মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের স্থিতিশীলতা ভেঙে দ্বিতীয় দিনের মতো সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও বাহরাইনে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। আজ রবিবার (১ মার্চ) দুবাই, দোহা এবং মানামায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো অঞ্চল। প্রত্যক্ষদর্শীরা কাতারের রাজধানী দোহার আকাশে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখেছেন, যা এই অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এই হামলার দায় স্বীকার করে জানিয়েছে, শনিবার তাদের ওপর চালানো হামলার প্রতিশোধ নিতেই এই পাল্টা ব্যবস্থা। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরান ১৩৭টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২০৯টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। অন্যদিকে, কাতারে আঘাত হেনেছে ৬৫টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২টি ড্রোন। এই হামলায় এখন পর্যন্ত আবুধাবি বিমানবন্দরে একজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে এবং অন্তত আটজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরানের এই হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা। এর মধ্যে কাতারের আল উদেইদ সামরিক ঘাঁটি অন্যতম, যা যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম ফ্লিটের সদর দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া দুবাই ও আবুধাবির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বাহরাইনের রাজধানী মানামার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। সৌদি আরবের কিছু এলাকাতেও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে।
শনিবার থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের গালফ দেশগুলোর ওপর হামলার মাত্রা বাড়তে শুরু করে। আবুধাবি, কুয়েত ও মানামার নাগরিক অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করায় ওই অঞ্চলের বিমান চলাচল ও স্বাভাবিক জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত আকাশপথ দুবাই ও দোহা রুটে সব ধরনের ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই বাণিজ্যিক শহরগুলোতে ইরানের সরাসরি হামলা পুরো অঞ্চলকে একটি বৃহত্তর ও দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই নজিরবিহীন সংঘাত নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধানে পৌঁছাতে না পারায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও বৈশ্বিক নিরাপত্তায় চরম অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ মার্চ ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের স্থিতিশীলতা ভেঙে দ্বিতীয় দিনের মতো সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও বাহরাইনে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। আজ রবিবার (১ মার্চ) দুবাই, দোহা এবং মানামায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো অঞ্চল। প্রত্যক্ষদর্শীরা কাতারের রাজধানী দোহার আকাশে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখেছেন, যা এই অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এই হামলার দায় স্বীকার করে জানিয়েছে, শনিবার তাদের ওপর চালানো হামলার প্রতিশোধ নিতেই এই পাল্টা ব্যবস্থা। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরান ১৩৭টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২০৯টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। অন্যদিকে, কাতারে আঘাত হেনেছে ৬৫টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২টি ড্রোন। এই হামলায় এখন পর্যন্ত আবুধাবি বিমানবন্দরে একজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে এবং অন্তত আটজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরানের এই হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা। এর মধ্যে কাতারের আল উদেইদ সামরিক ঘাঁটি অন্যতম, যা যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম ফ্লিটের সদর দপ্তর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া দুবাই ও আবুধাবির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বাহরাইনের রাজধানী মানামার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। সৌদি আরবের কিছু এলাকাতেও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে।
শনিবার থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের গালফ দেশগুলোর ওপর হামলার মাত্রা বাড়তে শুরু করে। আবুধাবি, কুয়েত ও মানামার নাগরিক অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করায় ওই অঞ্চলের বিমান চলাচল ও স্বাভাবিক জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত আকাশপথ দুবাই ও দোহা রুটে সব ধরনের ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই বাণিজ্যিক শহরগুলোতে ইরানের সরাসরি হামলা পুরো অঞ্চলকে একটি বৃহত্তর ও দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এই নজিরবিহীন সংঘাত নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধানে পৌঁছাতে না পারায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ও বৈশ্বিক নিরাপত্তায় চরম অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন