ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ট্রাম্পকে আর চান না ৬০ শতাংশ মার্কিনি, শুল্কনীতিতে ব্যাপক অসন্তোষ


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ট্রাম্পকে আর চান না ৬০ শতাংশ মার্কিনি, শুল্কনীতিতে ব্যাপক অসন্তোষ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতিমালার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে। এবিসি নিউজ, ওয়াশিংটন পোস্ট ও Ipsos'-এর KnowledgePanel পদ্ধতিতে পরিচালিত ওই সমীক্ষায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৬০ শতাংশ মানুষ চান ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা থেকে সরে যাক। 

সমীক্ষার বিভিন্ন সূচকে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার ব্যাপক পতন উঠে এসেছে। দেশের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ অর্থাৎ প্রায় ৬৫ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতি রোধে ট্রাম্পের নীতির বিরোধিতা করেছেন। আমদানিকৃত পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের বিরোধিতায় সরব ৬৪ শতাংশ এবং ৬২ শতাংশ মানুষ ট্রাম্পের বৈদেশিক নীতিকে ভুল বলে মনে করেন। এছাড়া ৫৮ শতাংশ মানুষ অভিবাসন ইস্যুতে এবং ৫৭ শতাংশ মনে করেন ট্রাম্প সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছেন। 

'মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন' স্লোগান নিয়ে ক্ষমতায় আসা ট্রাম্পের ওপর শুরুতে জনগণের আস্থা থাকলেও মাত্রাতিরিক্ত আমদানি শুল্কের কারণে সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতি এবং বহু পণ্যের দাম দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় ধীরে ধীরে সেই আস্থা তলানিতে পৌঁছেছে। 

দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ১৩ মাসে ট্রাম্পের এজেন্ডায় অভ্যন্তরীণ ইস্যুর চেয়ে পররাষ্ট্রনীতি এবং সামরিক শক্তির ব্যবহারই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে বিশাল সামরিক বহর পাঠিয়েছেন এবং ইরানের ওপর কয়েক সপ্তাহব্যাপী বিমান হামলার প্রস্তুতি নিয়েছেন। অথচ জনমত জরিপ বলছে, সাধারণ মার্কিনিদের কাছে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। 

তবে ট্রাম্পের ওপর বিরক্ত হলেও ডেমোক্র্যাটদের প্রতিও বিশেষ আস্থা নেই মার্কিনিদের। জরিপে কাকে বেশি বিশ্বাস করেন জানতে চাইলে ৩৩ শতাংশ ট্রাম্পের পক্ষে, ৩১ শতাংশ ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে এবং অপর ৩১ শতাংশ কোনো পক্ষেই আস্থা রাখেন না বলে জানিয়েছেন। 

আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নির্ধারিত হবে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে। কোনো একটি কক্ষও যদি ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যায়, তবে ট্রাম্পের বাকি শাসনকাল চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। 

এদিকে শুল্ক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়কে কেন্দ্র করে। সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের বৈশ্বিক পাল্টা শুল্ক আরোপের পদক্ষেপ বাতিল করে রায় দেন এবং বলেন, অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা-সংক্রান্ত আইনের আওতায় উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ করে প্রেসিডেন্ট তার ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। রায়ের কয়েক ঘণ্টার মাথায় সব দেশের পণ্যের ওপর ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার ঘোষণা দেন ট্রাম্প এবং পরে তা আরও ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা দেন, যা ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। 

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ট্রাম্পকে আর চান না ৬০ শতাংশ মার্কিনি, শুল্কনীতিতে ব্যাপক অসন্তোষ

প্রকাশের তারিখ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতিমালার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে। এবিসি নিউজ, ওয়াশিংটন পোস্ট ও Ipsos'-এর KnowledgePanel পদ্ধতিতে পরিচালিত ওই সমীক্ষায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৬০ শতাংশ মানুষ চান ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা থেকে সরে যাক। 

সমীক্ষার বিভিন্ন সূচকে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার ব্যাপক পতন উঠে এসেছে। দেশের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ অর্থাৎ প্রায় ৬৫ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতি রোধে ট্রাম্পের নীতির বিরোধিতা করেছেন। আমদানিকৃত পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের বিরোধিতায় সরব ৬৪ শতাংশ এবং ৬২ শতাংশ মানুষ ট্রাম্পের বৈদেশিক নীতিকে ভুল বলে মনে করেন। এছাড়া ৫৮ শতাংশ মানুষ অভিবাসন ইস্যুতে এবং ৫৭ শতাংশ মনে করেন ট্রাম্প সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছেন। 

'মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন' স্লোগান নিয়ে ক্ষমতায় আসা ট্রাম্পের ওপর শুরুতে জনগণের আস্থা থাকলেও মাত্রাতিরিক্ত আমদানি শুল্কের কারণে সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতি এবং বহু পণ্যের দাম দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় ধীরে ধীরে সেই আস্থা তলানিতে পৌঁছেছে। 

দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ১৩ মাসে ট্রাম্পের এজেন্ডায় অভ্যন্তরীণ ইস্যুর চেয়ে পররাষ্ট্রনীতি এবং সামরিক শক্তির ব্যবহারই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে বিশাল সামরিক বহর পাঠিয়েছেন এবং ইরানের ওপর কয়েক সপ্তাহব্যাপী বিমান হামলার প্রস্তুতি নিয়েছেন। অথচ জনমত জরিপ বলছে, সাধারণ মার্কিনিদের কাছে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ করা এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। 

তবে ট্রাম্পের ওপর বিরক্ত হলেও ডেমোক্র্যাটদের প্রতিও বিশেষ আস্থা নেই মার্কিনিদের। জরিপে কাকে বেশি বিশ্বাস করেন জানতে চাইলে ৩৩ শতাংশ ট্রাম্পের পক্ষে, ৩১ শতাংশ ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে এবং অপর ৩১ শতাংশ কোনো পক্ষেই আস্থা রাখেন না বলে জানিয়েছেন। 

আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নির্ধারিত হবে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে। কোনো একটি কক্ষও যদি ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যায়, তবে ট্রাম্পের বাকি শাসনকাল চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। 

এদিকে শুল্ক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়কে কেন্দ্র করে। সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের বৈশ্বিক পাল্টা শুল্ক আরোপের পদক্ষেপ বাতিল করে রায় দেন এবং বলেন, অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থা-সংক্রান্ত আইনের আওতায় উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ করে প্রেসিডেন্ট তার ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। রায়ের কয়েক ঘণ্টার মাথায় সব দেশের পণ্যের ওপর ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার ঘোষণা দেন ট্রাম্প এবং পরে তা আরও ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ঘোষণা দেন, যা ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। 


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ