ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সাময়িক লেনদেন সীমাবদ্ধতা

নির্বাচনের ঘিরে সীমিত হচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা


অর্থনীতি ডেস্ক :
অর্থনীতি ডেস্ক :
প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

নির্বাচনের ঘিরে সীমিত হচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মোবাইল ব্যাংকিং (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে বিকাশ, রকেট, নগদসহ সব এমএফএস প্ল্যাটফর্মে একবারে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পাঠানো যাবে এবং দিনে মোট লেনদেনের সীমা হবে ১০ হাজার টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, এই সীমাবদ্ধতা আগামী ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকতে পারে। একই সময়ে ব্যাংকের অ্যাপ ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার করে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি অর্থ স্থানান্তর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।

গত সপ্তাহে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, “নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রজ্ঞাপন জারি করে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও এমএফএস সেবাদাতাদের বিষয়টি জানিয়ে দেবে।”

নির্বাচনে ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থের অপব্যবহার রোধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা দিয়েছে, যা বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে লেনদেনের পরিমাণ চূড়ান্তভাবে কিছুটা কমবেশি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, নির্বাচন কমিশনের অনুরোধ অনুযায়ী অর্থ লেনদেন সীমিত করার বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। নিয়ন্ত্রণ সংস্থাটির কর্মকর্তাদের মতে, সিটিআরে কোনো অস্বাভাবিক লেনদেন ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক প্রথমে ব্যবস্থা নেবে। এতে ব্যর্থ হলে ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্তমানে বিকাশ, রকেট ও নগদের গ্রাহকেরা দিনে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা এবং মাসে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করতে পারেন। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫০টি ও মাসে ১০০টি লেনদেনের সুযোগ রয়েছে। নির্বাচনের সময় বিএফআইইউ প্রস্তাব করেছে, একজন গ্রাহক দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পাঠাতে পারবেন, প্রতিটি লেনদেন হবে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা এবং দিনে লেনদেন করা যাবে ১০ বার। এই সীমা ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবস্থাতেও সীমাবদ্ধতার প্রস্তাব এসেছে। বর্তমানে ব্যাংকের অ্যাপ ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ব্যক্তি গ্রাহকরা দৈনিক সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা স্থানান্তর করতে পারেন। প্রতিটি লেনদেনের সীমা তিন লাখ টাকা এবং দিনে সর্বোচ্চ ১০টি লেনদেন করা যায়। ব্র্যাক ব্যাংকের ‘আস্থা’, সিটি ব্যাংকের ‘সিটিটাচ’, ইসলামী ব্যাংকের ‘সেলফিন’, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ‘নেক্সাস পে’ ও পূবালী ব্যাংকের ‘পাই’ অ্যাপের মাধ্যমে এই সেবা জনপ্রিয়। নির্বাচনের সময় এসব অ্যাপ ব্যবহার করে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি অর্থ স্থানান্তর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছে বিএফআইইউ, যা বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে।

এদিকে, নগদ লেনদেনে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। ১১ জানুয়ারি থেকে নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো হিসাব থেকে এক দিনে এক বা একাধিক লেনদেনের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদ জমা বা উত্তোলন হলে তা বাধ্যতামূলকভাবে বিএফআইইউকে সিটিআর হিসেবে জানাতে হবে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই সিটিআর সাপ্তাহিক ভিত্তিতে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলে ব্যর্থতা বা ভুল/অসম্পূর্ণ তথ্য দিলে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


নির্বাচনের ঘিরে সীমিত হচ্ছে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা

প্রকাশের তারিখ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মোবাইল ব্যাংকিং (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই পদক্ষেপ কার্যকর হলে বিকাশ, রকেট, নগদসহ সব এমএফএস প্ল্যাটফর্মে একবারে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা পাঠানো যাবে এবং দিনে মোট লেনদেনের সীমা হবে ১০ হাজার টাকা।


বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, এই সীমাবদ্ধতা আগামী ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকতে পারে। একই সময়ে ব্যাংকের অ্যাপ ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার করে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি অর্থ স্থানান্তর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।


গত সপ্তাহে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, “নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রজ্ঞাপন জারি করে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও এমএফএস সেবাদাতাদের বিষয়টি জানিয়ে দেবে।”


নির্বাচনে ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থের অপব্যবহার রোধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা দিয়েছে, যা বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে লেনদেনের পরিমাণ চূড়ান্তভাবে কিছুটা কমবেশি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, নির্বাচন কমিশনের অনুরোধ অনুযায়ী অর্থ লেনদেন সীমিত করার বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। নিয়ন্ত্রণ সংস্থাটির কর্মকর্তাদের মতে, সিটিআরে কোনো অস্বাভাবিক লেনদেন ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক প্রথমে ব্যবস্থা নেবে। এতে ব্যর্থ হলে ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


বর্তমানে বিকাশ, রকেট ও নগদের গ্রাহকেরা দিনে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা এবং মাসে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করতে পারেন। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫০টি ও মাসে ১০০টি লেনদেনের সুযোগ রয়েছে। নির্বাচনের সময় বিএফআইইউ প্রস্তাব করেছে, একজন গ্রাহক দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পাঠাতে পারবেন, প্রতিটি লেনদেন হবে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা এবং দিনে লেনদেন করা যাবে ১০ বার। এই সীমা ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।


ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবস্থাতেও সীমাবদ্ধতার প্রস্তাব এসেছে। বর্তমানে ব্যাংকের অ্যাপ ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ব্যক্তি গ্রাহকরা দৈনিক সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা স্থানান্তর করতে পারেন। প্রতিটি লেনদেনের সীমা তিন লাখ টাকা এবং দিনে সর্বোচ্চ ১০টি লেনদেন করা যায়। ব্র্যাক ব্যাংকের ‘আস্থা’, সিটি ব্যাংকের ‘সিটিটাচ’, ইসলামী ব্যাংকের ‘সেলফিন’, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ‘নেক্সাস পে’ ও পূবালী ব্যাংকের ‘পাই’ অ্যাপের মাধ্যমে এই সেবা জনপ্রিয়। নির্বাচনের সময় এসব অ্যাপ ব্যবহার করে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি অর্থ স্থানান্তর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছে বিএফআইইউ, যা বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে।


এদিকে, নগদ লেনদেনে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। ১১ জানুয়ারি থেকে নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো হিসাব থেকে এক দিনে এক বা একাধিক লেনদেনের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি নগদ জমা বা উত্তোলন হলে তা বাধ্যতামূলকভাবে বিএফআইইউকে সিটিআর হিসেবে জানাতে হবে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই সিটিআর সাপ্তাহিক ভিত্তিতে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলে ব্যর্থতা বা ভুল/অসম্পূর্ণ তথ্য দিলে অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ