সংযমের মাস রমজানের শুরুতেই সাধারণ মানুষের ইফতারের প্রধান অনুষঙ্গ খেজুরের বাজারে অস্বস্তি বেড়েছে। রাজধানীর বাজারগুলোতে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের খেজুরের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের কাছে জনপ্রিয় ‘জাহিদী’ খেজুরের। বাজারের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রথম রমজানে বাড়তি চাহিদাকে কেন্দ্র করে খেজুরের দাম বাড়ানো হয়েছে।
গত বুধবার সকালে যে ‘জাহিদী’ খেজুর ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, তা এখন ৩৫০ টাকায় ঠেকেছে। গত বছরের প্রথম রমজানে এই মানের খেজুরের দাম ছিল ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে অন্তত ১০০ টাকা। আর ভালো মানের জাহিদী খেজুর বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকায়, যা গত বছর ছিল ৩৫০ টাকা।
নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের কাছে জনপ্রিয় ‘বস্তা’ খেজুরের দামও দুই দিনের ব্যবধানে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে এই খেজুর বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায়, যা দুদিন আগেও ২২০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে ছিল। গত বছর এই খেজুর ১৮০ থেকে ২২০ টাকায় কিনতে পেরেছিলেন ভোক্তারা।
রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় খেজুর কিনতে আসা মোহাম্মদ বিল্লাল আক্ষেপ করে বলেন, “গত সপ্তাহে জাহিদী খেজুর কিনেছিলাম ২৮০ টাকা কেজি দরে। আজ তা ৩৫০ টাকায় কিনতে হলো। এত দ্রুত দাম পরিবর্তন হলে আমাদের তো খেজুর না খেয়ে থাকতে হবে। সুন্নত হিসেবে সবাই ইফতারে কম-বেশি খেজুর রাখার চেষ্টা করে। সেটি নিয়েও যদি এমন সিন্ডিকেট হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের বলার কিছু থাকে না।” তিনি এই বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, অন্যান্য প্রায় সব ধরনের খেজুরের দামও কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে। বর্তমান দর অনুযায়ী, সুরমা ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকা, বরই ৪৮০ থেকে ৬৫০ টাকা, ছড়া খেজুর ৫৫৫ থেকে ৬০০ টাকা এবং দাবাস ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া সুদাই ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা, কালমি মরিয়ম ৮৫০ থেকে ৯০০, মাবরুম মরিয়ম ৮৫০ থেকে ৯৫০, সুকারি ৯২০ থেকে ৯৫০, আজওয়া ৯৫০ থেকে ১০০০, ইরানি মরিয়ম ১২৫০ থেকে ১৪০০ এবং প্রিমিয়াম মেডজুল ১৬৫০ থেকে ১৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকার খেজুর আমদানিতে শুল্ক হার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার পর আমদানি দ্রুত বেড়েছে। এ কারণে গত বছরের তুলনায় এতদিন দাম কিছুটা কম থাকলেও গত সপ্তাহ থেকে একটি গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, থাইল্যান্ডের সাগরে বাংলাদেশ অভিমুখী ১৫০ কনটেইনার খেজুর ডুবে গেছে। ব্যবসায়ীদের একটি অংশ এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও দাম বাড়িয়ে দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে খেজুরের চাহিদা ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টন, যার মধ্যে রমজান মাসেই প্রয়োজন হয় ৬০ থেকে ৮০ হাজার টন। বর্তমানে চাহিদার তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি খেজুর মজুত রয়েছে। অর্থাৎ সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। তা সত্ত্বেও অতি মুনাফালোভী এক শ্রেণির ব্যবসায়ীর কারসাজিতে রমজানের এই অতি জরুরি পণ্যটির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সংযমের মাস রমজানের শুরুতেই সাধারণ মানুষের ইফতারের প্রধান অনুষঙ্গ খেজুরের বাজারে অস্বস্তি বেড়েছে। রাজধানীর বাজারগুলোতে মাত্র এক দিনের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের খেজুরের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের কাছে জনপ্রিয় ‘জাহিদী’ খেজুরের। বাজারের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রথম রমজানে বাড়তি চাহিদাকে কেন্দ্র করে খেজুরের দাম বাড়ানো হয়েছে।
গত বুধবার সকালে যে ‘জাহিদী’ খেজুর ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, তা এখন ৩৫০ টাকায় ঠেকেছে। গত বছরের প্রথম রমজানে এই মানের খেজুরের দাম ছিল ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে কেজিপ্রতি দাম বেড়েছে অন্তত ১০০ টাকা। আর ভালো মানের জাহিদী খেজুর বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকায়, যা গত বছর ছিল ৩৫০ টাকা।
নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের কাছে জনপ্রিয় ‘বস্তা’ খেজুরের দামও দুই দিনের ব্যবধানে কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে এই খেজুর বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায়, যা দুদিন আগেও ২২০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে ছিল। গত বছর এই খেজুর ১৮০ থেকে ২২০ টাকায় কিনতে পেরেছিলেন ভোক্তারা।
রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় খেজুর কিনতে আসা মোহাম্মদ বিল্লাল আক্ষেপ করে বলেন, “গত সপ্তাহে জাহিদী খেজুর কিনেছিলাম ২৮০ টাকা কেজি দরে। আজ তা ৩৫০ টাকায় কিনতে হলো। এত দ্রুত দাম পরিবর্তন হলে আমাদের তো খেজুর না খেয়ে থাকতে হবে। সুন্নত হিসেবে সবাই ইফতারে কম-বেশি খেজুর রাখার চেষ্টা করে। সেটি নিয়েও যদি এমন সিন্ডিকেট হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের বলার কিছু থাকে না।” তিনি এই বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, অন্যান্য প্রায় সব ধরনের খেজুরের দামও কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে। বর্তমান দর অনুযায়ী, সুরমা ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকা, বরই ৪৮০ থেকে ৬৫০ টাকা, ছড়া খেজুর ৫৫৫ থেকে ৬০০ টাকা এবং দাবাস ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া সুদাই ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা, কালমি মরিয়ম ৮৫০ থেকে ৯০০, মাবরুম মরিয়ম ৮৫০ থেকে ৯৫০, সুকারি ৯২০ থেকে ৯৫০, আজওয়া ৯৫০ থেকে ১০০০, ইরানি মরিয়ম ১২৫০ থেকে ১৪০০ এবং প্রিমিয়াম মেডজুল ১৬৫০ থেকে ১৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকার খেজুর আমদানিতে শুল্ক হার ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার পর আমদানি দ্রুত বেড়েছে। এ কারণে গত বছরের তুলনায় এতদিন দাম কিছুটা কম থাকলেও গত সপ্তাহ থেকে একটি গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, থাইল্যান্ডের সাগরে বাংলাদেশ অভিমুখী ১৫০ কনটেইনার খেজুর ডুবে গেছে। ব্যবসায়ীদের একটি অংশ এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও দাম বাড়িয়ে দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে খেজুরের চাহিদা ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টন, যার মধ্যে রমজান মাসেই প্রয়োজন হয় ৬০ থেকে ৮০ হাজার টন। বর্তমানে চাহিদার তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি খেজুর মজুত রয়েছে। অর্থাৎ সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। তা সত্ত্বেও অতি মুনাফালোভী এক শ্রেণির ব্যবসায়ীর কারসাজিতে রমজানের এই অতি জরুরি পণ্যটির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না।

আপনার মতামত লিখুন