গাজায় গণহত্যা চালিয়ে যাওয়া ইসরাইল কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এবং লেবাননভিত্তিক আল-মা'আদিন টিভি চ্যানেলকে টেলিভিশন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ইউটিউবসহ সব ধরনের মাধ্যম থেকে ব্লক করার নির্দেশ দিয়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলের দখলদার কর্তৃপক্ষ কাতারভিত্তিক আল জাজিরা ও লেবাননভিত্তিক আল-মা'আদিন টিভি চ্যানেলকে টেলিভিশন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং ইউটিউবসহ সব ধরনের মাধ্যমে ব্লক করার নির্দেশ দিয়েছে।
ইসরাইলের যোগাযোগমন্ত্রী শ্লোমো কারহি রবিবার (২৫ জানুয়ারি) এই নিষেধাজ্ঞায় স্বাক্ষর করেন। নিষেধাজ্ঞার ঘোষণাপত্রে ইসরাইলের ভেতরে আল জাজিরা ও আল-মা'আদিনের সম্প্রচার, ইউটিউব চ্যানেল এবং তাদের ইন্টারনেট সেবা প্রদান নিষিদ্ধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
কারহি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, আজ থেকে তাদের এবং আল-মা'আদিনকে ইসরাইলে ব্লক করা হবে। এমনকি ওয়েবসাইট, টেলিভিশন এবং ইউটিউবেও।
প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিবেচনা সাপেক্ষে স্যাটেলাইটের মাধ্যমেও তাদের সম্প্রচার বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, সংশোধিত একটি আইনের ভিত্তিতে নেতানিয়াহুর ইসরাইল সরকার এই সম্প্রসারিত নিষেধাজ্ঞা অনুমোদন করেছে। সংশোধিত আইনটি তাদের এই পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে।
সংশোধিত আইনের আওতায় আল জাজিরাকে ইতোপূর্বে প্রায় সম্পূর্ণভাবে ব্লক করা হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইসরাইলি দৈনিক হারেৎজ পত্রিকার মতে, এই সিদ্ধান্ত ৯০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে। পত্রিকাটি জানায়, এই পদক্ষেপ দুই বছরেরও বেশি আগে আরোপিত তথাকথিত 'আল জাজিরা আইন'-এর অধীনে আরোপিত বিধিনিষেধকে আরও সম্প্রসারিত করেছে, যা ইসরাইলের ভেতরে এই দুই চ্যানেলের সম্প্রচার নিষিদ্ধ করে।
হারেৎজ জানায়, গত মাসে নেসেট (ইসরাইলি সংসদ) একটি সংশোধনী অনুমোদন দেয়, যা রাষ্ট্রীয় জরুরি অবস্থা ঘোষিত হোক বা না হোক বিদেশি গণমাধ্যম বন্ধ করার ক্ষমতা যোগাযোগমন্ত্রীকে প্রদান করে।
আইন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী যদি নিরাপত্তা মূল্যায়নের ভিত্তিতে মনে করেন যে কোনো বিদেশি সম্প্রচারমাধ্যম রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার ক্ষতি করছে, তবে মন্ত্রিসভার অনুমোদন সাপেক্ষে যোগাযোগমন্ত্রী আদেশ জারি করতে পারবেন। এসব ব্যবস্থার মধ্যে সম্প্রচার বন্ধ, অফিস বন্ধ করা, সরঞ্জাম জব্দ এবং ওয়েবসাইট ব্লক করা অন্তর্ভুক্ত।
আল-মা'আদিনকে ইসরাইল হিজবুল্লাহ-সম্পৃক্ত বলে দাবি করে থাকে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে দখলকৃত ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে চ্যানেলটির কার্যক্রম চালানো নিষিদ্ধ করা হয়।
২০২৪ সালের মে মাসে গাজায় ইসরাইলের গণহত্যামূলক যুদ্ধের চূড়ান্ত সময়ে তেল আবিব আল জাজিরাকে কার্যক্রম চালানো থেকে বিরত রাখে। ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের প্রাণঘাতী হামলার কভারেজের কারণে এই সিদ্ধান্ত পরবর্তীতে ক্রমেই সম্প্রসারিত হয়।
উল্লেখ্য, আমেরিকার প্রত্যক্ষ মদদে গাজায় ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান গণহত্যায় ৭১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরাইল, যাদের অধিকাংশ নারী ও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন এক লাখ ৭১ হাজারের বেশি মানুষ।
সিরিয়া ও লেবাননের কিছু অংশও কয়েক দশক ধরে দখল করে রেখেছে ইসরাইল এবং নিয়মিত হামলা চালিয়ে এই দুই দেশের জনসাধারণকেও হত্যা করছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
গাজায় গণহত্যা চালিয়ে যাওয়া ইসরাইল কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরা এবং লেবাননভিত্তিক আল-মা'আদিন টিভি চ্যানেলকে টেলিভিশন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ইউটিউবসহ সব ধরনের মাধ্যম থেকে ব্লক করার নির্দেশ দিয়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলের দখলদার কর্তৃপক্ষ কাতারভিত্তিক আল জাজিরা ও লেবাননভিত্তিক আল-মা'আদিন টিভি চ্যানেলকে টেলিভিশন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং ইউটিউবসহ সব ধরনের মাধ্যমে ব্লক করার নির্দেশ দিয়েছে।
ইসরাইলের যোগাযোগমন্ত্রী শ্লোমো কারহি রবিবার (২৫ জানুয়ারি) এই নিষেধাজ্ঞায় স্বাক্ষর করেন। নিষেধাজ্ঞার ঘোষণাপত্রে ইসরাইলের ভেতরে আল জাজিরা ও আল-মা'আদিনের সম্প্রচার, ইউটিউব চ্যানেল এবং তাদের ইন্টারনেট সেবা প্রদান নিষিদ্ধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
কারহি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, আজ থেকে তাদের এবং আল-মা'আদিনকে ইসরাইলে ব্লক করা হবে। এমনকি ওয়েবসাইট, টেলিভিশন এবং ইউটিউবেও।
প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিবেচনা সাপেক্ষে স্যাটেলাইটের মাধ্যমেও তাদের সম্প্রচার বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, সংশোধিত একটি আইনের ভিত্তিতে নেতানিয়াহুর ইসরাইল সরকার এই সম্প্রসারিত নিষেধাজ্ঞা অনুমোদন করেছে। সংশোধিত আইনটি তাদের এই পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে।
সংশোধিত আইনের আওতায় আল জাজিরাকে ইতোপূর্বে প্রায় সম্পূর্ণভাবে ব্লক করা হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইসরাইলি দৈনিক হারেৎজ পত্রিকার মতে, এই সিদ্ধান্ত ৯০ দিনের জন্য কার্যকর থাকবে। পত্রিকাটি জানায়, এই পদক্ষেপ দুই বছরেরও বেশি আগে আরোপিত তথাকথিত 'আল জাজিরা আইন'-এর অধীনে আরোপিত বিধিনিষেধকে আরও সম্প্রসারিত করেছে, যা ইসরাইলের ভেতরে এই দুই চ্যানেলের সম্প্রচার নিষিদ্ধ করে।
হারেৎজ জানায়, গত মাসে নেসেট (ইসরাইলি সংসদ) একটি সংশোধনী অনুমোদন দেয়, যা রাষ্ট্রীয় জরুরি অবস্থা ঘোষিত হোক বা না হোক বিদেশি গণমাধ্যম বন্ধ করার ক্ষমতা যোগাযোগমন্ত্রীকে প্রদান করে।
আইন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী যদি নিরাপত্তা মূল্যায়নের ভিত্তিতে মনে করেন যে কোনো বিদেশি সম্প্রচারমাধ্যম রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার ক্ষতি করছে, তবে মন্ত্রিসভার অনুমোদন সাপেক্ষে যোগাযোগমন্ত্রী আদেশ জারি করতে পারবেন। এসব ব্যবস্থার মধ্যে সম্প্রচার বন্ধ, অফিস বন্ধ করা, সরঞ্জাম জব্দ এবং ওয়েবসাইট ব্লক করা অন্তর্ভুক্ত।
আল-মা'আদিনকে ইসরাইল হিজবুল্লাহ-সম্পৃক্ত বলে দাবি করে থাকে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে দখলকৃত ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে চ্যানেলটির কার্যক্রম চালানো নিষিদ্ধ করা হয়।
২০২৪ সালের মে মাসে গাজায় ইসরাইলের গণহত্যামূলক যুদ্ধের চূড়ান্ত সময়ে তেল আবিব আল জাজিরাকে কার্যক্রম চালানো থেকে বিরত রাখে। ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের প্রাণঘাতী হামলার কভারেজের কারণে এই সিদ্ধান্ত পরবর্তীতে ক্রমেই সম্প্রসারিত হয়।
উল্লেখ্য, আমেরিকার প্রত্যক্ষ মদদে গাজায় ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান গণহত্যায় ৭১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরাইল, যাদের অধিকাংশ নারী ও শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন এক লাখ ৭১ হাজারের বেশি মানুষ।
সিরিয়া ও লেবাননের কিছু অংশও কয়েক দশক ধরে দখল করে রেখেছে ইসরাইল এবং নিয়মিত হামলা চালিয়ে এই দুই দেশের জনসাধারণকেও হত্যা করছে।

আপনার মতামত লিখুন