গত বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) কায়রোতে তুরস্ক ও মিশরের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে এক ফলপ্রসূ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন কাটিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক এখন এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই সফরের মাধ্যমে আঙ্কারা ও কায়রো কেবল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যই নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতায় একটি ‘নতুন নিরাপত্তা অক্ষ’ গড়ে তোলার ইঙ্গিত দিয়েছে।
বৈঠকের উল্লেখযোগ্য অর্জন ও আলোচনার মূল দিকগুলো হলো:
বাণিজ্যিক ও কৌশলগত লক্ষ্যমাত্রা দুই দেশ বর্তমানে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে ২০২৮ সালের মধ্যে ১৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এই লক্ষ্য অর্জনে প্রতিরক্ষা, বিনিয়োগ, জ্বালানি, পর্যটন এবং স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে মোট ১৮টি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। সৌহার্দ্যের প্রতীক হিসেবে প্রেসিডেন্ট এরদোগান মিশরের প্রেসিডেন্ট সিসিকে তুরস্কের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘টগ’ (TOGG) বৈদ্যুতিক গাড়ি উপহার দেন।
গাজ্জা ও ফিলিস্তিন ইস্যু আলোচনার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল গাজ্জা পরিস্থিতি। দুই নেতা গাজ্জায় অবিলম্বে ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়ে একমত হয়েছেন। তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন এবং ফিলিস্তিনিদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
আঞ্চলিক সংকট সমাধান লিবিয়ায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে। অতীতে লিবিয়া ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান বিপরীতমুখী থাকলেও এখন তারা জাতিসংঘের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক প্রক্রিয়া এবং লিবীয়-নেতৃত্বাধীন সমাধানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এছাড়া সুদানে মানবিক যুদ্ধবিরতি, সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সোমালিয়ার ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা বজায় রাখার বিষয়েও তারা অভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করেছে।
নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা দুই নেতার আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক ইস্যু এবং সামগ্রিক আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী ২০২৮ সালে আঙ্কারায় উচ্চ পর্যায়ের কৌশলগত সহযোগিতা পরিষদের তৃতীয় বৈঠক আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
গত বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) কায়রোতে তুরস্ক ও মিশরের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে এক ফলপ্রসূ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন কাটিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক এখন এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই সফরের মাধ্যমে আঙ্কারা ও কায়রো কেবল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যই নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতায় একটি ‘নতুন নিরাপত্তা অক্ষ’ গড়ে তোলার ইঙ্গিত দিয়েছে।
বৈঠকের উল্লেখযোগ্য অর্জন ও আলোচনার মূল দিকগুলো হলো:
বাণিজ্যিক ও কৌশলগত লক্ষ্যমাত্রা দুই দেশ বর্তমানে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে ২০২৮ সালের মধ্যে ১৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এই লক্ষ্য অর্জনে প্রতিরক্ষা, বিনিয়োগ, জ্বালানি, পর্যটন এবং স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে মোট ১৮টি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। সৌহার্দ্যের প্রতীক হিসেবে প্রেসিডেন্ট এরদোগান মিশরের প্রেসিডেন্ট সিসিকে তুরস্কের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘টগ’ (TOGG) বৈদ্যুতিক গাড়ি উপহার দেন।
গাজ্জা ও ফিলিস্তিন ইস্যু আলোচনার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল গাজ্জা পরিস্থিতি। দুই নেতা গাজ্জায় অবিলম্বে ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়ে একমত হয়েছেন। তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন এবং ফিলিস্তিনিদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
আঞ্চলিক সংকট সমাধান লিবিয়ায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে। অতীতে লিবিয়া ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান বিপরীতমুখী থাকলেও এখন তারা জাতিসংঘের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক প্রক্রিয়া এবং লিবীয়-নেতৃত্বাধীন সমাধানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এছাড়া সুদানে মানবিক যুদ্ধবিরতি, সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সোমালিয়ার ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা বজায় রাখার বিষয়েও তারা অভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করেছে।
নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা দুই নেতার আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক ইস্যু এবং সামগ্রিক আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আগামী ২০২৮ সালে আঙ্কারায় উচ্চ পর্যায়ের কৌশলগত সহযোগিতা পরিষদের তৃতীয় বৈঠক আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন