ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর আগ্রহ পেপ্যালের, তবে প্রক্রিয়ায় সময় লাগবে: লুৎফে সিদ্দিকী


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর আগ্রহ পেপ্যালের, তবে প্রক্রিয়ায় সময় লাগবে: লুৎফে সিদ্দিকী


বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে নীতিগত আগ্রহ প্রকাশ করেছে বহুজাতিক আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান পেপ্যাল, তবে নতুন বাজারে প্রবেশের দীর্ঘ ও ধাপে ধাপে অনুসরণযোগ্য প্রক্রিয়ার কারণে তা বাস্তবায়নে সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক–বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী।

বাংলাদেশে পেপ্যালের কার্যক্রম শুরুর সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী হলেও তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির প্রবেশ ঘটছে—এমন কোনো ধারণা দেওয়া ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক–বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। তিনি বলেন, পেপ্যাল নতুন কোনো দেশে কার্যক্রম শুরু করার আগে দীর্ঘ অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে, যা সম্পন্ন হতে সময় লাগে।

মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমের সামনে তিনি এসব কথা বলেন। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ ও সেখানে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন বৈঠক নিয়ে এই ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

লুৎফে সিদ্দিকী জানান, গত সপ্তাহে দাভোসে ডব্লিউইএফ সম্মেলনের ফাঁকে পেপ্যালের সঙ্গে তার একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে নীতিগতভাবে পেপ্যাল বাংলাদেশে প্রবেশে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই আগ্রহকে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত বা দ্রুত কার্যক্রম শুরুর ইঙ্গিত হিসেবে দেখা উচিত নয়।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও পেপ্যালের মধ্যে আলোচনা বহু বছর ধরেই চলমান থাকলেও বিভিন্ন বাস্তবতা ও নীতিগত কারণে প্রতিষ্ঠানটি আগে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে আগ্রহ দেখায়নি। সাম্প্রতিক সময়ে তার পক্ষ থেকে কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিক যোগাযোগ ও অনুরোধের পর গত ডিসেম্বর পেপ্যালের একটি জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করে।

সফরকালে ওই প্রতিনিধিদল চার থেকে পাঁচ দিন ধরে দেশের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ তথ্যপ্রযুক্তি ও আর্থিক খাতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে বলে জানান লুৎফে সিদ্দিকী।

তিনি বলেন, ‘এই প্রথম আমি পেপ্যালের সঙ্গে সরাসরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছি। তারা আগ্রহী হলেও এখন প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া শুরু হবে।’

এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পেপ্যালের অভ্যন্তরীণ আলোচনা, বিভিন্ন পর্যায়ের পর্যালোচনা এবং পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে বলে জানান তিনি। এসব ধাপ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে পেপ্যালের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে—এমন কোনো প্রত্যাশা তৈরি করতে চায় না প্রতিষ্ঠানটি।

নিজের ব্যক্তিগত মূল্যায়নের কথা তুলে ধরে লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, পেপ্যাল বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে এখন অনেকটাই আশ্বস্ত। বাংলাদেশের জনসংখ্যাগত সুবিধা আগে থেকেই ছিল, তবে সাম্প্রতিক সময়ে সুশাসনের উন্নতির কারণে প্রতিষ্ঠানটির আস্থা আরও দৃঢ় হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর আগ্রহ পেপ্যালের, তবে প্রক্রিয়ায় সময় লাগবে: লুৎফে সিদ্দিকী

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image


বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে নীতিগত আগ্রহ প্রকাশ করেছে বহুজাতিক আর্থিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান পেপ্যাল, তবে নতুন বাজারে প্রবেশের দীর্ঘ ও ধাপে ধাপে অনুসরণযোগ্য প্রক্রিয়ার কারণে তা বাস্তবায়নে সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক–বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী।

বাংলাদেশে পেপ্যালের কার্যক্রম শুরুর সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী হলেও তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির প্রবেশ ঘটছে—এমন কোনো ধারণা দেওয়া ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক–বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। তিনি বলেন, পেপ্যাল নতুন কোনো দেশে কার্যক্রম শুরু করার আগে দীর্ঘ অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে, যা সম্পন্ন হতে সময় লাগে।

মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমের সামনে তিনি এসব কথা বলেন। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ ও সেখানে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন বৈঠক নিয়ে এই ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

লুৎফে সিদ্দিকী জানান, গত সপ্তাহে দাভোসে ডব্লিউইএফ সম্মেলনের ফাঁকে পেপ্যালের সঙ্গে তার একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে নীতিগতভাবে পেপ্যাল বাংলাদেশে প্রবেশে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই আগ্রহকে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত বা দ্রুত কার্যক্রম শুরুর ইঙ্গিত হিসেবে দেখা উচিত নয়।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও পেপ্যালের মধ্যে আলোচনা বহু বছর ধরেই চলমান থাকলেও বিভিন্ন বাস্তবতা ও নীতিগত কারণে প্রতিষ্ঠানটি আগে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হতে আগ্রহ দেখায়নি। সাম্প্রতিক সময়ে তার পক্ষ থেকে কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিক যোগাযোগ ও অনুরোধের পর গত ডিসেম্বর পেপ্যালের একটি জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করে।

সফরকালে ওই প্রতিনিধিদল চার থেকে পাঁচ দিন ধরে দেশের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ তথ্যপ্রযুক্তি ও আর্থিক খাতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে বলে জানান লুৎফে সিদ্দিকী।

তিনি বলেন, ‘এই প্রথম আমি পেপ্যালের সঙ্গে সরাসরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছি। তারা আগ্রহী হলেও এখন প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া শুরু হবে।’

এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পেপ্যালের অভ্যন্তরীণ আলোচনা, বিভিন্ন পর্যায়ের পর্যালোচনা এবং পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে বলে জানান তিনি। এসব ধাপ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে পেপ্যালের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে—এমন কোনো প্রত্যাশা তৈরি করতে চায় না প্রতিষ্ঠানটি।

নিজের ব্যক্তিগত মূল্যায়নের কথা তুলে ধরে লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, পেপ্যাল বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে এখন অনেকটাই আশ্বস্ত। বাংলাদেশের জনসংখ্যাগত সুবিধা আগে থেকেই ছিল, তবে সাম্প্রতিক সময়ে সুশাসনের উন্নতির কারণে প্রতিষ্ঠানটির আস্থা আরও দৃঢ় হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ