ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

এলএনজি সংকটে গ্যাস-বিদ্যুতে উদ্বেগ


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৬

এলএনজি সংকটে গ্যাস-বিদ্যুতে উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার জেরে কাতারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন সাময়িক বন্ধ হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং এর প্রভাবে বাংলাদেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

ইরানের ড্রোন হামলার পর কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান কাতার এনার্জি এলএনজি উৎপাদন ও রপ্তানি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সময়ে সৌদি আরামকো তাদের বৃহত্তম শোধনাগার রাস তানুরা রিফাইনারি সতর্কতামূলকভাবে বন্ধ রেখেছে। বিশ্বের বড় অংশের তেল ও এলএনজি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতেও জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৪ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২ হাজার ৬৬২ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে আমদানি করা এলএনজি থেকে সরবরাহ হচ্ছে ৯৫২ মিলিয়ন ঘনফুট। বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে এলএনজি সরবরাহ ১ হাজার ৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও আমদানি ব্যাহত হলে তা সম্ভব হবে না।

বিপিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরাসরি প্রভাব পড়বে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে প্রতিদিন ২০০ থেকে ২২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যেতে পারে এবং বর্তমান গড় ৯০০ মিলিয়ন থেকে তা ৭০০ মিলিয়নে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।

চলতি বছর মোট ১১৫টি এলএনজি কার্গো আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে কাতার থেকে ৪০টি ও ওমান থেকে ১৬টি এবং খোলাবাজার থেকে ৫৯টি কার্গো আনার কথা। সংকট তৈরি হলে বিকল্প হিসেবে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানির কথা ভাবা হচ্ছে, তবে সেক্ষেত্রে দাম ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান, চলতি মার্চ মাসে দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির কোনো ঘাটতি হবে না। তবে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বই জ্বালানি সংকটে পড়বে বলে তিনি সতর্ক করেন।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে। দেশে উল্লেখযোগ্য মজুদ না থাকায় দ্রুত বিকল্প উৎস নিশ্চিত করা জরুরি বলে তিনি মত দেন। বর্তমানে দেশে মোট ১ লাখ ৩৬ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেলের মজুদ রয়েছে বলে বিপিসি জানিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


এলএনজি সংকটে গ্যাস-বিদ্যুতে উদ্বেগ

প্রকাশের তারিখ : ০৪ মার্চ ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার জেরে কাতারে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন সাময়িক বন্ধ হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং এর প্রভাবে বাংলাদেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

ইরানের ড্রোন হামলার পর কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান কাতার এনার্জি এলএনজি উৎপাদন ও রপ্তানি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সময়ে সৌদি আরামকো তাদের বৃহত্তম শোধনাগার রাস তানুরা রিফাইনারি সতর্কতামূলকভাবে বন্ধ রেখেছে। বিশ্বের বড় অংশের তেল ও এলএনজি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতেও জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৪ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২ হাজার ৬৬২ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে আমদানি করা এলএনজি থেকে সরবরাহ হচ্ছে ৯৫২ মিলিয়ন ঘনফুট। বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে এলএনজি সরবরাহ ১ হাজার ৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও আমদানি ব্যাহত হলে তা সম্ভব হবে না।

বিপিডিবির সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরাসরি প্রভাব পড়বে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে প্রতিদিন ২০০ থেকে ২২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যেতে পারে এবং বর্তমান গড় ৯০০ মিলিয়ন থেকে তা ৭০০ মিলিয়নে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।

চলতি বছর মোট ১১৫টি এলএনজি কার্গো আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে কাতার থেকে ৪০টি ও ওমান থেকে ১৬টি এবং খোলাবাজার থেকে ৫৯টি কার্গো আনার কথা। সংকট তৈরি হলে বিকল্প হিসেবে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানির কথা ভাবা হচ্ছে, তবে সেক্ষেত্রে দাম ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান, চলতি মার্চ মাসে দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির কোনো ঘাটতি হবে না। তবে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বই জ্বালানি সংকটে পড়বে বলে তিনি সতর্ক করেন।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে। দেশে উল্লেখযোগ্য মজুদ না থাকায় দ্রুত বিকল্প উৎস নিশ্চিত করা জরুরি বলে তিনি মত দেন। বর্তমানে দেশে মোট ১ লাখ ৩৬ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি তেলের মজুদ রয়েছে বলে বিপিসি জানিয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ