়া এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি সাধারণ ভোটারদের ট্রাম্পের ওপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত টেক্সাসের মতো রাজ্যগুলোতেও পরিবর্তনের হওয়া বইতে শুরু করেছে। সেখানে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে রক্ষণশীল ও মধ্যপন্থী প্রার্থীদের জয় এবং ভোটারদের বিপুল উপস্থিতি ট্রাম্প শিবিরের জন্য অশনিসংকেত। প্রতিদিন এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি খরচ হওয়া এই যুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে এর বিপুল ব্যয় ও অর্থনৈতিক মন্দা ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির অবসান ঘটাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ইরান যুদ্ধ ও মধ্যবর্তী নির্বাচন: চাপের মুখে ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ রাজনীতি

প্রকাশের তারিখ : ১৪ মার্চ ২০২৬

featured Image

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য এক কঠিন সময় নিয়ে এসেছে। ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি এবং বিদেশের যুদ্ধ থেকে দূরে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও, একের পর এক দেশে সামরিক হস্তক্ষেপ এবং সর্বশেষ ইরানকে লক্ষ্যবস্তু করায় খোদ খোদ আমেরিকানদের মধ্যেই ক্ষোভ দানা বাঁধছে। অধিকাংশ নাগরিক এই যুদ্ধকে অপ্রয়োজনীয় মনে করছেন, যা আসন্ন কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় বিপর্যয়ের সংকেত দিচ্ছে।

বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ থাকলেও তা অত্যন্ত ক্ষীণ। প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ আসনের মধ্যে ২১৮টি এবং সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে ৫৩টি আসন এখন ট্রাম্পের দলের দখলে। আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনে যদি রিপাবলিকানরা এই নিয়ন্ত্রণ হারায়, তবে ট্রাম্পের অনেক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তই স্থবির হয়ে পড়বে। এমনকি ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস প্রেসিডেন্টকে অভিশংসন বা ইমপিচ করার পথেও হাঁটতে পারে। বিশেষ করে সিনেটের ৩৫টি আসনের ফলাফল এই ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

গ্যালাপসহ বিভিন্ন সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যাচ্ছে, ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা এখন মাত্র ৩৬ শতাংশে নেমে এসেছে। এনবিসির জরিপ অনুযায়ী, ৫৪ শতাংশ ভোটার ইরানের বিরুদ্ধে নেওয়া সামরিক পদক্ষেপ প্রত্যাখান করেছেন। আমেরিকানরা এখন কেবল যুদ্ধের জয়-পরাজয় নিয়ে ভাবছেন না; বরং তারা মার্কিন অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ওপর এই যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন। জ্বালানি তেলের দাম এক সপ্তাহে ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়া এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি সাধারণ ভোটারদের ট্রাম্পের ওপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য করছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত টেক্সাসের মতো রাজ্যগুলোতেও পরিবর্তনের হওয়া বইতে শুরু করেছে। সেখানে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে রক্ষণশীল ও মধ্যপন্থী প্রার্থীদের জয় এবং ভোটারদের বিপুল উপস্থিতি ট্রাম্প শিবিরের জন্য অশনিসংকেত। প্রতিদিন এক বিলিয়ন ডলারেরও বেশি খরচ হওয়া এই যুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে এর বিপুল ব্যয় ও অর্থনৈতিক মন্দা ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির অবসান ঘটাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ