ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

আগের সরকারের অর্থনৈতিক জঞ্জাল ও নতুন সরকারের সামনের কঠিন চ্যালেঞ্জ


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আগের সরকারের অর্থনৈতিক জঞ্জাল ও নতুন সরকারের সামনের কঠিন চ্যালেঞ্জ

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসনকাল শেষে নবনির্বাচিত তারেক রহমান সরকারের ঘাড়ে চেপেছে এক বিশাল ঋণের বোঝা ও ভঙ্গুর অর্থনীতির দায়। বিগত সরকারের রেখে যাওয়া অব্যবস্থাপনা ও অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের স্থবিরতা মিলে বর্তমানে দেশের অর্থনীতি এক চরম সংকটে নিমজ্জিত। ২৩ লাখ কোটি টাকার ঋণের পাহাড় এবং প্রায় সাড়ে ছয় লাখ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ ব্যাংকিং খাতকে পঙ্গু করে দিয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং বিনিয়োগের আস্থাহীনতার কারণে বেসরকারি খাত রুগ্ণ হয়ে পড়েছে, যার ফলে একের পর এক কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং প্রায় ২১ লাখ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। বাজারভিত্তিক সুদের হার এবং আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ব্যবসায়ীদের নতুন বিনিয়োগ থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে, যার প্রভাব সরাসরি পড়েছে উৎপাদন ও রপ্তানি খাতে।

উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া এই অর্থনৈতিক সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে ‘সপ্তঘাতক’ ব্যাধি। কর-জিডিপি অনুপাত দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসা এবং রাজস্ব ঘাটতি সরকারের ব্যয় করার সক্ষমতাকে সীমিত করে দিয়েছে। এমনকি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হারও ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের স্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেলেও আসন্ন কিস্তি পরিশোধের চাপ ও নিত্যপণ্য আমদানির চাহিদা সেই স্বস্তিকে ম্লান করে দিচ্ছে। এর ওপর নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের মতো জনতুষ্টিমূলক প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করতে গেলে সরকারের ওপর বার্ষিক প্রায় এক লাখ কোটি টাকার অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপবে, যা উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সময়ে সামলানো অত্যন্ত দুরূহ হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জন করতে হলে সরকারকে এখন অত্যন্ত সাহসী ও ‘অজনপ্রিয়’ কিছু সংস্কারের পথে হাঁটতে হবে। গ্যাস-বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করে শিল্প উৎপাদন সচল করা এবং ব্যাংক খাতের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরানোই হবে প্রধান অগ্রাধিকার। বর্তমান ভঙ্গুর দশা থেকে উত্তরণের জন্য কেবল রাজনৈতিক সদিচ্ছা নয়, বরং একটি টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামোর প্রয়োজন হবে। অন্যথায়, এই বিশাল দেনার দায় ও বিনিয়োগের মন্দা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় প্রবৃদ্ধিকে পঙ্গু করে দিতে পারে। সামনের এই দুর্গম পথ পাড়ি দিতে নতুন সরকারকে যেমন কঠোর হাতে দুর্নীতি দমন করতে হবে, তেমনি ব্যবসায়ীদের জন্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করাও হবে সময়ের দাবি।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


আগের সরকারের অর্থনৈতিক জঞ্জাল ও নতুন সরকারের সামনের কঠিন চ্যালেঞ্জ

প্রকাশের তারিখ : ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসনকাল শেষে নবনির্বাচিত তারেক রহমান সরকারের ঘাড়ে চেপেছে এক বিশাল ঋণের বোঝা ও ভঙ্গুর অর্থনীতির দায়। বিগত সরকারের রেখে যাওয়া অব্যবস্থাপনা ও অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের স্থবিরতা মিলে বর্তমানে দেশের অর্থনীতি এক চরম সংকটে নিমজ্জিত। ২৩ লাখ কোটি টাকার ঋণের পাহাড় এবং প্রায় সাড়ে ছয় লাখ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ ব্যাংকিং খাতকে পঙ্গু করে দিয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা এবং বিনিয়োগের আস্থাহীনতার কারণে বেসরকারি খাত রুগ্ণ হয়ে পড়েছে, যার ফলে একের পর এক কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং প্রায় ২১ লাখ মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। বাজারভিত্তিক সুদের হার এবং আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ব্যবসায়ীদের নতুন বিনিয়োগ থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে, যার প্রভাব সরাসরি পড়েছে উৎপাদন ও রপ্তানি খাতে।

উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া এই অর্থনৈতিক সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে ‘সপ্তঘাতক’ ব্যাধি। কর-জিডিপি অনুপাত দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসা এবং রাজস্ব ঘাটতি সরকারের ব্যয় করার সক্ষমতাকে সীমিত করে দিয়েছে। এমনকি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হারও ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের স্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেলেও আসন্ন কিস্তি পরিশোধের চাপ ও নিত্যপণ্য আমদানির চাহিদা সেই স্বস্তিকে ম্লান করে দিচ্ছে। এর ওপর নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের মতো জনতুষ্টিমূলক প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করতে গেলে সরকারের ওপর বার্ষিক প্রায় এক লাখ কোটি টাকার অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপবে, যা উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সময়ে সামলানো অত্যন্ত দুরূহ হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জন করতে হলে সরকারকে এখন অত্যন্ত সাহসী ও ‘অজনপ্রিয়’ কিছু সংস্কারের পথে হাঁটতে হবে। গ্যাস-বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করে শিল্প উৎপাদন সচল করা এবং ব্যাংক খাতের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরানোই হবে প্রধান অগ্রাধিকার। বর্তমান ভঙ্গুর দশা থেকে উত্তরণের জন্য কেবল রাজনৈতিক সদিচ্ছা নয়, বরং একটি টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামোর প্রয়োজন হবে। অন্যথায়, এই বিশাল দেনার দায় ও বিনিয়োগের মন্দা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় প্রবৃদ্ধিকে পঙ্গু করে দিতে পারে। সামনের এই দুর্গম পথ পাড়ি দিতে নতুন সরকারকে যেমন কঠোর হাতে দুর্নীতি দমন করতে হবে, তেমনি ব্যবসায়ীদের জন্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করাও হবে সময়ের দাবি।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ