ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ড. ইউনূস বনাম মহামান্য: বয়ান যুদ্ধ


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২৬

ড. ইউনূস বনাম মহামান্য: বয়ান যুদ্ধ

বঙ্গভবনের বর্তমান বাসিন্দার একটি সাক্ষাৎকার সম্প্রতি একটি বিশেষ দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে। লেখক মনে করেন, ফ্যাসিবাদী জামানা সম্পর্কে অনভিজ্ঞ পাঠক সেই সাক্ষাৎকার পড়ে ভুল ধারণা পেতে পারেন।

লেখকের মতে, যে পত্রিকাটি মহামান্যকে প্রচার করছে সেটি পতিত ফ্যাসিবাদের সমর্থক একজন অলিগার্কের মালিকানাধীন। জুলাই বিপ্লবের চূড়ান্ত মুহূর্তে সেই অলিগার্ক তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের দরবারে গিয়ে কারফিউ আরও আগে দেওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছিলেন এবং আন্দোলনকারীদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়েছিলেন।

মহামান্যের রাজনৈতিক যাত্রা প্রসঙ্গে লেখক উল্লেখ করেন, ১৯৮২ সালে এরশাদের আমলে বিচার বিভাগে যোগ দেওয়া এই ব্যক্তি ২০০৮ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনে নিয়োগ পান। পরবর্তীতে এস আলমের ছত্রছায়ায় ইসলামী ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান হন এবং একপর্যায়ে বঙ্গভবনের বাসিন্দা হওয়ার সুযোগ পান।

ড. ইউনূস সম্পর্কে লেখক জানান, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট তুরস্কের টিআরটি চ্যানেলে তিনি বলেছিলেন, এই সময়ে সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার মতো ড. ইউনূস ছাড়া দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তি ছিলেন না। তার মতে, ড. ইউনূস না থাকলে দিল্লির এজেন্টরা অনেক আগেই প্রতিবিপ্লব ঘটিয়ে ফেলত।

অন্তর্বর্তী সরকারের উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে লেখক দশটি বিষয় তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে ভারতকে চোখে চোখ রেখে মোকাবিলা, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড প্রদান, গুম কমিশন প্রতিষ্ঠা, আইসিটিকে কার্যকর করা এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনা।

তবে লেখক সমালোচনাও করেন। তার মতে, রাজনীতি ছাড়া রাষ্ট্র চলে না এই সহজ বিষয়টি ড. ইউনূস বুঝতে পারেননি। অন্তর্বর্তী সরকারে বিএনপিপন্থিদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও ড. ইউনূস সেই দলের নির্মম সমালোচনার শিকার হয়েছেন। লেখকের ধারণা, নিজেকে এবং কিছু সহকর্মীকে অরক্ষিত রেখেই তিনি ক্ষমতা ছেড়েছেন।

লেখক শেষে মন্তব্য করেন, এস্টাবলিশমেন্টপন্থি মিডিয়া ইতিমধ্যে মহামান্যের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে তার পত্রিকা সর্বদা ইতিহাস, জুলাই বিপ্লব ও সত্যের পক্ষে অবিচল থাকবে বলে তিনি জানান।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ড. ইউনূস বনাম মহামান্য: বয়ান যুদ্ধ

প্রকাশের তারিখ : ০৪ মার্চ ২০২৬

featured Image

বঙ্গভবনের বর্তমান বাসিন্দার একটি সাক্ষাৎকার সম্প্রতি একটি বিশেষ দৈনিকে প্রকাশিত হয়েছে। লেখক মনে করেন, ফ্যাসিবাদী জামানা সম্পর্কে অনভিজ্ঞ পাঠক সেই সাক্ষাৎকার পড়ে ভুল ধারণা পেতে পারেন।

লেখকের মতে, যে পত্রিকাটি মহামান্যকে প্রচার করছে সেটি পতিত ফ্যাসিবাদের সমর্থক একজন অলিগার্কের মালিকানাধীন। জুলাই বিপ্লবের চূড়ান্ত মুহূর্তে সেই অলিগার্ক তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের দরবারে গিয়ে কারফিউ আরও আগে দেওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেছিলেন এবং আন্দোলনকারীদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়েছিলেন।

মহামান্যের রাজনৈতিক যাত্রা প্রসঙ্গে লেখক উল্লেখ করেন, ১৯৮২ সালে এরশাদের আমলে বিচার বিভাগে যোগ দেওয়া এই ব্যক্তি ২০০৮ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনে নিয়োগ পান। পরবর্তীতে এস আলমের ছত্রছায়ায় ইসলামী ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান হন এবং একপর্যায়ে বঙ্গভবনের বাসিন্দা হওয়ার সুযোগ পান।

ড. ইউনূস সম্পর্কে লেখক জানান, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট তুরস্কের টিআরটি চ্যানেলে তিনি বলেছিলেন, এই সময়ে সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার মতো ড. ইউনূস ছাড়া দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তি ছিলেন না। তার মতে, ড. ইউনূস না থাকলে দিল্লির এজেন্টরা অনেক আগেই প্রতিবিপ্লব ঘটিয়ে ফেলত।

অন্তর্বর্তী সরকারের উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে লেখক দশটি বিষয় তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে ভারতকে চোখে চোখ রেখে মোকাবিলা, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড প্রদান, গুম কমিশন প্রতিষ্ঠা, আইসিটিকে কার্যকর করা এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনা।

তবে লেখক সমালোচনাও করেন। তার মতে, রাজনীতি ছাড়া রাষ্ট্র চলে না এই সহজ বিষয়টি ড. ইউনূস বুঝতে পারেননি। অন্তর্বর্তী সরকারে বিএনপিপন্থিদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও ড. ইউনূস সেই দলের নির্মম সমালোচনার শিকার হয়েছেন। লেখকের ধারণা, নিজেকে এবং কিছু সহকর্মীকে অরক্ষিত রেখেই তিনি ক্ষমতা ছেড়েছেন।

লেখক শেষে মন্তব্য করেন, এস্টাবলিশমেন্টপন্থি মিডিয়া ইতিমধ্যে মহামান্যের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে তার পত্রিকা সর্বদা ইতিহাস, জুলাই বিপ্লব ও সত্যের পক্ষে অবিচল থাকবে বলে তিনি জানান।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ