মেক্সিকোর সর্বাধিক কাঙ্ক্ষিত পলাতক আসামি ও দেশটির সবচেয়ে শক্তিশালী মাদক কার্টেলের প্রধান 'এল মেনচো' রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে নিহত হয়েছেন। তার মৃত্যুর পরপরই মেক্সিকোর কমপক্ষে ছয়টি রাজ্যে কার্টেল সদস্যরা ব্যাপক সহিংসতা শুরু করে।
'এল মেনচো' নামে বহুল পরিচিত ৫৯ বছর বয়সী নেমেসিও ওসেগুয়েরা সার্ভান্তেস পশ্চিমাঞ্চলীয় জালিস্কো অঙ্গরাজ্যের তাপালপা শহরে সেনাদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে হেলিকপ্টারে মেক্সিকো সিটিতে স্থানান্তরের চেষ্টা করা হলে পথেই তার মৃত্যু হয়। মেক্সিকোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।
মেক্সিকোর প্রতিরক্ষা সচিবালয় জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেলের (সিজেএনজি) চারজন সদস্য নিহত ও দুইজন গ্রেপ্তার হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর তিন সদস্যও আহত হয়েছেন। জব্দ করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ সাঁজোয়া যান, রকেট লঞ্চার ও আগ্নেয়াস্ত্র।
এল মেনচোর মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর কার্টেল সদস্যরা জালিস্কো, কলিমা, মিচোয়াকান, নায়ারিত, গুয়ানাহুয়াতো ও তামাউলিপাস রাজ্যে প্রধান সড়কে গাড়ি পুড়িয়ে দেয়, অবরোধ সৃষ্টি করে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালায়। দেশজুড়ে প্রায় ২৫০টি সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে, বেশ কয়েকটি রাজ্যে স্কুল বন্ধ ঘোষণা করতে হয়। মেক্সিকোর নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা জানায়, সহিংসতায় ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দোকানপাট ও প্রায় ২০টি ব্যাংক শাখায় হামলার ঘটনা ঘটেছে।
পরিস্থিতির অবনতি দেখে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর মেক্সিকোতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে সতর্কবার্তা জারি করে। একাধিক বিমান সংস্থা মেক্সিকোগামী ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়।
সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা থেকে মাদকসম্রাট বনে যাওয়া এল মেনচো ২০০৭ সালে সিজেএনজি কার্টেল গঠন করেন। মার্কিন তদন্ত সংস্থা ডিইএ ও এফবিআই-এর তথ্য অনুযায়ী, এই কার্টেলই মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন, মেথামফেটামিন এবং প্রাণঘাতী ফেন্টানিল পাচারের মূল হোতা ছিল। তার অবস্থানের তথ্য দিলে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, এল মেনচোর সুস্পষ্ট কোনো উত্তরসূরি না থাকায় কার্টেলের আঞ্চলিক নেতাদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব শুরু হতে পারে এবং সহিংসতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মেক্সিকোর সর্বাধিক কাঙ্ক্ষিত পলাতক আসামি ও দেশটির সবচেয়ে শক্তিশালী মাদক কার্টেলের প্রধান 'এল মেনচো' রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে নিহত হয়েছেন। তার মৃত্যুর পরপরই মেক্সিকোর কমপক্ষে ছয়টি রাজ্যে কার্টেল সদস্যরা ব্যাপক সহিংসতা শুরু করে।
'এল মেনচো' নামে বহুল পরিচিত ৫৯ বছর বয়সী নেমেসিও ওসেগুয়েরা সার্ভান্তেস পশ্চিমাঞ্চলীয় জালিস্কো অঙ্গরাজ্যের তাপালপা শহরে সেনাদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে হেলিকপ্টারে মেক্সিকো সিটিতে স্থানান্তরের চেষ্টা করা হলে পথেই তার মৃত্যু হয়। মেক্সিকোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।
মেক্সিকোর প্রতিরক্ষা সচিবালয় জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেলের (সিজেএনজি) চারজন সদস্য নিহত ও দুইজন গ্রেপ্তার হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর তিন সদস্যও আহত হয়েছেন। জব্দ করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ সাঁজোয়া যান, রকেট লঞ্চার ও আগ্নেয়াস্ত্র।
এল মেনচোর মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর কার্টেল সদস্যরা জালিস্কো, কলিমা, মিচোয়াকান, নায়ারিত, গুয়ানাহুয়াতো ও তামাউলিপাস রাজ্যে প্রধান সড়কে গাড়ি পুড়িয়ে দেয়, অবরোধ সৃষ্টি করে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালায়। দেশজুড়ে প্রায় ২৫০টি সড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটে, বেশ কয়েকটি রাজ্যে স্কুল বন্ধ ঘোষণা করতে হয়। মেক্সিকোর নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা জানায়, সহিংসতায় ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দোকানপাট ও প্রায় ২০টি ব্যাংক শাখায় হামলার ঘটনা ঘটেছে।
পরিস্থিতির অবনতি দেখে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর মেক্সিকোতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে সতর্কবার্তা জারি করে। একাধিক বিমান সংস্থা মেক্সিকোগামী ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়।
সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা থেকে মাদকসম্রাট বনে যাওয়া এল মেনচো ২০০৭ সালে সিজেএনজি কার্টেল গঠন করেন। মার্কিন তদন্ত সংস্থা ডিইএ ও এফবিআই-এর তথ্য অনুযায়ী, এই কার্টেলই মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন, মেথামফেটামিন এবং প্রাণঘাতী ফেন্টানিল পাচারের মূল হোতা ছিল। তার অবস্থানের তথ্য দিলে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম জনগণকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, এল মেনচোর সুস্পষ্ট কোনো উত্তরসূরি না থাকায় কার্টেলের আঞ্চলিক নেতাদের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব শুরু হতে পারে এবং সহিংসতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন