প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসন্ন ইসরায়েল সফরের ঠিক আগমুহূর্তে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের তীব্র সমালোচনা করেছে ভারত। গত বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘে ১০০টিরও বেশি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে একাত্ম হয়ে ভারত একটি যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছে। এই বিবৃতিতে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখলদারিত্বকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন’ এবং ‘শান্তির জন্য হুমকি’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
ভারত ও ইসরায়েলের এই সাম্প্রতিক কূটনৈতিক পরিস্থিতির মূল দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
পশ্চিম তীর নিয়ে ভারতের কঠোর অবস্থান ভারতসহ ১০০টিরও বেশি দেশ ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ‘ভূমি নিবন্ধন’ পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়েছে। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে পশ্চিম তীরের বিশাল অংশকে ইসরায়েল ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি’ হিসেবে ঘোষণা করার চেষ্টা করছে, যাকে ফিলিস্তিনিরা ‘বিশাল ভূমি দখল’ বলে বর্ণনা করেছে। যৌথ বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, ১৯৬৭ সালের সীমানা অনুযায়ী ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের (পূর্ব জেরুজালেমসহ) জনতাত্ত্বিক কাঠামো পরিবর্তনের যেকোনো চেষ্টা অবৈধ।
মোদির ইসরায়েল সফর ও কূটনৈতিক ভারসাম্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগামী ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল সফরে যাচ্ছেন। এই সফরে তিনি ইসরায়েলের সংসদে (নেসেট) ভাষণ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সফরের ঠিক আগে এ ধরনের বিবৃতিতে স্বাক্ষর করাকে ভারতের ‘ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি’ হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক মহল। এর মাধ্যমে ভারত একদিকে ইসরায়েলের সাথে প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সম্পর্ক অটুট রাখছে, অন্যদিকে ফিলিস্তিন ইস্যুতে তাদের ঐতিহাসিক ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান’ নীতিতে অনড় থাকার বার্তা দিচ্ছে।
ট্রাম্পের ‘বোর্ড অফ পিস’ ও ভারত গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং পুনর্গঠনের লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘বোর্ড অফ পিস’ (Board of Peace) গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। এই বোর্ডে যোগ দিতে ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী মোদিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তবে ভারত এখন পর্যন্ত এই বোর্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেয়নি এবং বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখছে। উল্লেখ্য যে, পাকিস্তান, তুরস্ক এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলো ইতিমধ্যে এই বোর্ডে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আজ ১৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে এই 'বোর্ড অফ পিস'-এর উদ্বোধনী বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ভারত ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনের বন্ধু হলেও মোদি সরকারের আমলে ইসরায়েলের সাথে কৌশলগত সম্পর্ক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। তবে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক নীতি ভারতকে এই প্রকাশ্য সমালোচনায় অংশ নিতে বাধ্য করেছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আসন্ন ইসরায়েল সফরের ঠিক আগমুহূর্তে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের তীব্র সমালোচনা করেছে ভারত। গত বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘে ১০০টিরও বেশি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে একাত্ম হয়ে ভারত একটি যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছে। এই বিবৃতিতে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখলদারিত্বকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন’ এবং ‘শান্তির জন্য হুমকি’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
ভারত ও ইসরায়েলের এই সাম্প্রতিক কূটনৈতিক পরিস্থিতির মূল দিকগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
পশ্চিম তীর নিয়ে ভারতের কঠোর অবস্থান ভারতসহ ১০০টিরও বেশি দেশ ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ‘ভূমি নিবন্ধন’ পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়েছে। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে পশ্চিম তীরের বিশাল অংশকে ইসরায়েল ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি’ হিসেবে ঘোষণা করার চেষ্টা করছে, যাকে ফিলিস্তিনিরা ‘বিশাল ভূমি দখল’ বলে বর্ণনা করেছে। যৌথ বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, ১৯৬৭ সালের সীমানা অনুযায়ী ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের (পূর্ব জেরুজালেমসহ) জনতাত্ত্বিক কাঠামো পরিবর্তনের যেকোনো চেষ্টা অবৈধ।
মোদির ইসরায়েল সফর ও কূটনৈতিক ভারসাম্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগামী ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল সফরে যাচ্ছেন। এই সফরে তিনি ইসরায়েলের সংসদে (নেসেট) ভাষণ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সফরের ঠিক আগে এ ধরনের বিবৃতিতে স্বাক্ষর করাকে ভারতের ‘ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি’ হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক মহল। এর মাধ্যমে ভারত একদিকে ইসরায়েলের সাথে প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সম্পর্ক অটুট রাখছে, অন্যদিকে ফিলিস্তিন ইস্যুতে তাদের ঐতিহাসিক ‘দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান’ নীতিতে অনড় থাকার বার্তা দিচ্ছে।
ট্রাম্পের ‘বোর্ড অফ পিস’ ও ভারত গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং পুনর্গঠনের লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘বোর্ড অফ পিস’ (Board of Peace) গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। এই বোর্ডে যোগ দিতে ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী মোদিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তবে ভারত এখন পর্যন্ত এই বোর্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেয়নি এবং বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখছে। উল্লেখ্য যে, পাকিস্তান, তুরস্ক এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলো ইতিমধ্যে এই বোর্ডে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আজ ১৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে এই 'বোর্ড অফ পিস'-এর উদ্বোধনী বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ভারত ঐতিহাসিকভাবে ফিলিস্তিনের বন্ধু হলেও মোদি সরকারের আমলে ইসরায়েলের সাথে কৌশলগত সম্পর্ক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। তবে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক নীতি ভারতকে এই প্রকাশ্য সমালোচনায় অংশ নিতে বাধ্য করেছে।

আপনার মতামত লিখুন