কাতারের হামাদ বিন খলিফা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুলতান বারাকাত আল জাজিরায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলেন, ট্রাম্প–কুশনারের গাজ্জা পুনর্গঠন পরিকল্পনা মূলত একটি ‘রিয়েল এস্টেট প্রসপেক্টাস’-এর মতো, যেখানে মানবিক বাস্তবতার চেয়ে বাণিজ্যিক কল্পনাই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে।
দাভোসে ট্রাম্পের ‘বোর্ড অফ পিস’ চার্টার স্বাক্ষরের সময় গাজ্জায় সহিংসতা থামেনি। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে অন্তত ৪৮০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে চারজন নিহত হন চার্টার স্বাক্ষরের দিনই।
বারাকাত বলেন, গাজ্জাকে একটি ‘ব্লাঙ্ক ক্যানভাস’ হিসেবে দেখিয়ে সেখানে বিলাসবহুল আবাসন, বাণিজ্যিক অঞ্চল ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে গাজ্জা কোনো ব্যবসায়িক স্টার্টআপ নয়; এটি দুই কোটির কাছাকাছি মানুষের আবাসভূমি, যারা দীর্ঘদিন ধরে অবরোধ, বাস্তুচ্যুতি ও যুদ্ধের শিকার।
সমালোচনায় আরও বলা হয়, পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনিদের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। অভিজাত ফোরামে তৈরি এই নকশা বাস্তবে যাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, তাদের অংশগ্রহণ ছাড়া চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ইরাক ও আফগানিস্তানের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বারাকাত বলেন, বাইরে থেকে আরোপিত পুনর্গঠন উদ্যোগ সাধারণত টেকসই হয় না।
নিবন্ধে গাজ্জার মূল সংকট—অবরোধ, দখলদারিত্ব ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ—এ বিষয়ে পরিকল্পনার নীরবতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। লেখকের মতে, যে সামরিক কাঠামো গাজ্জাকে বারবার ধ্বংস করেছে, সেটিকে বহাল রেখে টেকসই পুনর্গঠন সম্ভব নয়।
প্রস্তাবিত নকশায় বাফার জোন, বিশেষ করিডোর ও খণ্ডিত জেলা তৈরির কথা বলা হয়েছে, যা ফিলিস্তিনিদের জীবন সহজ করার বদলে ইসরাইলি বাহিনীর নজরদারি ও সামরিক প্রবেশাধিকার বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গাজ্জার জনসংখ্যাকে দক্ষিণ দিকে সরিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিতও পরিচয় ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার জন্য হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অধ্যাপক সুলতান বারাকাতের মতে, রাজনৈতিক অধিকার, মর্যাদা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত না করে কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। এসব বিষয় উপেক্ষিত থাকলে ‘নিউ গাজ্জা’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই ব্যর্থ হবে বলে তিনি মনে করেন।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
কাতারের হামাদ বিন খলিফা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুলতান বারাকাত আল জাজিরায় প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলেন, ট্রাম্প–কুশনারের গাজ্জা পুনর্গঠন পরিকল্পনা মূলত একটি ‘রিয়েল এস্টেট প্রসপেক্টাস’-এর মতো, যেখানে মানবিক বাস্তবতার চেয়ে বাণিজ্যিক কল্পনাই বেশি প্রাধান্য পেয়েছে।
দাভোসে ট্রাম্পের ‘বোর্ড অফ পিস’ চার্টার স্বাক্ষরের সময় গাজ্জায় সহিংসতা থামেনি। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে অন্তত ৪৮০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে চারজন নিহত হন চার্টার স্বাক্ষরের দিনই।
বারাকাত বলেন, গাজ্জাকে একটি ‘ব্লাঙ্ক ক্যানভাস’ হিসেবে দেখিয়ে সেখানে বিলাসবহুল আবাসন, বাণিজ্যিক অঞ্চল ও পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে গাজ্জা কোনো ব্যবসায়িক স্টার্টআপ নয়; এটি দুই কোটির কাছাকাছি মানুষের আবাসভূমি, যারা দীর্ঘদিন ধরে অবরোধ, বাস্তুচ্যুতি ও যুদ্ধের শিকার।
সমালোচনায় আরও বলা হয়, পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনিদের কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। অভিজাত ফোরামে তৈরি এই নকশা বাস্তবে যাদের ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে, তাদের অংশগ্রহণ ছাড়া চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ইরাক ও আফগানিস্তানের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বারাকাত বলেন, বাইরে থেকে আরোপিত পুনর্গঠন উদ্যোগ সাধারণত টেকসই হয় না।
নিবন্ধে গাজ্জার মূল সংকট—অবরোধ, দখলদারিত্ব ও সামরিক নিয়ন্ত্রণ—এ বিষয়ে পরিকল্পনার নীরবতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। লেখকের মতে, যে সামরিক কাঠামো গাজ্জাকে বারবার ধ্বংস করেছে, সেটিকে বহাল রেখে টেকসই পুনর্গঠন সম্ভব নয়।
প্রস্তাবিত নকশায় বাফার জোন, বিশেষ করিডোর ও খণ্ডিত জেলা তৈরির কথা বলা হয়েছে, যা ফিলিস্তিনিদের জীবন সহজ করার বদলে ইসরাইলি বাহিনীর নজরদারি ও সামরিক প্রবেশাধিকার বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গাজ্জার জনসংখ্যাকে দক্ষিণ দিকে সরিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিতও পরিচয় ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার জন্য হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অধ্যাপক সুলতান বারাকাতের মতে, রাজনৈতিক অধিকার, মর্যাদা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত না করে কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। এসব বিষয় উপেক্ষিত থাকলে ‘নিউ গাজ্জা’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই ব্যর্থ হবে বলে তিনি মনে করেন।

আপনার মতামত লিখুন