ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

দীর্ঘমেয়াদী ইরান যুদ্ধের শঙ্কায় টালমাটাল বিশ্ববাজার, চরম ঝুঁকিতে বাংলাদেশ


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৭ মার্চ ২০২৬

দীর্ঘমেয়াদী ইরান যুদ্ধের শঙ্কায় টালমাটাল বিশ্ববাজার, চরম ঝুঁকিতে বাংলাদেশ
ছবি: সংগৃহীত

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে তেলের দাম প্রায় ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে শুক্রবার ব্যারেলপ্রতি ৯৩ ডলার ছাড়িয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, ২০২৩ সালের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের এমন চড়া দাম আর দেখা যায়নি। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতিকে একটি দীর্ঘমেয়াদী বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জ্বালানি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রাইস্ট্যাড এনার্জির বিশ্লেষক হোর্হে লিওন এই পরিস্থিতিকে বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য একটি বড় ঝুঁকি হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, সরবরাহ ব্যবস্থা দুই সপ্তাহের বেশি বিঘ্নিত হলে এর প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে সংঘাত চার সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নতুন করে অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে। ইতোমধ্যেই ইউরোপের বাজারে গ্যাসের দাম ৩০ শতাংশ বেড়েছে এবং যুক্তরাজ্যে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

জ্বালানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এনার্জি আসপেক্টস-এর প্রতিষ্ঠাতা অম্রিতা সেনের মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের তুলনায় এবারের পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় এক কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়েছে, যা তেলের দামকে দ্রুত তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছে দিতে পারে। কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী সাদ আল-কাবি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো যেকোনো সময় উৎপাদন বন্ধ করে দিতে পারে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, যুদ্ধের কারণে সেই পথ এখন প্রায় রুদ্ধ।

বিশ্ববাজারের এই টালমাটাল পরিস্থিতির আঁচ বাংলাদেশেও লাগতে শুরু করেছে। ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশ আমদানিনির্ভর হওয়ায় দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানির কৃত্রিম সংকট দেখা দিয়েছে এবং তেলের জন্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেক এলাকায় চাহিদামতো তেল না পাওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশে জ্বালানি তেলের মজুত দুই সপ্তাহের নিচে নেমে এসেছে। এই জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার এখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে পরিশোধিত তেল আমদানির বিকল্প পরিকল্পনা করছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বিশ্ববাজারের এই অস্থিরতা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে, যা সামাল দিতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


দীর্ঘমেয়াদী ইরান যুদ্ধের শঙ্কায় টালমাটাল বিশ্ববাজার, চরম ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

প্রকাশের তারিখ : ০৭ মার্চ ২০২৬

featured Image

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে তেলের দাম প্রায় ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে শুক্রবার ব্যারেলপ্রতি ৯৩ ডলার ছাড়িয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, ২০২৩ সালের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের এমন চড়া দাম আর দেখা যায়নি। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতিকে একটি দীর্ঘমেয়াদী বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জ্বালানি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রাইস্ট্যাড এনার্জির বিশ্লেষক হোর্হে লিওন এই পরিস্থিতিকে বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য একটি বড় ঝুঁকি হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, সরবরাহ ব্যবস্থা দুই সপ্তাহের বেশি বিঘ্নিত হলে এর প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে সংঘাত চার সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নতুন করে অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে। ইতোমধ্যেই ইউরোপের বাজারে গ্যাসের দাম ৩০ শতাংশ বেড়েছে এবং যুক্তরাজ্যে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

জ্বালানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এনার্জি আসপেক্টস-এর প্রতিষ্ঠাতা অম্রিতা সেনের মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের তুলনায় এবারের পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় এক কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়েছে, যা তেলের দামকে দ্রুত তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছে দিতে পারে। কাতারের জ্বালানি মন্ত্রী সাদ আল-কাবি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো যেকোনো সময় উৎপাদন বন্ধ করে দিতে পারে। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়, যুদ্ধের কারণে সেই পথ এখন প্রায় রুদ্ধ।

বিশ্ববাজারের এই টালমাটাল পরিস্থিতির আঁচ বাংলাদেশেও লাগতে শুরু করেছে। ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশ আমদানিনির্ভর হওয়ায় দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানির কৃত্রিম সংকট দেখা দিয়েছে এবং তেলের জন্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেক এলাকায় চাহিদামতো তেল না পাওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশে জ্বালানি তেলের মজুত দুই সপ্তাহের নিচে নেমে এসেছে। এই জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার এখন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে পরিশোধিত তেল আমদানির বিকল্প পরিকল্পনা করছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বিশ্ববাজারের এই অস্থিরতা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে, যা সামাল দিতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ