বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করলে শেরপুরে রেললাইন স্থাপন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ বিগত ৫৪ বছরের পুঞ্জীভূত উন্নয়ন বঞ্চনা দূর করার ঘোষণা দিয়েছেন দলটির আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব প্রতিশ্রুতি দেন। ১১ দলীয় জোটের এই জনসভাটি স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে এক পর্যায়ে জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার অর্ধা শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও শেরপুর জেলায় উচ্চশিক্ষা ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাব রয়ে গেছে। তিনি অঙ্গীকার করেন, জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই জেলায় রেললাইন সম্প্রসারণ এবং একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করবে।
নারীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে জামায়াত আমীর বলেন, যারা নারীদের যথাযোগ্য সম্মান দিতে জানে না, তারাই আজ ভিন্ন ভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নেমেছে। তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামী নারীদের ঘর, যাতায়াত ও কর্মস্থলে পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মায়েদের প্রতি যেকোনো ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে তিনি জানান, নারীদের মর্যাদা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি করা তাদের অন্যতম লক্ষ্য।
এ সময় ডা. শফিকুর রহমান সরকারি চাকরিজীবীদের মর্যাদা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেশাগত সম্মান অক্ষুণ্ণ রেখে বিদ্যমান বেতন বৈষম্য দূর করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার জামায়াত সেক্রেটারি শহীদ হাফেজ মাওলানা রেজাউল করিমের হত্যাকাণ্ড নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন দলীয় প্রধান। তিনি অভিযোগ করেন, নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের তিন দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তিনি দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। হত্যাকাণ্ডের পর ডা. শফিকুর রহমান নিহত নেতার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং মরহুমের কবর জিয়ারত করেন।
নির্বাচনী সহিংসতা প্রসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জামায়াত প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। তবে নির্বাচনী প্রচারণা বা কার্যক্রমে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী বাধা আসলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, সহিংসতা হলে তার সমান জবাব দিতে হবে।
নতুন ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "তারুণ্যের প্রথম ভোট হোক ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে।" ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে তরুণ সমাজ একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করলে শেরপুরে রেললাইন স্থাপন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ বিগত ৫৪ বছরের পুঞ্জীভূত উন্নয়ন বঞ্চনা দূর করার ঘোষণা দিয়েছেন দলটির আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) শেরপুর জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব প্রতিশ্রুতি দেন। ১১ দলীয় জোটের এই জনসভাটি স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে এক পর্যায়ে জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার অর্ধা শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও শেরপুর জেলায় উচ্চশিক্ষা ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাব রয়ে গেছে। তিনি অঙ্গীকার করেন, জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই জেলায় রেললাইন সম্প্রসারণ এবং একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করবে।
নারীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে জামায়াত আমীর বলেন, যারা নারীদের যথাযোগ্য সম্মান দিতে জানে না, তারাই আজ ভিন্ন ভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নেমেছে। তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামী নারীদের ঘর, যাতায়াত ও কর্মস্থলে পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মায়েদের প্রতি যেকোনো ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে তিনি জানান, নারীদের মর্যাদা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি করা তাদের অন্যতম লক্ষ্য।
এ সময় ডা. শফিকুর রহমান সরকারি চাকরিজীবীদের মর্যাদা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেশাগত সম্মান অক্ষুণ্ণ রেখে বিদ্যমান বেতন বৈষম্য দূর করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার জামায়াত সেক্রেটারি শহীদ হাফেজ মাওলানা রেজাউল করিমের হত্যাকাণ্ড নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন দলীয় প্রধান। তিনি অভিযোগ করেন, নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের তিন দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তিনি দ্রুত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। হত্যাকাণ্ডের পর ডা. শফিকুর রহমান নিহত নেতার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং মরহুমের কবর জিয়ারত করেন।
নির্বাচনী সহিংসতা প্রসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জামায়াত প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। তবে নির্বাচনী প্রচারণা বা কার্যক্রমে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী বাধা আসলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, সহিংসতা হলে তার সমান জবাব দিতে হবে।
নতুন ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "তারুণ্যের প্রথম ভোট হোক ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে।" ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে তরুণ সমাজ একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আপনার মতামত লিখুন