ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ট্রাম্পের ‘শুল্ক যুদ্ধের’ হুমকি উপেক্ষা: কিউবায় তেল সরবরাহ সচল রাখছে মস্কো


 নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ট্রাম্পের ‘শুল্ক যুদ্ধের’ হুমকি উপেক্ষা: কিউবায় তেল সরবরাহ সচল রাখছে মস্কো


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর বাণিজ্যিক হুঁশিয়ারি ও শুল্ক আরোপের হুমকি সত্ত্বেও কিউবায় জ্বালানি তেল সরবরাহ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) হাভানায় নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত ভিক্টর করোনেলি এক বিবৃতিতে জানান, মস্কো অতীতেও কিউবাকে জ্বালানি সহায়তা দিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা বজায় রাখবে। ট্রাম্প প্রশাসন যখন কিউবার অর্থনীতিকে চারদিক থেকে অবরুদ্ধ করার নীতি গ্রহণ করেছে, তখন রাশিয়ার এই অবস্থান ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধকে আরও উসকে দিল।

ট্রাম্পের ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ ও শুল্ক হুঁশিয়ারি গত ৩০ জানুয়ারি এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কিউবাকে ‘মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ হিসেবে ঘোষণা করেন। ওই আদেশে বলা হয়, যেসব দেশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কিউবাকে তেল সরবরাহ করবে, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা পণ্যের ওপর চড়া শুল্ক (Ad Valorem Tariff) আরোপ করা হবে। ট্রাম্পের দাবি, ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ বন্ধ হওয়ার পর কিউবার কমিউনিস্ট সরকার এখন পতনের মুখে এবং এই চূড়ান্ত সময়ে কেউ সহায়তা করলে তাকে অর্থনৈতিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

রুশ ও চীনা অনড় অবস্থান মার্কিন এই পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ ও ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছে ক্রেমলিন। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, রাশিয়া সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলোর ওপর একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধী। অন্যদিকে, চীনও কিউবার পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। বেইজিং জানিয়েছে, তারা হাভানার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বদ্ধপরিকর এবং মার্কিন শুল্কের হুমকিতে তাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ব্যাহত হবে না। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও চীন—উভয় দেশই কিউবাকে তাদের কৌশলগত মিত্র হিসেবে বিবেচনা করে, যা ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

কিউবায় জ্বালানি সংকট ও মানবিক পরিস্থিতি ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আসা বন্ধ হওয়ার পর থেকেই কিউবায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। রাজধানী হাভানাসহ পুরো দেশে দীর্ঘসময় লোডশেডিং এবং গণপরিবহন ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন এই শুল্ক নীতি দ্বীপরাষ্ট্রটির খাদ্য ও ওষুধের দামও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই সংকটের মুহূর্তে রাশিয়ার তেলের চালান কিউবার সরকারের জন্য একটি বড় ‘লাইফলাইন’ হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ইউক্রেন যুদ্ধ ও পরমাণু চুক্তির পর কিউবা ইস্যু এখন যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সম্পর্কের নতুন এক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ট্রাম্পের ‘শুল্ক যুদ্ধের’ হুমকি উপেক্ষা: কিউবায় তেল সরবরাহ সচল রাখছে মস্কো

প্রকাশের তারিখ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর বাণিজ্যিক হুঁশিয়ারি ও শুল্ক আরোপের হুমকি সত্ত্বেও কিউবায় জ্বালানি তেল সরবরাহ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) হাভানায় নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত ভিক্টর করোনেলি এক বিবৃতিতে জানান, মস্কো অতীতেও কিউবাকে জ্বালানি সহায়তা দিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা বজায় রাখবে। ট্রাম্প প্রশাসন যখন কিউবার অর্থনীতিকে চারদিক থেকে অবরুদ্ধ করার নীতি গ্রহণ করেছে, তখন রাশিয়ার এই অবস্থান ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধকে আরও উসকে দিল।

ট্রাম্পের ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ ও শুল্ক হুঁশিয়ারি গত ৩০ জানুয়ারি এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কিউবাকে ‘মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ হিসেবে ঘোষণা করেন। ওই আদেশে বলা হয়, যেসব দেশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কিউবাকে তেল সরবরাহ করবে, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা পণ্যের ওপর চড়া শুল্ক (Ad Valorem Tariff) আরোপ করা হবে। ট্রাম্পের দাবি, ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহ বন্ধ হওয়ার পর কিউবার কমিউনিস্ট সরকার এখন পতনের মুখে এবং এই চূড়ান্ত সময়ে কেউ সহায়তা করলে তাকে অর্থনৈতিক পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।

রুশ ও চীনা অনড় অবস্থান মার্কিন এই পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ ও ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে অভিহিত করেছে ক্রেমলিন। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, রাশিয়া সার্বভৌম রাষ্ট্রগুলোর ওপর একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধী। অন্যদিকে, চীনও কিউবার পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। বেইজিং জানিয়েছে, তারা হাভানার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বদ্ধপরিকর এবং মার্কিন শুল্কের হুমকিতে তাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ব্যাহত হবে না। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও চীন—উভয় দেশই কিউবাকে তাদের কৌশলগত মিত্র হিসেবে বিবেচনা করে, যা ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

কিউবায় জ্বালানি সংকট ও মানবিক পরিস্থিতি ভেনেজুয়েলা থেকে তেল আসা বন্ধ হওয়ার পর থেকেই কিউবায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। রাজধানী হাভানাসহ পুরো দেশে দীর্ঘসময় লোডশেডিং এবং গণপরিবহন ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন এই শুল্ক নীতি দ্বীপরাষ্ট্রটির খাদ্য ও ওষুধের দামও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই সংকটের মুহূর্তে রাশিয়ার তেলের চালান কিউবার সরকারের জন্য একটি বড় ‘লাইফলাইন’ হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ইউক্রেন যুদ্ধ ও পরমাণু চুক্তির পর কিউবা ইস্যু এখন যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সম্পর্কের নতুন এক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ