ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

পশ্চিমবঙ্গে নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব, স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব, স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি


চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের বারাসা ও কলকাতা সংলগ্ন এলাকায় পাঁচজনের শরীরে নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে এক গুরুতর অসুস্থ রোগীর সেবা দিতে গিয়ে দুই নার্স প্রথম আক্রান্ত হন। পুরুষ নার্সের অবস্থা স্থিতিশীল হলেও নারী নার্সের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের আইসিইউতে রাখা হয়েছে।

পরে একই হাসপাতালের আরও তিনজন একজন চিকিৎসক, একজন নার্স ও একজন স্বাস্থ্যকর্মী নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হন। এদের সবাইকে কলকাতার বেলেঘাটা সংক্রামক রোগ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। সংক্রমণের প্রাথমিক উৎস হিসেবে মৃত রোগীকে ‘ইন্ডেক্স কেস’ হিসেবে ধরে তদন্ত চলছে।

রাজ্য সরকার আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা প্রায় ১০০ জনকে কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থা করেছে। এ পর্যন্ত ১৮০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ২০ জনের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। নিপাহ ভাইরাসের ইনকিউবেশন পিরিয়ড ৪–১৪ দিন হলেও কখনো ৪৫ দিন পর্যন্ত হতে পারে, তাই কোয়ারেন্টিন শেষে পুনঃপরীক্ষা করা হবে।

ভারতের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় সব রাজ্যে সতর্কতা জারি করেছে। বিশেষ করে তামিলনাডুতে অ্যাকিউট এনসেফালাইটিস সিনড্রোমে আক্রান্ত রোগীদের নিপাহ সংক্রমণের সম্ভাবনা বিবেচনায় পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিপাহ ভাইরাস ফলভুক বাদুড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। সংক্রমিত প্রাণীর সংস্পর্শ, দূষিত খাবার গ্রহণ বা আক্রান্ত মানুষের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে ভাইরাস ছড়াতে পারে। ১৯৯৮–৯৯ সালে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে প্রথম বড় প্রাদুর্ভাবের পর WHO এটিকে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ভাইরাস হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

সংক্রমিত হলে শুরুতে জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরব্যথা, ক্লান্তি, গলাব্যথা ও কাশি দেখা দেয়। দ্রুত শ্বাসকষ্ট ও এনসেফালাইটিসে রূপ নিলে খিঁচুনি, বিভ্রান্তি, অচেতনতা ও কোমার মতো জটিলতা দেখা দেয়। মৃত্যুহার ৪০–৭৫ শতাংশ। এখনও নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা বা টিকা নেই; চিকিৎসা মূলত উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ ও সহায়ক ব্যবস্থায় সীমিত।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন বাদুড় বা সংক্রমিত প্রাণীর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা, বাদুড়ে লাগা ফল না খাওয়া, ফল ভালোভাবে ধোয়া বা খোসা ছাড়িয়ে খাওয়া, খেজুরের রস ফুটিয়ে খাওয়া এবং আক্রান্তদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা। নিয়মিত হাত ধোয়া ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাও জরুরি।

পশ্চিমবঙ্গে নিপাহ ভাইরাস নতুন নয়। ২০০১ সাল থেকে একাধিকবার প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে, বিশেষ করে কেরালা ও পশ্চিমবঙ্গ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, প্রাথমিক শনাক্তকরণ, আইসোলেশন ও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


পশ্চিমবঙ্গে নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব, স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি

প্রকাশের তারিখ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image


চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের বারাসা ও কলকাতা সংলগ্ন এলাকায় পাঁচজনের শরীরে নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে এক গুরুতর অসুস্থ রোগীর সেবা দিতে গিয়ে দুই নার্স প্রথম আক্রান্ত হন। পুরুষ নার্সের অবস্থা স্থিতিশীল হলেও নারী নার্সের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের আইসিইউতে রাখা হয়েছে।

পরে একই হাসপাতালের আরও তিনজন একজন চিকিৎসক, একজন নার্স ও একজন স্বাস্থ্যকর্মী নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হন। এদের সবাইকে কলকাতার বেলেঘাটা সংক্রামক রোগ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। সংক্রমণের প্রাথমিক উৎস হিসেবে মৃত রোগীকে ‘ইন্ডেক্স কেস’ হিসেবে ধরে তদন্ত চলছে।

রাজ্য সরকার আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা প্রায় ১০০ জনকে কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থা করেছে। এ পর্যন্ত ১৮০ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ২০ জনের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। নিপাহ ভাইরাসের ইনকিউবেশন পিরিয়ড ৪–১৪ দিন হলেও কখনো ৪৫ দিন পর্যন্ত হতে পারে, তাই কোয়ারেন্টিন শেষে পুনঃপরীক্ষা করা হবে।

ভারতের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় সব রাজ্যে সতর্কতা জারি করেছে। বিশেষ করে তামিলনাডুতে অ্যাকিউট এনসেফালাইটিস সিনড্রোমে আক্রান্ত রোগীদের নিপাহ সংক্রমণের সম্ভাবনা বিবেচনায় পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিপাহ ভাইরাস ফলভুক বাদুড়ের মাধ্যমে ছড়ায়। সংক্রমিত প্রাণীর সংস্পর্শ, দূষিত খাবার গ্রহণ বা আক্রান্ত মানুষের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে ভাইরাস ছড়াতে পারে। ১৯৯৮–৯৯ সালে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে প্রথম বড় প্রাদুর্ভাবের পর WHO এটিকে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ভাইরাস হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

সংক্রমিত হলে শুরুতে জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরব্যথা, ক্লান্তি, গলাব্যথা ও কাশি দেখা দেয়। দ্রুত শ্বাসকষ্ট ও এনসেফালাইটিসে রূপ নিলে খিঁচুনি, বিভ্রান্তি, অচেতনতা ও কোমার মতো জটিলতা দেখা দেয়। মৃত্যুহার ৪০–৭৫ শতাংশ। এখনও নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা বা টিকা নেই; চিকিৎসা মূলত উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ ও সহায়ক ব্যবস্থায় সীমিত।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন বাদুড় বা সংক্রমিত প্রাণীর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা, বাদুড়ে লাগা ফল না খাওয়া, ফল ভালোভাবে ধোয়া বা খোসা ছাড়িয়ে খাওয়া, খেজুরের রস ফুটিয়ে খাওয়া এবং আক্রান্তদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা। নিয়মিত হাত ধোয়া ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাও জরুরি।

পশ্চিমবঙ্গে নিপাহ ভাইরাস নতুন নয়। ২০০১ সাল থেকে একাধিকবার প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে, বিশেষ করে কেরালা ও পশ্চিমবঙ্গ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, প্রাথমিক শনাক্তকরণ, আইসোলেশন ও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ