ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শরিয়াহ সম্পর্কে অজ্ঞরাই নতুন দণ্ডবিধি নিয়ে সমালোচনা করছে: আফগানিস্তান


 নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

শরিয়াহ সম্পর্কে অজ্ঞরাই নতুন দণ্ডবিধি নিয়ে সমালোচনা করছে: আফগানিস্তান

আফগানিস্তানে নতুন দণ্ডবিধি অনুমোদনের বিষয়ে ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের মুখপাত্র মাওলানা জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, বিচারকদের কার্যপ্রণালি আরও স্পষ্ট করা এবং মামলার নিষ্পত্তি সহজ ও দ্রুত করার লক্ষ্যেই এই দণ্ডবিধি প্রণয়ন করা হয়েছে। তাঁর দাবি, নতুন দণ্ডবিধিটি আগের তুলনায় বেশি পরিপূর্ণ ও বাস্তবভিত্তিক, যা বিচারিক প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি করবে।

আফগান গণমাধ্যম তোলো নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নতুন দণ্ডবিধি নিয়ে যে সমালোচনা হচ্ছে, তার বড় অংশই আসছে এমন ব্যক্তিদের কাছ থেকে, যাদের ইসলামী শরিয়াহ সম্পর্কে যথাযথ ধারণা নেই অথবা যারা বাইরের দৃষ্টিভঙ্গির দ্বারা প্রভাবিত।

মাওলানা জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, আগেও আফগানিস্তানে একটি দণ্ডবিধি কার্যকর ছিল, তবে সেটি ছিল সাধারণ কাঠামোর। নতুন দণ্ডবিধিটি আরও স্পষ্ট, বিস্তারিত ও সহজভাবে প্রণয়ন করা হয়েছে, যাতে বিচারকরা মামলার খুঁটিনাটি বিষয় দ্রুত ও নির্ভুলভাবে নিষ্পত্তি করতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, গত চার দশকে আফগান জনগণ বিভিন্ন ধরনের সরকার ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রত্যক্ষ করেছে। যেসব সরকারকে অতীতে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, সেগুলো দেশটিতে স্থিতিশীলতা, শান্তি কিংবা টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। রাজনৈতিক বিভাজন ও দীর্ঘদিনের যুদ্ধই আফগান জনগণের দুর্ভোগ ও ভোগান্তির প্রধান কারণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মুজাহিদের মতে, প্রকৃত শান্তি অর্জনের জন্য একটি দায়িত্বশীল ও দৃঢ় অঙ্গীকারসম্পন্ন একক ব্যবস্থার প্রয়োজন। তিনি বলেন, আফগানিস্তানের জনগণের প্রয়োজন কিছু সময় রাজনৈতিক বিভাজনমুক্ত পরিবেশে একসঙ্গে বসবাস করা, যাতে দেশটি স্থিতিশীলতার পথে এগোতে পারে।

সাক্ষাৎকারে পাক-আফগান সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাবুল কোনো দেশের সঙ্গে সংঘাত বা অস্থিতিশীলতা চায় না, বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে। তাঁর ভাষায়, পাকিস্তানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আফগানিস্তানের স্বার্থের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তিনি জানান, ইমারাতে ইসলামিয়ার নীতি হলো অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা।

এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মত দিয়েছেন। বিশ্লেষক সামিউল্লাহ আহমাদজাই বলেন, ইমারাতে ইসলামিয়া বরাবরই দাবি করে আসছে যে তারা কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না এবং পাকিস্তানের বিষয়গুলোও সে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবেই বিবেচিত।

পাকিস্তানে আফগানিস্তানের সাবেক কূটনীতিক আমির মোহাম্মদ গ্রান বলেন, আফগানিস্তান কখনোই প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধকে সমর্থন করেনি, কারণ যুদ্ধ শুধু ধ্বংস, প্রাণহানি ও অস্থিতিশীলতাই ডেকে আনে।

সাক্ষাৎকারের শেষাংশে জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ। তিনি বলেন, জাতিসংঘের উচিত আফগান জনগণের ভবিষ্যৎ নিজের কাঁধে তুলে নেওয়া বা দেশের বিষয়ে শর্ত আরোপ করা থেকে বিরত থাকা। তাঁর মতে, সংস্থাটির উচিত নিজ দায়িত্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আফগানিস্তান যেন তার ন্যায্য অধিকার ভোগ করতে পারে, সে বিষয়ে সহায়তা করা।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


শরিয়াহ সম্পর্কে অজ্ঞরাই নতুন দণ্ডবিধি নিয়ে সমালোচনা করছে: আফগানিস্তান

প্রকাশের তারিখ : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

আফগানিস্তানে নতুন দণ্ডবিধি অনুমোদনের বিষয়ে ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের মুখপাত্র মাওলানা জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, বিচারকদের কার্যপ্রণালি আরও স্পষ্ট করা এবং মামলার নিষ্পত্তি সহজ ও দ্রুত করার লক্ষ্যেই এই দণ্ডবিধি প্রণয়ন করা হয়েছে। তাঁর দাবি, নতুন দণ্ডবিধিটি আগের তুলনায় বেশি পরিপূর্ণ ও বাস্তবভিত্তিক, যা বিচারিক প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি করবে।

আফগান গণমাধ্যম তোলো নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নতুন দণ্ডবিধি নিয়ে যে সমালোচনা হচ্ছে, তার বড় অংশই আসছে এমন ব্যক্তিদের কাছ থেকে, যাদের ইসলামী শরিয়াহ সম্পর্কে যথাযথ ধারণা নেই অথবা যারা বাইরের দৃষ্টিভঙ্গির দ্বারা প্রভাবিত।

মাওলানা জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, আগেও আফগানিস্তানে একটি দণ্ডবিধি কার্যকর ছিল, তবে সেটি ছিল সাধারণ কাঠামোর। নতুন দণ্ডবিধিটি আরও স্পষ্ট, বিস্তারিত ও সহজভাবে প্রণয়ন করা হয়েছে, যাতে বিচারকরা মামলার খুঁটিনাটি বিষয় দ্রুত ও নির্ভুলভাবে নিষ্পত্তি করতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, গত চার দশকে আফগান জনগণ বিভিন্ন ধরনের সরকার ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রত্যক্ষ করেছে। যেসব সরকারকে অতীতে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, সেগুলো দেশটিতে স্থিতিশীলতা, শান্তি কিংবা টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। রাজনৈতিক বিভাজন ও দীর্ঘদিনের যুদ্ধই আফগান জনগণের দুর্ভোগ ও ভোগান্তির প্রধান কারণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মুজাহিদের মতে, প্রকৃত শান্তি অর্জনের জন্য একটি দায়িত্বশীল ও দৃঢ় অঙ্গীকারসম্পন্ন একক ব্যবস্থার প্রয়োজন। তিনি বলেন, আফগানিস্তানের জনগণের প্রয়োজন কিছু সময় রাজনৈতিক বিভাজনমুক্ত পরিবেশে একসঙ্গে বসবাস করা, যাতে দেশটি স্থিতিশীলতার পথে এগোতে পারে।

সাক্ষাৎকারে পাক-আফগান সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাবুল কোনো দেশের সঙ্গে সংঘাত বা অস্থিতিশীলতা চায় না, বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে। তাঁর ভাষায়, পাকিস্তানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আফগানিস্তানের স্বার্থের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত। তিনি জানান, ইমারাতে ইসলামিয়ার নীতি হলো অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা।

এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মত দিয়েছেন। বিশ্লেষক সামিউল্লাহ আহমাদজাই বলেন, ইমারাতে ইসলামিয়া বরাবরই দাবি করে আসছে যে তারা কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না এবং পাকিস্তানের বিষয়গুলোও সে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবেই বিবেচিত।

পাকিস্তানে আফগানিস্তানের সাবেক কূটনীতিক আমির মোহাম্মদ গ্রান বলেন, আফগানিস্তান কখনোই প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধকে সমর্থন করেনি, কারণ যুদ্ধ শুধু ধ্বংস, প্রাণহানি ও অস্থিতিশীলতাই ডেকে আনে।

সাক্ষাৎকারের শেষাংশে জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ। তিনি বলেন, জাতিসংঘের উচিত আফগান জনগণের ভবিষ্যৎ নিজের কাঁধে তুলে নেওয়া বা দেশের বিষয়ে শর্ত আরোপ করা থেকে বিরত থাকা। তাঁর মতে, সংস্থাটির উচিত নিজ দায়িত্বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আফগানিস্তান যেন তার ন্যায্য অধিকার ভোগ করতে পারে, সে বিষয়ে সহায়তা করা।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ