ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

'ইবনে সিনা'র নিয়োগে পুরুষ ও মুসলিম শর্ত: হাইকোর্ট-এর রুলে বৈষম্যের প্রশ্ন


প্রকাশ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

'ইবনে সিনা'র নিয়োগে পুরুষ ও মুসলিম শর্ত: হাইকোর্ট-এর রুলে বৈষম্যের প্রশ্ন
ছবি: সংগৃহীত

ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ড্রাস্ট্রি পিএলসি‑র ১লা জানুয়ারি ২০২৬ প্রকাশিত চাকরি বিজ্ঞপ্তি নিয়ে বাংলাদেশের উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) এবার এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাহী ও জ্যেষ্ঠ নির্বাহী (আইনি কার্যক্রম) পদে শুধু পুরুষ ও “প্রাকটিসিং মুসলিম” প্রার্থীদের আবেদন করার শর্ত রাখা হয়েছিল, যা নিয়োগে ধর্ম ও লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য সৃষ্টি করে বলে অভিযোগ ওঠে এবং এর বিরুদ্ধে জনস্বার্থে এক রিট দায়ের করা হয়। হাইকোর্ট মঙ্গলবার এক রুল জারি করে জানতে চেয়েছে কেন ওই শর্তগুলোকে অবৈধ ও সংবিধানবিরোধী ঘোষণা করা হবে না

রিটটি আইনজীবী অনামিকা নাহরিন দায়ের করেন। আদালতের বেঞ্চে ছিলেন জাস্টিস আহমেদ সোহেলজাস্টিস ফাতেমা আনোয়ার। আদালত রুলে নির্দেশ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং ইবনে সিনা‑এর কর্মকর্তারা তিন মাসের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে এবং একই সঙ্গে বৈষম্যহীন নিয়োগ নীতিমালা তৈরি ও বাস্তবায়নের জন্য সরকারের পদক্ষেপের একটি প্রতিবেদনও আদালতে জমা দিতে

রিটে বলা হয়েছে, ওই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্তগুলো শুধু পেশাগত যোগ্যতার সঙ্গে সম্পর্কহীন নয়, বরং বাংলাদেশের সংবিধান তার নাগরিকদের জন্য লিঙ্গ ও ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ করেছে। নাগরিক কোয়ালিশনসহ বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনও এই নিয়োগ শর্ত “অবৈধ ও অযৌক্তিক” বলে সমালোচনা করেছে এবং এটি আন্তর্জাতিক ও জাতীয় শ্রম আইন ও মৌলিক অধিকার নীতির সঙ্গে বিরোধী দাবি করেছে।

হাইকোর্ট রুলে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকেও তদন্ত করে উপযুক্ত প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আদালত জানতে চেয়েছে যে এমন বৈষম্যমূলক নিয়োগ অনুশীলনের ঘটনাকে নিয়ন্ত্রক, প্রশাসনিক বা আইনি মাত্রায় কেন প্রতিরোধ করা হয়নি এবং কেন সব সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার নিয়োগে বৈষম্যহীন নীতিমালা বাধ্যতামূলক করা হবে না।

রিট পক্ষে শুনানি করা ব্যারিস্টার সারা হোসেন আদালতের কাছে বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানে লিঙ্গ বা ধর্মের ভিত্তিতে প্রার্থীদের আবেদন বাধা প্রদান করা “অযৌক্তিক, সংবিধানবিরোধী ও পেশাগত যোগ্যতার সঙ্গে সম্পর্কহীন”। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের শর্ত দেশীয় সংবিধান ও মৌলিক নাগরিক অধিকার, বিশেষ করে সমস্ত নাগরিকের জন্য আইনের সামনে সমতা, লিঙ্গ ও ধর্ম‑ভিত্তিক বৈষম্য বন্ধ ও পেশার স্বাধীনতার গ্যারান্টি, এর বিপরীতে।

হাইকোর্টের রুলটি সামাজিক ও চাকরি ক্ষেত্রের নিয়োগপ্রথায় সমতা ও বৈষম্যহীন নিয়োগ নিশ্চিত করতে বড় ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আদালতের আদেশ অনুযায়ী সরকারের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ ও ইবনে সিনা কর্তৃপক্ষকে আগামী দিনে যে পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তার একটি তথ্যভিত্তিক রিপোর্ট তিন মাসের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের চাকরি বাজারে ধর্ম ও লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যের দিকে নজরদারি আরও কঠোর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আইনজীবী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলি রুলকে ধারণাগতভাবে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন। তারা বলছেন, এটি ধর্ম ও লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য প্রতিরোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা। বিশেষ করে, দেশে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে বৈষম্য বন্ধ করার জন্য এটি প্রসঙ্গত নজির স্থাপন করবে।

ইবনে সিনা নিয়োগ বৈষম্য মামলার হাইকোর্টের রুল কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সংশোধনের বিষয় নয়। এটি দেশের চাকরি ও নিয়োগ ব্যবস্থায় ধর্ম ও লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য রোধের প্রেক্ষাপট তৈরি করছে। সংবিধান, জাতীয় শ্রম আইন এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের আলোকে এই রুল ভবিষ্যতে বৈষম্যহীন চাকরি প্রক্রিয়া গড়ে তুলতে বড় ভূমিকা রাখবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


'ইবনে সিনা'র নিয়োগে পুরুষ ও মুসলিম শর্ত: হাইকোর্ট-এর রুলে বৈষম্যের প্রশ্ন

প্রকাশের তারিখ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ড্রাস্ট্রি পিএলসি‑র ১লা জানুয়ারি ২০২৬ প্রকাশিত চাকরি বিজ্ঞপ্তি নিয়ে বাংলাদেশের উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) এবার এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে নির্বাহী ও জ্যেষ্ঠ নির্বাহী (আইনি কার্যক্রম) পদে শুধু পুরুষ ও “প্রাকটিসিং মুসলিম” প্রার্থীদের আবেদন করার শর্ত রাখা হয়েছিল, যা নিয়োগে ধর্ম ও লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য সৃষ্টি করে বলে অভিযোগ ওঠে এবং এর বিরুদ্ধে জনস্বার্থে এক রিট দায়ের করা হয়। হাইকোর্ট মঙ্গলবার এক রুল জারি করে জানতে চেয়েছে কেন ওই শর্তগুলোকে অবৈধ ও সংবিধানবিরোধী ঘোষণা করা হবে না

রিটটি আইনজীবী অনামিকা নাহরিন দায়ের করেন। আদালতের বেঞ্চে ছিলেন জাস্টিস আহমেদ সোহেলজাস্টিস ফাতেমা আনোয়ার। আদালত রুলে নির্দেশ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং ইবনে সিনা‑এর কর্মকর্তারা তিন মাসের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে এবং একই সঙ্গে বৈষম্যহীন নিয়োগ নীতিমালা তৈরি ও বাস্তবায়নের জন্য সরকারের পদক্ষেপের একটি প্রতিবেদনও আদালতে জমা দিতে

রিটে বলা হয়েছে, ওই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্তগুলো শুধু পেশাগত যোগ্যতার সঙ্গে সম্পর্কহীন নয়, বরং বাংলাদেশের সংবিধান তার নাগরিকদের জন্য লিঙ্গ ও ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ করেছে। নাগরিক কোয়ালিশনসহ বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনও এই নিয়োগ শর্ত “অবৈধ ও অযৌক্তিক” বলে সমালোচনা করেছে এবং এটি আন্তর্জাতিক ও জাতীয় শ্রম আইন ও মৌলিক অধিকার নীতির সঙ্গে বিরোধী দাবি করেছে।

হাইকোর্ট রুলে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকেও তদন্ত করে উপযুক্ত প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আদালত জানতে চেয়েছে যে এমন বৈষম্যমূলক নিয়োগ অনুশীলনের ঘটনাকে নিয়ন্ত্রক, প্রশাসনিক বা আইনি মাত্রায় কেন প্রতিরোধ করা হয়নি এবং কেন সব সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার নিয়োগে বৈষম্যহীন নীতিমালা বাধ্যতামূলক করা হবে না।

রিট পক্ষে শুনানি করা ব্যারিস্টার সারা হোসেন আদালতের কাছে বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানে লিঙ্গ বা ধর্মের ভিত্তিতে প্রার্থীদের আবেদন বাধা প্রদান করা “অযৌক্তিক, সংবিধানবিরোধী ও পেশাগত যোগ্যতার সঙ্গে সম্পর্কহীন”। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের শর্ত দেশীয় সংবিধান ও মৌলিক নাগরিক অধিকার, বিশেষ করে সমস্ত নাগরিকের জন্য আইনের সামনে সমতা, লিঙ্গ ও ধর্ম‑ভিত্তিক বৈষম্য বন্ধ ও পেশার স্বাধীনতার গ্যারান্টি, এর বিপরীতে।

হাইকোর্টের রুলটি সামাজিক ও চাকরি ক্ষেত্রের নিয়োগপ্রথায় সমতা ও বৈষম্যহীন নিয়োগ নিশ্চিত করতে বড় ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আদালতের আদেশ অনুযায়ী সরকারের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ ও ইবনে সিনা কর্তৃপক্ষকে আগামী দিনে যে পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তার একটি তথ্যভিত্তিক রিপোর্ট তিন মাসের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের চাকরি বাজারে ধর্ম ও লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যের দিকে নজরদারি আরও কঠোর হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আইনজীবী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলি রুলকে ধারণাগতভাবে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছেন। তারা বলছেন, এটি ধর্ম ও লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য প্রতিরোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা। বিশেষ করে, দেশে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে বৈষম্য বন্ধ করার জন্য এটি প্রসঙ্গত নজির স্থাপন করবে।

ইবনে সিনা নিয়োগ বৈষম্য মামলার হাইকোর্টের রুল কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সংশোধনের বিষয় নয়। এটি দেশের চাকরি ও নিয়োগ ব্যবস্থায় ধর্ম ও লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য রোধের প্রেক্ষাপট তৈরি করছে। সংবিধান, জাতীয় শ্রম আইন এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের আলোকে এই রুল ভবিষ্যতে বৈষম্যহীন চাকরি প্রক্রিয়া গড়ে তুলতে বড় ভূমিকা রাখবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ