ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলতেও স্বামীর অনুমতি লাগবে আফগান নারীদের


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলতেও স্বামীর অনুমতি লাগবে আফগান নারীদের

আফগানিস্তানে ক্ষমতাসীন তালেবান সরকার নতুন দণ্ডবিধি (Penal Code) জারি করে নারীর প্রতি শারীরিক নির্যাতন ও পারিবারিক সহিংসতার বিষয়ে ব্যপক চাপ সৃষ্টি করেছে। নতুন আইন অনুযায়ী, শারীরিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে হলে নারীদের পুরুষ মাহরাম (স্বামী বা অভিভাবক)‑এর অনুমতি ও সহিত আদালতে উপস্থিত হতে হবে, এমন শর্ত সংযোজিত হয়েছে, যা অভিযোগ দায়েরের পথকে আরো কঠিন করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো এই পরিবর্তনকে নারীর আইনি নিরাপত্তা ও মানবাধিকারের গোঁড়া হ্রাস হিসেবে ঘোষণা করেছে।

নতুন এই আইন অনুযায়ী স্বামী বা পিতা হিসেবে পুরুষরা তাদের স্ত্রী বা সন্তানদের শাস্তি হিসেবে শারীরিকভাবে মারাধর করতে পারবেন যাহা “হাড় ভাঙা বা গুরুতর জখম” পর্যন্ত না হয়, এবং সেটাই অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না। এর ফলে ঘরোয়া সহিংসতাকে কার্যত আইনগত বৈধতা দিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মন্তব্য করছেন।

নিয়মে আরও বলা হয়েছে, যদি মারধরে গুরুতর আঘাত বা হাড় ভাঙার মতো প্রমাণ পাওয়া যায়, তখন অভিযুক্ত স্বামী সর্বোচ্চ ১৫ দিনের কারাদণ্ড পেতে পারেন যা অনেক সমালোচকের মতে অসন্তোষজনকভাবে কম শাস্তি। পাশাপাশি, নারীদের পুরুষ মাহরাম ছাড়া আদালতে যাওয়ার অনুমতি নেই, যার ফলে অভিযোগ দায়েরের আইনি পথকে জটিল করা হয়েছে।

আইনের সমস্যাটি শুধু বিচার প্রক্রিয়ার শর্তে সীমাবদ্ধ নয়। আন্তর্জাতিক সংবাদে বলা হয়েছে যে নতুন কোডে নারীদের সামাজিক ও আইনি অবস্থানকে “দাস বা স্বত্বাধিকারী বস্তুতে” পরিণত করার মতো ধারা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যেখানে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রমাণ করা প্রায় অসম্ভব। নারীকে নিজেই তার আঘাতের প্রমাণ যেমন আঘাতের চিহ্ন জামিন বা সাক্ষ্য হিসেবে আদালতে দেখাতে বাধ্য করা হয়েছে, এবং তাকে পুরুষের সঙ্গে প্রবেশ করতে বলা হয়েছে, এমনকি সেই পুরুষই যদি অভিযুক্ত হয়।

নতুন দণ্ডবিধি ৯০ পাতার একটি নথি, যেটি তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা স্বাক্ষর করেছেন এবং তা দেশব্যাপী কার্যকর হয়েছে। এর সাথে নারীদের উপর শারীরিক সহিংসতার শাস্তি কমানোর পাশাপাশি তাদের স্বাধিকার ও চলাফেরার স্বাধীনতা নিয়েও কঠোর বিধান আরোপ করা হয়েছে, যেমন স্বামী‑অভিভাবক অনুমতি ছাড়া আত্মীয়দের বাড়িতে যাওয়াকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

এই পরিবর্তনকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো বিশ্বের অন্যতম নারীর অধিকার সংকট হিসেবে বিবেচনা করেছে। বিভিন্ন গ্রুপ ও বিশেষজ্ঞরা এটিকে মানবাধিকার লঙ্ঘন, পারিবারিক সহিংসতার বৈধকরণ এবং নারীর স্বাধীনতা ও আইনি সুরক্ষার বড় ধরনের ব্যাঘাত হিসেবে সমালোচনা করেছেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর প্রতিক্রিয়ার আবেদন জানিয়েছেন। 

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলতেও স্বামীর অনুমতি লাগবে আফগান নারীদের

প্রকাশের তারিখ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

আফগানিস্তানে ক্ষমতাসীন তালেবান সরকার নতুন দণ্ডবিধি (Penal Code) জারি করে নারীর প্রতি শারীরিক নির্যাতন ও পারিবারিক সহিংসতার বিষয়ে ব্যপক চাপ সৃষ্টি করেছে। নতুন আইন অনুযায়ী, শারীরিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে হলে নারীদের পুরুষ মাহরাম (স্বামী বা অভিভাবক)‑এর অনুমতি ও সহিত আদালতে উপস্থিত হতে হবে, এমন শর্ত সংযোজিত হয়েছে, যা অভিযোগ দায়েরের পথকে আরো কঠিন করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো এই পরিবর্তনকে নারীর আইনি নিরাপত্তা ও মানবাধিকারের গোঁড়া হ্রাস হিসেবে ঘোষণা করেছে।

নতুন এই আইন অনুযায়ী স্বামী বা পিতা হিসেবে পুরুষরা তাদের স্ত্রী বা সন্তানদের শাস্তি হিসেবে শারীরিকভাবে মারাধর করতে পারবেন যাহা “হাড় ভাঙা বা গুরুতর জখম” পর্যন্ত না হয়, এবং সেটাই অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না। এর ফলে ঘরোয়া সহিংসতাকে কার্যত আইনগত বৈধতা দিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মন্তব্য করছেন।

নিয়মে আরও বলা হয়েছে, যদি মারধরে গুরুতর আঘাত বা হাড় ভাঙার মতো প্রমাণ পাওয়া যায়, তখন অভিযুক্ত স্বামী সর্বোচ্চ ১৫ দিনের কারাদণ্ড পেতে পারেন যা অনেক সমালোচকের মতে অসন্তোষজনকভাবে কম শাস্তি। পাশাপাশি, নারীদের পুরুষ মাহরাম ছাড়া আদালতে যাওয়ার অনুমতি নেই, যার ফলে অভিযোগ দায়েরের আইনি পথকে জটিল করা হয়েছে।

আইনের সমস্যাটি শুধু বিচার প্রক্রিয়ার শর্তে সীমাবদ্ধ নয়। আন্তর্জাতিক সংবাদে বলা হয়েছে যে নতুন কোডে নারীদের সামাজিক ও আইনি অবস্থানকে “দাস বা স্বত্বাধিকারী বস্তুতে” পরিণত করার মতো ধারা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যেখানে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রমাণ করা প্রায় অসম্ভব। নারীকে নিজেই তার আঘাতের প্রমাণ যেমন আঘাতের চিহ্ন জামিন বা সাক্ষ্য হিসেবে আদালতে দেখাতে বাধ্য করা হয়েছে, এবং তাকে পুরুষের সঙ্গে প্রবেশ করতে বলা হয়েছে, এমনকি সেই পুরুষই যদি অভিযুক্ত হয়।

নতুন দণ্ডবিধি ৯০ পাতার একটি নথি, যেটি তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা স্বাক্ষর করেছেন এবং তা দেশব্যাপী কার্যকর হয়েছে। এর সাথে নারীদের উপর শারীরিক সহিংসতার শাস্তি কমানোর পাশাপাশি তাদের স্বাধিকার ও চলাফেরার স্বাধীনতা নিয়েও কঠোর বিধান আরোপ করা হয়েছে, যেমন স্বামী‑অভিভাবক অনুমতি ছাড়া আত্মীয়দের বাড়িতে যাওয়াকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

এই পরিবর্তনকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো বিশ্বের অন্যতম নারীর অধিকার সংকট হিসেবে বিবেচনা করেছে। বিভিন্ন গ্রুপ ও বিশেষজ্ঞরা এটিকে মানবাধিকার লঙ্ঘন, পারিবারিক সহিংসতার বৈধকরণ এবং নারীর স্বাধীনতা ও আইনি সুরক্ষার বড় ধরনের ব্যাঘাত হিসেবে সমালোচনা করেছেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর প্রতিক্রিয়ার আবেদন জানিয়েছেন। 


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ