বৈশ্বিক কাঁচামাল প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান সুসংগত করতে এবং ক্রমবর্ধমান ইস্পাত চাহিদা পূরণে ব্রাজিলের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ চুক্তি সই করেছে ভারত।
নয়াদিল্লি: শিল্পায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে খনিজ সম্পদ ও খননখাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্রাজিলের সঙ্গে চুক্তি সই করেছে ভারত। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দ্য সিলভার উপস্থিতিতে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চলতি সপ্তাহের শুরুতে লুলা ভারতে পৌঁছান।
ভারত সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ব্রাজিল বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ লৌহ আকরিক উৎপাদনকারী দেশ। ইস্পাত তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন খনিজের বিশাল মজুদ রয়েছে দেশটিতে। এই চুক্তির ফলে ভারতের ইস্পাত শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সরবরাহ এবং উন্নত প্রযুক্তি প্রাপ্তি আরও সহজ হবে। বিশেষ করে খনিজ অনুসন্ধান, খনন এবং ইস্পাত খাতের অবকাঠামোয় বিনিয়োগ আকর্ষণ এই চুক্তির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
বর্তমানে ভারতের বার্ষিক ইস্পাত উৎপাদন সক্ষমতা ২১৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন। অভ্যন্তরীণ চাহিদা দ্রুত বাড়তে থাকায় দেশটির বড় কোম্পানিগুলো উৎপাদন সক্ষমতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এই প্রেক্ষাপটে ব্রাজিলের সঙ্গে এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব ভারতের শিল্প খাতের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ব্রাজিলীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “ভারত ও ব্রাজিলের মধ্যকার বর্তমান বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার। আমরা আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই বাণিজ্যকে ২০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
খনিজ খাত ছাড়াও প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং সেমিকন্ডাক্টর নির্মাণের মতো আধুনিক ক্ষেত্রগুলোতে দুই দেশ একে অপরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সাল থেকে ভারত ও ব্রাজিল কৌশলগত অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতের পাশাপাশি জাতিসংঘ সংস্কার, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং সন্ত্রাসবাদ দমনেও দেশ দুটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে অভিন্ন অবস্থান বজায় রাখে। লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে বর্তমানে ব্রাজিলই ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৈশ্বিক কাঁচামাল প্রতিযোগিতায় নিজেদের অবস্থান সুসংগত করতে এবং ক্রমবর্ধমান ইস্পাত চাহিদা পূরণে ব্রাজিলের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ চুক্তি সই করেছে ভারত।
নয়াদিল্লি: শিল্পায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে খনিজ সম্পদ ও খননখাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্রাজিলের সঙ্গে চুক্তি সই করেছে ভারত। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দ্য সিলভার উপস্থিতিতে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চলতি সপ্তাহের শুরুতে লুলা ভারতে পৌঁছান।
ভারত সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ব্রাজিল বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ লৌহ আকরিক উৎপাদনকারী দেশ। ইস্পাত তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন খনিজের বিশাল মজুদ রয়েছে দেশটিতে। এই চুক্তির ফলে ভারতের ইস্পাত শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সরবরাহ এবং উন্নত প্রযুক্তি প্রাপ্তি আরও সহজ হবে। বিশেষ করে খনিজ অনুসন্ধান, খনন এবং ইস্পাত খাতের অবকাঠামোয় বিনিয়োগ আকর্ষণ এই চুক্তির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
বর্তমানে ভারতের বার্ষিক ইস্পাত উৎপাদন সক্ষমতা ২১৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন। অভ্যন্তরীণ চাহিদা দ্রুত বাড়তে থাকায় দেশটির বড় কোম্পানিগুলো উৎপাদন সক্ষমতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এই প্রেক্ষাপটে ব্রাজিলের সঙ্গে এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব ভারতের শিল্প খাতের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ব্রাজিলীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “ভারত ও ব্রাজিলের মধ্যকার বর্তমান বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার। আমরা আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই বাণিজ্যকে ২০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছাড়িয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
খনিজ খাত ছাড়াও প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং সেমিকন্ডাক্টর নির্মাণের মতো আধুনিক ক্ষেত্রগুলোতে দুই দেশ একে অপরের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সাল থেকে ভারত ও ব্রাজিল কৌশলগত অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতের পাশাপাশি জাতিসংঘ সংস্কার, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং সন্ত্রাসবাদ দমনেও দেশ দুটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে অভিন্ন অবস্থান বজায় রাখে। লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে বর্তমানে ব্রাজিলই ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার।

আপনার মতামত লিখুন