নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশে নবগঠিত বিএনপি সরকারের জন্য স্থবির অর্থনীতি সচল করা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বিশাল বেকারত্ব দূর করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন সরকারের প্রতি জনসমর্থনের স্থায়িত্ব নির্ভর করবে মূলত দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং প্রধান অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে স্থিতিশীল কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর।
অর্থনৈতিক মন্দা ও প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের বরাতে জানা যায়, এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউট আয়োজিত এক ওয়েবিনারে বক্তারা বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩.৭ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের বছরগুলোতে গড়ে ৬ থেকে ৭ শতাংশের ঘরে ছিল। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক মন্দার প্রভাবে এই নিম্নমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে। তবে আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৪.৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
পোশাক খাত ও এলডিসি উত্তরণের ঝুঁকি অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগামী নভেম্বরে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ ঘটালে বাণিজ্য সুবিধায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। এর ফলে রপ্তানি আয়ে প্রায় ১৪ শতাংশ পর্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বর্তমানে শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করলেও উত্তরণের পর তৈরি পোশাক খাতে ভিয়েতনাম ও ভারতের মতো দেশগুলোর সঙ্গে সরাসরি কঠোর প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে বাংলাদেশ। রেটিং সংস্থা মোডি’স জানিয়েছে, নীতিগত অস্পষ্টতা ও পোশাক খাতের বিক্ষোভের কারণে বিনিয়োগে স্থবিরতা বিরাজ করছে।
তরুণদের কর্মসংস্থান ও জনসমর্থন ‘কাউন্টার পয়েন্টের’ সম্পাদক জাফর সোবহান বলেন, তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান সৃষ্টিই ছিল গত আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি। নতুন সরকার বর্তমানে ব্যাপক জনসমর্থন পেলেও আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, টাকার মান স্থিতিশীল রাখা এবং খেলাপি ঋণ কমাতে না পারলে এই সমর্থন দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। তবে নতুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের অভিজ্ঞতা এই সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত শহীদ আখতার।
ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বিশ্লেষকরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনা দেখছেন। শেখ হাসিনার পতন ও ভারতে তাঁর আশ্রয় গ্রহণকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া টানাপোড়েন কাটিয়ে ওঠা নতুন সরকারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। ও.পি. জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্তের মতে, উভয় দেশের অভিন্ন স্বার্থের জায়গাগুলোতে কাজ করার প্রচুর সুযোগ রয়েছে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদার করবে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশে নবগঠিত বিএনপি সরকারের জন্য স্থবির অর্থনীতি সচল করা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বিশাল বেকারত্ব দূর করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন সরকারের প্রতি জনসমর্থনের স্থায়িত্ব নির্ভর করবে মূলত দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং প্রধান অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে স্থিতিশীল কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর।
অর্থনৈতিক মন্দা ও প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের বরাতে জানা যায়, এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউট আয়োজিত এক ওয়েবিনারে বক্তারা বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩.৭ শতাংশে নেমে এসেছে, যা আগের বছরগুলোতে গড়ে ৬ থেকে ৭ শতাংশের ঘরে ছিল। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক মন্দার প্রভাবে এই নিম্নমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে। তবে আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৪.৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
পোশাক খাত ও এলডিসি উত্তরণের ঝুঁকি অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগামী নভেম্বরে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ ঘটালে বাণিজ্য সুবিধায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। এর ফলে রপ্তানি আয়ে প্রায় ১৪ শতাংশ পর্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বর্তমানে শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করলেও উত্তরণের পর তৈরি পোশাক খাতে ভিয়েতনাম ও ভারতের মতো দেশগুলোর সঙ্গে সরাসরি কঠোর প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে বাংলাদেশ। রেটিং সংস্থা মোডি’স জানিয়েছে, নীতিগত অস্পষ্টতা ও পোশাক খাতের বিক্ষোভের কারণে বিনিয়োগে স্থবিরতা বিরাজ করছে।
তরুণদের কর্মসংস্থান ও জনসমর্থন ‘কাউন্টার পয়েন্টের’ সম্পাদক জাফর সোবহান বলেন, তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান সৃষ্টিই ছিল গত আন্দোলনের মূল চালিকাশক্তি। নতুন সরকার বর্তমানে ব্যাপক জনসমর্থন পেলেও আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, টাকার মান স্থিতিশীল রাখা এবং খেলাপি ঋণ কমাতে না পারলে এই সমর্থন দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। তবে নতুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের অভিজ্ঞতা এই সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত শহীদ আখতার।
ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বিশ্লেষকরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনা দেখছেন। শেখ হাসিনার পতন ও ভারতে তাঁর আশ্রয় গ্রহণকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া টানাপোড়েন কাটিয়ে ওঠা নতুন সরকারের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। ও.পি. জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্তের মতে, উভয় দেশের অভিন্ন স্বার্থের জায়গাগুলোতে কাজ করার প্রচুর সুযোগ রয়েছে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদার করবে।

আপনার মতামত লিখুন