ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের নতুন ইতিহাস, প্রথমবার আউন্সপ্রতি ৫,২০০ ডলার ছাড়াল


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের নতুন ইতিহাস, প্রথমবার আউন্সপ্রতি ৫,২০০ ডলার ছাড়াল


বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ইতিহাসে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের মূল্য শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ২১৯ দশমিক ৯৭ ডলারে পৌঁছায়। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ২০০ ডলারের ঘর অতিক্রম করল।

চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত স্বর্ণের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে স্বর্ণের দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ২১৬ দশমিক ৮০ ডলারে লেনদেন হয়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ডলারের দুর্বলতা এই মূল্যবৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।

মার্কিন ডলারের বিনিময় হার চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসায় এবং বিশ্বজুড়ে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন। এর ফলেই স্বর্ণের বাজারে এই তীব্র ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষক কেলভিন ওং বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর ডলারের মান আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প ডলারের বর্তমান মূল্যকে ‘অতিরিক্ত বেশি’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং ফেডারেল রিজার্ভের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর সুদের হার কমাতে পারেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সুদের হার কমার সম্ভাবনা ডলারকে আরও দুর্বল করছে। ফলে স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ বাড়ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে স্বর্ণের দাম অদূর ভবিষ্যতে আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ২৪০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম বছরের শুরু থেকে প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১১৩ দশমিক ৬৩ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৬৭৯ দশমিক ১৫ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ হাজার ৯৫১ দশমিক ৯৩ ডলারে স্থিত হয়েছে।

ডয়চে ব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ডলারের বিকল্প হিসেবে বাস্তব সম্পদে বিনিয়োগ বাড়তে থাকলে ২০২৬ সালের মধ্যে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৬ হাজার ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার প্রভাব বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ডলারের দুর্বলতা ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা দীর্ঘস্থায়ী হলে স্বর্ণ ও রুপার বাজারে এই উত্থান অব্যাহত থাকতে পারে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে স্বর্ণ বিনিয়োগকারীদের কাছে কেবল অলঙ্কার নয়, বরং অর্থনৈতিক অস্থিরতা থেকে সুরক্ষার একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বর্ণের পরিমাণ বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


বিশ্ববাজারে স্বর্ণের নতুন ইতিহাস, প্রথমবার আউন্সপ্রতি ৫,২০০ ডলার ছাড়াল

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image


বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ইতিহাসে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের মূল্য শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ২১৯ দশমিক ৯৭ ডলারে পৌঁছায়। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ২০০ ডলারের ঘর অতিক্রম করল।

চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত স্বর্ণের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে স্বর্ণের দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ২১৬ দশমিক ৮০ ডলারে লেনদেন হয়। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ডলারের দুর্বলতা এই মূল্যবৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।

মার্কিন ডলারের বিনিময় হার চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসায় এবং বিশ্বজুড়ে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন। এর ফলেই স্বর্ণের বাজারে এই তীব্র ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষক কেলভিন ওং বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর ডলারের মান আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প ডলারের বর্তমান মূল্যকে ‘অতিরিক্ত বেশি’ বলে উল্লেখ করেছেন এবং ফেডারেল রিজার্ভের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর সুদের হার কমাতে পারেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সুদের হার কমার সম্ভাবনা ডলারকে আরও দুর্বল করছে। ফলে স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ বাড়ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে স্বর্ণের দাম অদূর ভবিষ্যতে আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ২৪০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম বছরের শুরু থেকে প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১১৩ দশমিক ৬৩ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে প্লাটিনামের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৬৭৯ দশমিক ১৫ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ হাজার ৯৫১ দশমিক ৯৩ ডলারে স্থিত হয়েছে।

ডয়চে ব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ডলারের বিকল্প হিসেবে বাস্তব সম্পদে বিনিয়োগ বাড়তে থাকলে ২০২৬ সালের মধ্যে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৬ হাজার ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার প্রভাব বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ডলারের দুর্বলতা ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা দীর্ঘস্থায়ী হলে স্বর্ণ ও রুপার বাজারে এই উত্থান অব্যাহত থাকতে পারে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে স্বর্ণ বিনিয়োগকারীদের কাছে কেবল অলঙ্কার নয়, বরং অর্থনৈতিক অস্থিরতা থেকে সুরক্ষার একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বর্ণের পরিমাণ বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ