ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শৈলকুপায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ: পুলিশসহ আহত ৭, এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েন


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

শৈলকুপায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ: পুলিশসহ আহত ৭, এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েন
ছবি: সংগৃহীত

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় এক পুলিশ সদস্যসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার বগুড়া ইউনিয়নের বারইহুদা গ্রামে এই সহিংসতা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া ইউনিয়নের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক জামিরুল ইসলাম ও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি তথা সাবেক চেয়ারম্যান রাকিবুল হাসান খান দিপুর সমর্থকদের মধ্যে এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছিল। সোমবার সকালে সেই বিরোধের জেরে দিপুর সমর্থকরা জামিরুলের অনুসারী কালাম ও সালামের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তারা আহত হন। এর কিছুক্ষণ পর জামিরুলের সমর্থক নাসির মেম্বারের লোকজন পাল্টা আক্রমণ করলে আকলিমা নামে এক নারী আহত হন।

ঘটনার খবর পেয়ে হাটফাজিলপুর ক্যাম্প পুলিশ বারইহুদা গ্রামে অভিযান চালায়। পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করতে জামিরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ সহযোগী নাসির মেম্বারকে আটক করার চেষ্টা করলে গ্রামবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে হাটফাজিলপুর ক্যাম্পের পুলিশ কনস্টেবল সোহেল রানা এবং নাসির মেম্বারের কর্মী কবিরসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে বগুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জামিরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, "সকালে দিপুর লোকজন আমার সমর্থকদের ওপর অন্যায়ভাবে হামলা করেছে। পুলিশ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো আমার লোকজনকে ধরতে এলে উত্তেজিত গ্রামবাসীর সঙ্গে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।"

অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রাকিবুল হাসান খান দিপু কোনো ধরনের দলাদলিতে সম্পৃক্ত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, "আমি এই সংঘাতের মধ্যে নেই। যারা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে এবং পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।"

শৈলকুপা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাকিল আহমেদ জানান, বর্তমানে বারইহুদা গ্রামের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


শৈলকুপায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ: পুলিশসহ আহত ৭, এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েন

প্রকাশের তারিখ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষ ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় এক পুলিশ সদস্যসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার বগুড়া ইউনিয়নের বারইহুদা গ্রামে এই সহিংসতা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া ইউনিয়নের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক জামিরুল ইসলাম ও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি তথা সাবেক চেয়ারম্যান রাকিবুল হাসান খান দিপুর সমর্থকদের মধ্যে এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলে আসছিল। সোমবার সকালে সেই বিরোধের জেরে দিপুর সমর্থকরা জামিরুলের অনুসারী কালাম ও সালামের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তারা আহত হন। এর কিছুক্ষণ পর জামিরুলের সমর্থক নাসির মেম্বারের লোকজন পাল্টা আক্রমণ করলে আকলিমা নামে এক নারী আহত হন।

ঘটনার খবর পেয়ে হাটফাজিলপুর ক্যাম্প পুলিশ বারইহুদা গ্রামে অভিযান চালায়। পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত করতে জামিরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ সহযোগী নাসির মেম্বারকে আটক করার চেষ্টা করলে গ্রামবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে হাটফাজিলপুর ক্যাম্পের পুলিশ কনস্টেবল সোহেল রানা এবং নাসির মেম্বারের কর্মী কবিরসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে বগুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জামিরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, "সকালে দিপুর লোকজন আমার সমর্থকদের ওপর অন্যায়ভাবে হামলা করেছে। পুলিশ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো আমার লোকজনকে ধরতে এলে উত্তেজিত গ্রামবাসীর সঙ্গে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।"

অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রাকিবুল হাসান খান দিপু কোনো ধরনের দলাদলিতে সম্পৃক্ত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, "আমি এই সংঘাতের মধ্যে নেই। যারা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে এবং পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।"

শৈলকুপা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাকিল আহমেদ জানান, বর্তমানে বারইহুদা গ্রামের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ