ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ইউরোপীয় দেশগুলোর সেনাবাহিনীকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করল ইরান


 নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ইউরোপীয় দেশগুলোর সেনাবাহিনীকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করল ইরান


ইউরোপীয় ইউনিয়ন কর্তৃক ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে (আইআরজিসি) সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে এবার ইউরোপের দেশগুলোর সেনাবাহিনীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে তেহরান। রবিবার ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন। মূলত আইআরজিসি’র ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় ইরান এই চরম কূটনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করল।

বিপ্লবী গার্ডের ইউনিফর্ম পরে দেওয়া এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় স্পিকার গালিবাফ স্পষ্ট জানান, দেশের বিদ্যমান আইনের ৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী ইউরোপীয় দেশগুলোর সামরিক বাহিনীকে এখন থেকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে অন্ধভাবে অনুসরণ করতে গিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এর মাধ্যমে তারা কার্যত নিজেদেরই ক্ষতি করেছে।

এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের নেপথ্যে রয়েছে গত মাসে ইরানে ছড়িয়ে পড়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ। ওই বিক্ষোভ দমনে বিপ্লবী গার্ড কঠোর অবস্থান নিলে গত সপ্তাহে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা দেয়। ইরানের পার্লামেন্ট এখন ইউরোপীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটিকে দায়িত্ব দিয়েছে। এর আওতায় সংশ্লিষ্টদের ইরান থেকে বহিষ্কারসহ নানা কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে ইসলামিক বিপ্লব রক্ষার উদ্দেশ্যে গঠিত এই আইআরজিসি ইরানের সামরিক বাহিনীর অন্যতম শক্তিশালী শাখা। দেশটির রাজনীতি, অর্থনীতি ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে এই বাহিনীর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা কৌশলে আইআরজিসি প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির ফলে ইরান ও ইউরোপের মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ইউরোপীয় দেশগুলোর সেনাবাহিনীকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করল ইরান

প্রকাশের তারিখ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image


ইউরোপীয় ইউনিয়ন কর্তৃক ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে (আইআরজিসি) সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে এবার ইউরোপের দেশগুলোর সেনাবাহিনীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে তেহরান। রবিবার ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন। মূলত আইআরজিসি’র ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় ইরান এই চরম কূটনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করল।

বিপ্লবী গার্ডের ইউনিফর্ম পরে দেওয়া এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় স্পিকার গালিবাফ স্পষ্ট জানান, দেশের বিদ্যমান আইনের ৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী ইউরোপীয় দেশগুলোর সামরিক বাহিনীকে এখন থেকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে অন্ধভাবে অনুসরণ করতে গিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এর মাধ্যমে তারা কার্যত নিজেদেরই ক্ষতি করেছে।

এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের নেপথ্যে রয়েছে গত মাসে ইরানে ছড়িয়ে পড়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ। ওই বিক্ষোভ দমনে বিপ্লবী গার্ড কঠোর অবস্থান নিলে গত সপ্তাহে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা দেয়। ইরানের পার্লামেন্ট এখন ইউরোপীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটিকে দায়িত্ব দিয়েছে। এর আওতায় সংশ্লিষ্টদের ইরান থেকে বহিষ্কারসহ নানা কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে ইসলামিক বিপ্লব রক্ষার উদ্দেশ্যে গঠিত এই আইআরজিসি ইরানের সামরিক বাহিনীর অন্যতম শক্তিশালী শাখা। দেশটির রাজনীতি, অর্থনীতি ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে এই বাহিনীর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা কৌশলে আইআরজিসি প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির ফলে ইরান ও ইউরোপের মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ