নওগাঁর রানীনগর উপজেলার খটেশ্বর গ্রামের এক অতি সাধারণ পরিবারে জন্ম মাফিয়া খাতুনের। জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মাফিয়া চরম প্রতিকূলতা জয় করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। তবে রিকশাচালক বাবা আমজাদ ফকিরের মৃত্যুর পর পরিবারের আর্থিক অবস্থা এতটাই ভেঙে পড়ে যে, মাস্টার্সে ভর্তি হওয়া মাফিয়ার জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অর্থাভাবে যখন উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন থমকে যাওয়ার উপক্রম, ঠিক তখনই ত্রাতা হয়ে এগিয়ে এলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
বৃহস্পতিবার ৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনী কাজের চরম ব্যস্ততার মাঝেও জেলা প্রশাসক তাঁর কার্যালয়ে মাফিয়াকে আমন্ত্রণ জানান। গৃহকর্মী মা ছামেনা বেগমের এই লড়াকু কন্যার সংগ্রামের কথা শুনে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং তাৎক্ষণিকভাবে মাফিয়াকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। জেলা প্রশাসক জানান, একজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়াশোনা টাকার অভাবে বন্ধ হয়ে যাবে—এটি মেনে নেওয়া অত্যন্ত কষ্টকর। রাষ্ট্র যে সবসময় অসহায় মানুষের পাশে থাকে, তা মাফিয়াকে বোঝানোর জন্যই তিনি এই উদ্যোগ নিয়েছেন।
মাফিয়া খাতুন জানান, তিনি বরিশালের এ আর এস উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ঢাকার বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি সামসুন্নাহার হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। মাফিয়া একা নন, তাঁর ছোট ভাই মোহাম্মদ আশিকও একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এবং তিনি বর্তমানে সিরাজগঞ্জের একটি কলেজে এইচএসসিতে অধ্যয়নরত। দুই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের শিক্ষার ব্যয় বহন করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছিলেন তাঁদের মা ছামেনা বেগম।
জেলা প্রশাসকের এই মানবিক সহায়তা পাওয়ার পর আবেগঘন কণ্ঠে মাফিয়া জানান, ডিসি স্যার অত্যন্ত মানবিক বলেই তাঁর মতো একজন মানুষের জন্য সময় বের করেছেন। এই সহায়তার ফলে এখন তাঁর মাস্টার্সে ভর্তির পথ সুগম হলো। একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী হিসেবে মাফিয়ার এই সংগ্রাম সমাজের অন্যান্যদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নওগাঁর রানীনগর উপজেলার খটেশ্বর গ্রামের এক অতি সাধারণ পরিবারে জন্ম মাফিয়া খাতুনের। জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মাফিয়া চরম প্রতিকূলতা জয় করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। তবে রিকশাচালক বাবা আমজাদ ফকিরের মৃত্যুর পর পরিবারের আর্থিক অবস্থা এতটাই ভেঙে পড়ে যে, মাস্টার্সে ভর্তি হওয়া মাফিয়ার জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অর্থাভাবে যখন উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন থমকে যাওয়ার উপক্রম, ঠিক তখনই ত্রাতা হয়ে এগিয়ে এলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
বৃহস্পতিবার ৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনী কাজের চরম ব্যস্ততার মাঝেও জেলা প্রশাসক তাঁর কার্যালয়ে মাফিয়াকে আমন্ত্রণ জানান। গৃহকর্মী মা ছামেনা বেগমের এই লড়াকু কন্যার সংগ্রামের কথা শুনে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং তাৎক্ষণিকভাবে মাফিয়াকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। জেলা প্রশাসক জানান, একজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়াশোনা টাকার অভাবে বন্ধ হয়ে যাবে—এটি মেনে নেওয়া অত্যন্ত কষ্টকর। রাষ্ট্র যে সবসময় অসহায় মানুষের পাশে থাকে, তা মাফিয়াকে বোঝানোর জন্যই তিনি এই উদ্যোগ নিয়েছেন।
মাফিয়া খাতুন জানান, তিনি বরিশালের এ আর এস উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ঢাকার বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি সামসুন্নাহার হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। মাফিয়া একা নন, তাঁর ছোট ভাই মোহাম্মদ আশিকও একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এবং তিনি বর্তমানে সিরাজগঞ্জের একটি কলেজে এইচএসসিতে অধ্যয়নরত। দুই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের শিক্ষার ব্যয় বহন করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছিলেন তাঁদের মা ছামেনা বেগম।
জেলা প্রশাসকের এই মানবিক সহায়তা পাওয়ার পর আবেগঘন কণ্ঠে মাফিয়া জানান, ডিসি স্যার অত্যন্ত মানবিক বলেই তাঁর মতো একজন মানুষের জন্য সময় বের করেছেন। এই সহায়তার ফলে এখন তাঁর মাস্টার্সে ভর্তির পথ সুগম হলো। একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী হিসেবে মাফিয়ার এই সংগ্রাম সমাজের অন্যান্যদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা।

আপনার মতামত লিখুন