দেশের অর্থনীতিতে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতির চাপ ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। রপ্তানি আয় সামান্য কমলেও আমদানির ব্যয় পাল্লা দিয়ে বাড়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্য (বিওপি) সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এই উদ্বেগের চিত্র ফুটে উঠেছে।
শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৫৫ কোটি ৪০ লাখ ডলারে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৯৭৬ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ১৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ৩ হাজার ৩৬৮ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫ শতাংশ বেশি। এর প্রধান কারণ হিসেবে রমজান মাস সামনে রেখে ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল ও খেজুরের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি আমদানি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও কাঁচামালের উচ্চমূল্যকে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিপরীতে, আলোচ্য সময়ে রপ্তানি আয় হয়েছে ২ হাজার ২১২ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কম।
তবে অর্থনীতির জন্য স্বস্তির খবর হলো প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের উচ্চ প্রবৃদ্ধি। অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে প্রবাসীরা ১ হাজার ৬২৬ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেশি। এর পাশাপাশি দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) ৫৫ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ৮২ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। সামগ্রিক লেনদেনের ভারসাম্যও (ওভারঅল ব্যালেন্স) ১৯৪ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত রয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন যে, নিয়মিত পণ্য বাণিজ্যের এই ধারাবাহিক ঘাটতি দীর্ঘমেয়াদে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং টাকার বিনিময় হারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে পুঁজিবাজার থেকে বিদেশি বিনিয়োগ বা পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট চলে যাওয়ার প্রবণতা (ঋণাত্মক ১০ কোটি ডলার) আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দেশের অর্থনীতিতে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতির চাপ ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে। রপ্তানি আয় সামান্য কমলেও আমদানির ব্যয় পাল্লা দিয়ে বাড়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্য (বিওপি) সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এই উদ্বেগের চিত্র ফুটে উঠেছে।
শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৫৫ কোটি ৪০ লাখ ডলারে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৯৭৬ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ১৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ৩ হাজার ৩৬৮ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫ শতাংশ বেশি। এর প্রধান কারণ হিসেবে রমজান মাস সামনে রেখে ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল ও খেজুরের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি আমদানি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও কাঁচামালের উচ্চমূল্যকে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিপরীতে, আলোচ্য সময়ে রপ্তানি আয় হয়েছে ২ হাজার ২১২ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কম।
তবে অর্থনীতির জন্য স্বস্তির খবর হলো প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের উচ্চ প্রবৃদ্ধি। অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে প্রবাসীরা ১ হাজার ৬২৬ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ বেশি। এর পাশাপাশি দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) ৫৫ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ৮২ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। সামগ্রিক লেনদেনের ভারসাম্যও (ওভারঅল ব্যালেন্স) ১৯৪ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত রয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন যে, নিয়মিত পণ্য বাণিজ্যের এই ধারাবাহিক ঘাটতি দীর্ঘমেয়াদে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং টাকার বিনিময় হারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে পুঁজিবাজার থেকে বিদেশি বিনিয়োগ বা পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট চলে যাওয়ার প্রবণতা (ঋণাত্মক ১০ কোটি ডলার) আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং অপ্রয়োজনীয় আমদানি নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন