রমজান মাসে দীর্ঘ সময় না খেয়ে রোজা রাখা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। দীর্ঘ সময় পানাহার থেকে বিরত থাকা, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন এবং ঘুমের অনিয়ম রক্তে শর্করার মাত্রায় ওঠানামা ঘটাতে পারে, যা ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য বিশেষ সতর্কতার বিষয় বলে চিকিৎসকেরা সতর্ক করে জানাচ্ছেন।
সাহ্রি রোজার পূর্বে ভোরে খাওয়া খাবার ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। জ্যেষ্ঠ পুষ্টি কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, সাহ্রির খাবার হাই‑প্রোটিন, হাই‑ফাইবার ও লো‑গ্লাইসেমিক সূচকের কার্বোহাইড্রেট দিয়ে তৈরি হওয়া উচিত। পাশাপাশি সাহ্রি শেষ সময়ের ১০‑১৫ মিনিটের মধ্যে শেষ করা এবং মাঝরাতে তাড়াহুড়া করে খাওয়া থেকে বিরত থাকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফাইবার ও প্রোটিন‑সমৃদ্ধ খাবার রক্তে গ্লুকোজের স্তর ধীরে ধীরে স্থিতিশীল রাখে, ফলে রোজার সময় শরীরে শক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে। তারা পরামর্শ দেন এমন খাবার বেছে নিতে যা সহজেই হজম হয় ও শরীরকে লম্বা সময় ধরে পূর্ণ রাখে। ডায়াবেটিকদের জন্য বিরিয়ানি, পোলাও বা খিচুড়ির মতো উচ্চ কার্বোহাইড্রেটযুক্ত ও তেল‑চর্বিযুক্ত খাদ্য পরিহার করা উচিত, কারণ এসব খাবার শরীরে পানি ও গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বাড়ায়।
সাহ্রির সময় ডায়াবেটিক রোগীদের প্রোটিনের উৎস যেমন মাছ, ডাল এবং ঘন দই খেতে বলা হচ্ছে কারণ এসব খাদ্য শরীরকে প্রোটিন প্রদান করে এবং দ্রুত পানিশূন্যতা বা শক্তির পতন প্রতিরোধে সাহায্য করে। পাশাপাশি চিকিৎসকেরা সাধারণ ডায়াবেটিক রোগীরা সাহ্রি না খেয়ে রোজা রাখলে দিনে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে বলে সতর্ক করে থাকেন।
সম্প্রতি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা রোজা ও সাহ্রি পরিকল্পনার সময় ফাইবার‑সমৃদ্ধ শস্য, শাকসবজি, বাদাম ও কম‑গ্লাইসেমিক ফল গুরুত্বসহকারে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন। এই ধরনের খাবার রক্তে শর্করার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং দেহে পরিপুষ্টিও দেয়।
বিশেষজ্ঞরা পাশাপাশি ডায়াবেটিক রোগীদেরকে ফ্রাইড খাবার ও চিনিযুক্ত পানীয় থেকে বিরত থাকতে বলেন। এগুলো রক্তে শর্করা ও পেটের অজান্তে সমস্যা তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে রমজানের দীর্ঘ সময়ের রোজায়।
ডায়াবেটিক রোগীরা রোজা পালন করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে ডাক্তারি পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা, বিশেষ করে যারা ইনসুলিন বা ওষুধ‑ভিত্তিক চিকিৎসায় থাকেন তাদের ক্ষেত্রে। সঠিক খাদ্য পরিকল্পনা ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ডায়াবেটিক রোগীরা স্বাস্থ্যবানভাবে রোজা পালন করতে পারবেন বলে অভিজ্ঞরা মনে করেন।
আপনার মতামত লিখুন