ভঙ্গুর সামষ্টিক অর্থনীতি, বিনিয়োগ মন্দা এবং কর্মসংস্থান সংকটকে নতুন সরকারের জন্য প্রধান অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করেছে এসডিজি বাস্তবায়নে সিটিজেন প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটি জানায়, বিগত সরকারগুলোর আমলের কাঠামোগত দুর্বলতা থেকে অর্থনীতিকে বের করে আনাই হবে বর্তমান প্রশাসনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
বৈদেশিক চুক্তি পুনর্বিবেচনা ও আর্থিক ময়নাতদন্তের তাগিদ অনুষ্ঠানে সিটিজেন প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালীন বিভিন্ন বৈদেশিক চুক্তি পর্যালোচনার আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন, এসব চুক্তিতে কোনো আইনি ব্যত্যয় হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা জরুরি। এছাড়াও তিনি আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালের আর্থিক ব্যবস্থাপনার একটি ‘ময়নাতদন্ত’ করে শ্বেতপত্র বা ব্রিফিং ডকুমেন্ট তৈরির পরামর্শ দেন। আগামী মার্চের মধ্যে জাতীয় সংসদে একটি পূর্ণাঙ্গ আর্থিক বিবৃতি পেশ করার মাধ্যমে সরকারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার তাগিদও দেন তিনি।
মূল্যস্ফীতি ও মজুরি বৈষম্য সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান জানান, বিশ্ববাজারে দাম কমলেও বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি এখনো ৮.৭৭ শতাংশের উচ্চঘরে আটকে আছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। বিশেষ করে খাদ্যবহির্ভূত খাতে কোনো স্বস্তি নেই। মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির নিচে থাকায় সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাচ্ছে। এছাড়া বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকারের ব্যাংকঋণ নির্ভরতা মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
চাকরি হারানো ও বিনিয়োগ মন্দা প্রতিবেদনে একটি উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে—২০২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে প্রায় ২১ লাখ মানুষ কাজ হারিয়েছে। শিল্প ও সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়াই এর প্রধান কারণ। বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা চলায় নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। তৌফিকুল ইসলাম খানের মতে, অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে হলে এই দুই খাতকে পুনরুজ্জীবিত করাই হবে নতুন অর্থমন্ত্রীর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
এক ট্রিলিয়ন ডলার জিডিপি লক্ষ্যমাত্রা: স্বপ্ন না বাস্তবতা? সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, তাকে অত্যন্ত ‘উচ্চাভিলাষী’ বলে মনে করছে সিটিজেন প্ল্যাটফর্ম। বর্তমান কর-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৬.৮ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন। এই লক্ষ্য অর্জন করতে হলে ডলারের ভিত্তিতে গড়ে ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এবং ব্যাপক রাজস্ব সংস্কার প্রয়োজন হবে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে বেশ কঠিন।
সামাজিক সুরক্ষা ও ফ্যামিলি কার্ড নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে ৫০ লাখ পরিবারকে মাসে ২ হাজার থেকে ২৫০০ টাকা সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাকে ইতিবাচক বললেও উপকারভোগী নির্বাচন নিয়ে সতর্কতা জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব এড়াতে বৈজ্ঞানিক ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ পদ্ধতিতে প্রকৃত দরিদ্রদের শনাক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
সিটিজেন প্ল্যাটফর্মের মতে, ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে তাড়াহুড়ো না করে চলতি অর্থবছরে ব্যয় সংকোচন এবং আগামী অর্থবছরের জন্য সুপরিকল্পিত বাজেট কাঠামো তৈরি করাই হবে সরকারের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ভঙ্গুর সামষ্টিক অর্থনীতি, বিনিয়োগ মন্দা এবং কর্মসংস্থান সংকটকে নতুন সরকারের জন্য প্রধান অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করেছে এসডিজি বাস্তবায়নে সিটিজেন প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটি জানায়, বিগত সরকারগুলোর আমলের কাঠামোগত দুর্বলতা থেকে অর্থনীতিকে বের করে আনাই হবে বর্তমান প্রশাসনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
বৈদেশিক চুক্তি পুনর্বিবেচনা ও আর্থিক ময়নাতদন্তের তাগিদ অনুষ্ঠানে সিটিজেন প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালীন বিভিন্ন বৈদেশিক চুক্তি পর্যালোচনার আহ্বান জানান। তিনি মনে করেন, এসব চুক্তিতে কোনো আইনি ব্যত্যয় হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা জরুরি। এছাড়াও তিনি আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালের আর্থিক ব্যবস্থাপনার একটি ‘ময়নাতদন্ত’ করে শ্বেতপত্র বা ব্রিফিং ডকুমেন্ট তৈরির পরামর্শ দেন। আগামী মার্চের মধ্যে জাতীয় সংসদে একটি পূর্ণাঙ্গ আর্থিক বিবৃতি পেশ করার মাধ্যমে সরকারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার তাগিদও দেন তিনি।
মূল্যস্ফীতি ও মজুরি বৈষম্য সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান জানান, বিশ্ববাজারে দাম কমলেও বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি এখনো ৮.৭৭ শতাংশের উচ্চঘরে আটকে আছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। বিশেষ করে খাদ্যবহির্ভূত খাতে কোনো স্বস্তি নেই। মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির নিচে থাকায় সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের প্রকৃত আয় কমে যাচ্ছে। এছাড়া বাজেট ঘাটতি মেটাতে সরকারের ব্যাংকঋণ নির্ভরতা মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
চাকরি হারানো ও বিনিয়োগ মন্দা প্রতিবেদনে একটি উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে—২০২৫ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে প্রায় ২১ লাখ মানুষ কাজ হারিয়েছে। শিল্প ও সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়াই এর প্রধান কারণ। বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা চলায় নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। তৌফিকুল ইসলাম খানের মতে, অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে হলে এই দুই খাতকে পুনরুজ্জীবিত করাই হবে নতুন অর্থমন্ত্রীর জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
এক ট্রিলিয়ন ডলার জিডিপি লক্ষ্যমাত্রা: স্বপ্ন না বাস্তবতা? সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, তাকে অত্যন্ত ‘উচ্চাভিলাষী’ বলে মনে করছে সিটিজেন প্ল্যাটফর্ম। বর্তমান কর-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৬.৮ শতাংশ, যা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বনিম্ন। এই লক্ষ্য অর্জন করতে হলে ডলারের ভিত্তিতে গড়ে ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এবং ব্যাপক রাজস্ব সংস্কার প্রয়োজন হবে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে বেশ কঠিন।
সামাজিক সুরক্ষা ও ফ্যামিলি কার্ড নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে ৫০ লাখ পরিবারকে মাসে ২ হাজার থেকে ২৫০০ টাকা সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাকে ইতিবাচক বললেও উপকারভোগী নির্বাচন নিয়ে সতর্কতা জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব এড়াতে বৈজ্ঞানিক ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ পদ্ধতিতে প্রকৃত দরিদ্রদের শনাক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
সিটিজেন প্ল্যাটফর্মের মতে, ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে তাড়াহুড়ো না করে চলতি অর্থবছরে ব্যয় সংকোচন এবং আগামী অর্থবছরের জন্য সুপরিকল্পিত বাজেট কাঠামো তৈরি করাই হবে সরকারের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ।

আপনার মতামত লিখুন