ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে, তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। হোয়াইট হাউস নিরাপত্তা এবং কৌশলগত ঝুঁকি মূল্যায়ন করে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
পেন্টাগন সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বা ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া মোকাবিলায় আগামী তিন দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য থেকে কিছু মার্কিন সেনাকে ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর করা হচ্ছে। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বড় কোনো অভিযানের আগে সম্পদ ও জনবল সরিয়ে নেওয়া নিয়মিত একটি প্রক্রিয়া, যা হামলার আগাম সংকেত হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বুধবার ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘ইরানে হামলার অনেক যুক্তি আছে, তবে প্রেসিডেন্ট কূটনীতি প্রাথমিকভাবে অগ্রাধিকার দেন।’ তিনি উল্লেখ করেন, গত জুনে মার্কিন বাহিনী ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় সফল অভিযান চালিয়েছিল এবং ইরানের উচিত ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে চুক্তিতে আসা।
বর্তমানে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছে। দ্বিতীয় রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড পশ্চিম আফ্রিকা উপকূল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। মার্চের মাঝামাঝি নাগাদ এই অঞ্চলে প্রয়োজনীয় সমস্ত সামরিক শক্তি মোতায়েন শেষ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ জেরাল্ড ফোর্ড রণতরীটি সমুদ্রের তলদেশে ডুবে আছে এমন একটি এআই-জেনারেটেড ছবি পোস্ট করেছেন এবং লিখেছেন, “রণতরী বিপজ্জনক হতে পারে, কিন্তু তার চেয়েও বিপজ্জনক সেই অস্ত্র যা এটি সমুদ্রের তলদেশে পাঠাতে পারে।”
সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় মঙ্গলবার ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেন। যদিও কিছু অগ্রগতি হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দুই পক্ষের অবস্থান এখনও অনেক দূরে। লেভিট জানিয়েছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরান এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবে।
গত ডিসেম্বরে মার-এ-লাগোতে ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কোনো চুক্তি না হলে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচিতে ইসরায়েলের হামলাকে তিনি সমর্থন করবেন। এছাড়া আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইসরায়েল সফর করবেন।
ইরান বৃহস্পতিবার রকেট উৎক্ষেপণের কারণে দক্ষিণ ইরান দিয়ে বিমানের চলাচল এড়িয়ে চলার সতর্কতা জারি করেছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, ইরান বর্তমানে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির খুব কাছাকাছি।
সবমিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে এবং আগামী সপ্তাহান্তে এই পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হতে পারে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইরানের ওপর সম্ভাব্য সামরিক হামলার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে, তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। হোয়াইট হাউস নিরাপত্তা এবং কৌশলগত ঝুঁকি মূল্যায়ন করে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
পেন্টাগন সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য হামলার পরিপ্রেক্ষিতে বা ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া মোকাবিলায় আগামী তিন দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য থেকে কিছু মার্কিন সেনাকে ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর করা হচ্ছে। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বড় কোনো অভিযানের আগে সম্পদ ও জনবল সরিয়ে নেওয়া নিয়মিত একটি প্রক্রিয়া, যা হামলার আগাম সংকেত হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বুধবার ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘ইরানে হামলার অনেক যুক্তি আছে, তবে প্রেসিডেন্ট কূটনীতি প্রাথমিকভাবে অগ্রাধিকার দেন।’ তিনি উল্লেখ করেন, গত জুনে মার্কিন বাহিনী ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় সফল অভিযান চালিয়েছিল এবং ইরানের উচিত ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে চুক্তিতে আসা।
বর্তমানে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছে। দ্বিতীয় রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড পশ্চিম আফ্রিকা উপকূল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। মার্চের মাঝামাঝি নাগাদ এই অঞ্চলে প্রয়োজনীয় সমস্ত সামরিক শক্তি মোতায়েন শেষ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ জেরাল্ড ফোর্ড রণতরীটি সমুদ্রের তলদেশে ডুবে আছে এমন একটি এআই-জেনারেটেড ছবি পোস্ট করেছেন এবং লিখেছেন, “রণতরী বিপজ্জনক হতে পারে, কিন্তু তার চেয়েও বিপজ্জনক সেই অস্ত্র যা এটি সমুদ্রের তলদেশে পাঠাতে পারে।”
সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় মঙ্গলবার ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেন। যদিও কিছু অগ্রগতি হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দুই পক্ষের অবস্থান এখনও অনেক দূরে। লেভিট জানিয়েছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরান এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবে।
গত ডিসেম্বরে মার-এ-লাগোতে ট্রাম্প ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কোনো চুক্তি না হলে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচিতে ইসরায়েলের হামলাকে তিনি সমর্থন করবেন। এছাড়া আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইসরায়েল সফর করবেন।
ইরান বৃহস্পতিবার রকেট উৎক্ষেপণের কারণে দক্ষিণ ইরান দিয়ে বিমানের চলাচল এড়িয়ে চলার সতর্কতা জারি করেছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, ইরান বর্তমানে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির খুব কাছাকাছি।
সবমিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে এবং আগামী সপ্তাহান্তে এই পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন