ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ব্যাংক খাতের সংকট: খেলাপি ঋণ ছয় ট্রিলিয়ন ছাড়িয়ে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন এখন সময়ের দাবি


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ব্যাংক খাতের সংকট: খেলাপি ঋণ ছয় ট্রিলিয়ন ছাড়িয়ে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন এখন সময়ের দাবি

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ এখন মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩৪ শতাংশ ছাড়িয়ে প্রায় ছয় ট্রিলিয়ন টাকায় পৌঁছেছে, যা ১৯টি পদ্মা সেতু নির্মাণের সমতুল্য এবং এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনকেই একমাত্র কার্যকর পথ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

২০২৫ সালের নভেম্বরে দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এই তথ্য প্রকাশ করে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকটের শিকড় প্রোথিত রয়েছে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। সে সময় সরকারের ঘনিষ্ঠ মহল বিপুল পরিমাণ ব্যাংকঋণ নিয়ে অতিমূল্যায়িত আমদানি ব্যয়ের নামে বিদেশে বড় অঙ্কের অর্থ পাচার করে দেয়। পরবর্তীতে তারা ঋণখেলাপি হয়ে পড়ে, যা ব্যাংকিং খাতে গভীর সংকট তৈরি করে এবং ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে টাকার ব্যাপক অবমূল্যায়নের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এই পরিস্থিতিতে বেইলআউটের প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে। অনুমান করা হচ্ছে, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত নিশ্চিত করতে সরকারি তহবিল থেকে ব্যাংকগুলোতে প্রায় পাঁচ ট্রিলিয়ন টাকা সরবরাহ করতে হবে। এই অর্থ টাকা ছাপিয়ে জোগান দেওয়া হলে মুদ্রাস্ফীতি ও অবমূল্যায়ন আরও তীব্র হবে। বিকল্প পথ হিসেবে বন্ড বিক্রির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের কথা ভাবা হচ্ছে, তবে তাতেও ঝুঁকি রয়েছে। সুস্থ ব্যাংকগুলো সরকারি বন্ড কিনলে বাণিজ্যিক ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা কমে যাবে, যা আগামী কয়েক বছর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ধীর করে দিতে পারে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিগত সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একদিকে বড় আর্থিক ঘাটতির মধ্যেও একক অঙ্কের কৃত্রিম সুদহার বজায় রাখতে বাধ্য হয়েছিল, যা মুদ্রাস্ফীতি ও অবমূল্যায়নকে অনিবার্য করে তুলেছিল। অথচ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদহার বাড়িয়ে মুদ্রাস্ফীতি সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে।

যেসব দেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, সেখানে আর্থিক ঘাটতি থেকে সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় সুদহার সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়। বিশ্লেষকদের অভিমত, ভবিষ্যতে যাতে ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠরা আবার ব্যাংক খাতকে লুটপাটের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে এবং মুদ্রানীতি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকে, সে জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা এখন অপরিহার্য।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ব্যাংক খাতের সংকট: খেলাপি ঋণ ছয় ট্রিলিয়ন ছাড়িয়ে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন এখন সময়ের দাবি

প্রকাশের তারিখ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ এখন মোট বিতরণকৃত ঋণের ৩৪ শতাংশ ছাড়িয়ে প্রায় ছয় ট্রিলিয়ন টাকায় পৌঁছেছে, যা ১৯টি পদ্মা সেতু নির্মাণের সমতুল্য এবং এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসনকেই একমাত্র কার্যকর পথ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

২০২৫ সালের নভেম্বরে দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এই তথ্য প্রকাশ করে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকটের শিকড় প্রোথিত রয়েছে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। সে সময় সরকারের ঘনিষ্ঠ মহল বিপুল পরিমাণ ব্যাংকঋণ নিয়ে অতিমূল্যায়িত আমদানি ব্যয়ের নামে বিদেশে বড় অঙ্কের অর্থ পাচার করে দেয়। পরবর্তীতে তারা ঋণখেলাপি হয়ে পড়ে, যা ব্যাংকিং খাতে গভীর সংকট তৈরি করে এবং ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে টাকার ব্যাপক অবমূল্যায়নের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এই পরিস্থিতিতে বেইলআউটের প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে। অনুমান করা হচ্ছে, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত নিশ্চিত করতে সরকারি তহবিল থেকে ব্যাংকগুলোতে প্রায় পাঁচ ট্রিলিয়ন টাকা সরবরাহ করতে হবে। এই অর্থ টাকা ছাপিয়ে জোগান দেওয়া হলে মুদ্রাস্ফীতি ও অবমূল্যায়ন আরও তীব্র হবে। বিকল্প পথ হিসেবে বন্ড বিক্রির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের কথা ভাবা হচ্ছে, তবে তাতেও ঝুঁকি রয়েছে। সুস্থ ব্যাংকগুলো সরকারি বন্ড কিনলে বাণিজ্যিক ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা কমে যাবে, যা আগামী কয়েক বছর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ধীর করে দিতে পারে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিগত সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একদিকে বড় আর্থিক ঘাটতির মধ্যেও একক অঙ্কের কৃত্রিম সুদহার বজায় রাখতে বাধ্য হয়েছিল, যা মুদ্রাস্ফীতি ও অবমূল্যায়নকে অনিবার্য করে তুলেছিল। অথচ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদহার বাড়িয়ে মুদ্রাস্ফীতি সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে।

যেসব দেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, সেখানে আর্থিক ঘাটতি থেকে সৃষ্ট মুদ্রাস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় সুদহার সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়। বিশ্লেষকদের অভিমত, ভবিষ্যতে যাতে ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠরা আবার ব্যাংক খাতকে লুটপাটের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে এবং মুদ্রানীতি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকে, সে জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা এখন অপরিহার্য।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ