খুলনার রামপালে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক ও তার পরিবারের নয় সদস্যের জানাজা শেষে শুক্রবার ১৭ মার্চ জুমার নামাজের পর মোংলা পৌর কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। একই পরিবারের এতগুলো মানুষের নিথর দেহ একসঙ্গে কবরে শায়িত করার এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
গত বুধবার রাতে খুলনার কয়রা থেকে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে মাইক্রোবাসে করে ফেরার পথে রামপালের বেলাইবিজ এলাকায় বিপরীতমুখী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। আনন্দময় বিয়ের সফরটি মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয় যখন মাইক্রোবাসের চালকসহ মোট ১৪ জন যাত্রী প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে ছিলেন বরের বাবা মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক এবং তার পরিবারের আরও আটজন ঘনিষ্ঠ সদস্য।
শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টায় যখন মরদেহগুলো মোংলার শেওলাবুনিয়ায় এসে পৌঁছায়, তখন সেখানে এক অবর্ণনীয় পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শত শত মানুষ শেষবারের মতো তাদের প্রিয়জনদের দেখতে ভিড় জমান এবং চারদিকে শুধু কান্নার শব্দ শোনা যাচ্ছিল। মৃতদের সম্মানে আশপাশের ৯টি মসজিদ থেকে খাটিয়া আনা হয় এবং ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী গোসল শেষে জানাজার প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
মোংলা কবরস্থানের দীর্ঘ ১৭ বছরের অভিজ্ঞ খাদেম ও গোরখোদক মুজিবুর ফকির এই ঘটনাকে তার জীবনের সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান যে, পেশাগত জীবনে ইতিপূর্বে কখনো তাকে একই পরিবারের এতজন সদস্যের জন্য একসঙ্গে কবর খুঁড়তে হয়নি। পাশাপাশি ৯টি কবর প্রস্তুত করার সময় তার হাত কাঁপছিল এবং প্রচণ্ড মানসিক কষ্টে তিনি বারবার শিউরে উঠছিলেন।
নিহত আব্দুর রাজ্জাকের ছোট ভাই মো. সাজ্জাদ সরদার কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, ছোট ছেলে আহাদুর রহমান সাব্বিরের বিয়ের নতুন বউ ঘরে তোলার আনন্দ নিয়ে পুরো পরিবার মেতে ছিল। কিন্তু একটি দুর্ঘটনা সেই উৎসবের বাড়িকে শ্মশানে পরিণত করে সব স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দিল। পরিবারের সদস্যদের ইচ্ছায় তাদের সবাইকে একই স্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে যাতে তারা চিরনিদ্রায়ও একসঙ্গে থাকতে পারেন।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ মার্চ ২০২৬
খুলনার রামপালে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক ও তার পরিবারের নয় সদস্যের জানাজা শেষে শুক্রবার ১৭ মার্চ জুমার নামাজের পর মোংলা পৌর কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। একই পরিবারের এতগুলো মানুষের নিথর দেহ একসঙ্গে কবরে শায়িত করার এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
গত বুধবার রাতে খুলনার কয়রা থেকে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে মাইক্রোবাসে করে ফেরার পথে রামপালের বেলাইবিজ এলাকায় বিপরীতমুখী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। আনন্দময় বিয়ের সফরটি মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয় যখন মাইক্রোবাসের চালকসহ মোট ১৪ জন যাত্রী প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে ছিলেন বরের বাবা মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক এবং তার পরিবারের আরও আটজন ঘনিষ্ঠ সদস্য।
শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টায় যখন মরদেহগুলো মোংলার শেওলাবুনিয়ায় এসে পৌঁছায়, তখন সেখানে এক অবর্ণনীয় পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শত শত মানুষ শেষবারের মতো তাদের প্রিয়জনদের দেখতে ভিড় জমান এবং চারদিকে শুধু কান্নার শব্দ শোনা যাচ্ছিল। মৃতদের সম্মানে আশপাশের ৯টি মসজিদ থেকে খাটিয়া আনা হয় এবং ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী গোসল শেষে জানাজার প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
মোংলা কবরস্থানের দীর্ঘ ১৭ বছরের অভিজ্ঞ খাদেম ও গোরখোদক মুজিবুর ফকির এই ঘটনাকে তার জীবনের সবচেয়ে যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান যে, পেশাগত জীবনে ইতিপূর্বে কখনো তাকে একই পরিবারের এতজন সদস্যের জন্য একসঙ্গে কবর খুঁড়তে হয়নি। পাশাপাশি ৯টি কবর প্রস্তুত করার সময় তার হাত কাঁপছিল এবং প্রচণ্ড মানসিক কষ্টে তিনি বারবার শিউরে উঠছিলেন।
নিহত আব্দুর রাজ্জাকের ছোট ভাই মো. সাজ্জাদ সরদার কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, ছোট ছেলে আহাদুর রহমান সাব্বিরের বিয়ের নতুন বউ ঘরে তোলার আনন্দ নিয়ে পুরো পরিবার মেতে ছিল। কিন্তু একটি দুর্ঘটনা সেই উৎসবের বাড়িকে শ্মশানে পরিণত করে সব স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দিল। পরিবারের সদস্যদের ইচ্ছায় তাদের সবাইকে একই স্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে যাতে তারা চিরনিদ্রায়ও একসঙ্গে থাকতে পারেন।

আপনার মতামত লিখুন